দুই বন্ধু—রাশেদ আর কামাল—ঢাকার বাইরে ঘুরতে গেছে। হঠাৎ রাস্তায় এমন ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলো যে গাড়ি চালানো একেবারে অসম্ভব হয়ে গেল। আশেপাশে কোনো হোটেল না পেয়ে তারা রাস্তার পাশে একটা বড়সড় পুরোনো বাংলো বাড়িতে গিয়ে নক করল।
দরজা খুললেন এক সুন্দরী ভদ্রমহিলা। তারা সমস্যার কথা বলে একরাত থাকার অনুরোধ করল। মহিলা একটু ইতস্তত করে বললেন,
দেখুন, আমি বিধবা মানুষ, একা থাকি। আপনারা দুইজন যুবক ছেলে—এই রাতে যদি আমার বাড়িতে থাকেন, পাড়া-প্রতিবেশী নানারকম কথা বলবে। এটা কি ঠিক হবে?
রাশেদ তখন হেসে বলল,
“আপনি একদম চিন্তা করবেন না আপা। আমরা আপনার মূল ঘরে থাকবই না। ওই যে আস্তাবলটা আছে, আমরা ওখানেই রাতটা কাটিয়ে দেব। ভোর হতেই চলে যাব।”
মহিলা রাজি হলেন। তারা সারা রাত আস্তাবলে কাটাল এবং ভোরে চুপচাপ চলে গেল।
প্রায় নয় মাস পরে—
হঠাৎ রাশেদের কাছে এক উকিলের চিঠি এল। মাথা চুলকাতে চুলকাতে তার মনে পড়ল—এই উকিল তো সেই বাড়ির মহিলার!
সে দৌড়ে গেল কামালের কাছে।
রাশেদ: এই কামাল, তোর কি সেই নয় মাস আগের বিধবা মহিলার কথা মনে আছে? ঝড়ের রাতে যার বাড়িতে ছিলাম?
কামাল (একটু অপ্রস্তুত): হ্যাঁ… কেন?
রাশেদ: সত্যি করে বল—তুই কি সেই রাতে আস্তাবল থেকে চুপিচুপি বের হয়ে মূল বাড়িতে গিয়েছিলি?
কামাল (লজ্জায় লাল): দোস্ত… হ্যাঁ, গিয়েছিলাম। ভুল হয়ে গেছে।
রাশেদ: আর যাওয়ার সময় নিজের নামের বদলে আমার নাম বলেছিলি?
কামাল (মাথা নিচু করে): দোস্ত, সরি! একটু দুষ্টুমি করতে গিয়ে তোর নাম বলে দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ এসব কেন জিজ্ঞেস করছিস? কোনো ঝামেলা নাকি?
রাশেদ হালকা হাসি দিয়ে বলল—
ঝামেলা না রে বোকা… মহিলা মারা গেছেন… আর তাঁর সব সম্পত্তি আমার নামে লিখে দিয়ে গেছেন!



পাঠকের মন্তব্য