লোডশেডিং-এ চিন্তিত না হওয়ার আহবান, সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে দেয়া হবে হাতপাখা

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে

২০২৬ সালের এই ঝলসানো এপ্রিলে যখন তাপমাত্রার পারদ ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই, তখন একদল স্বার্থান্বেষী মহল লোডশেডিং নিয়ে অহেতুক গুজব ছড়াচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানানো হয়েছে যে, বিদ্যুৎ যাচ্ছে না—বরং বিদ্যুৎ তার আভিজাত্য বজায় রাখতে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিচ্ছে। 

তীব্র তাপদাহে জনগণের নাভিশ্বাস উঠলেও সরকার বিষয়টিকে দেখছে ইতিবাচক ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে। সরকারের একজন মুখপাত্র আজ বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানান, আমরা চাই জনগণ মাটির কাছাকাছি আসুক। বিদ্যুৎ চমকানো বন্ধ হলে মানুষ অন্তত আকাশের তারা দেখার সুযোগ পাচ্ছে, যা ডিজিটাল যুগে আমরা ভুলতে বসেছিলাম।

লোডশেডিং ও গরম নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর করতে সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। জানা গেছে, খুব শীঘ্রই প্রতিটি পরিবারকে সরকারি খরচে একটি করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বাঁশের হাতপাখা প্রদান করা হবে। 

প্রকল্পটির বিশেষ দিকসমূহ:

জিরো কার্বন এমিশন: এই পাখা চালাতে কোনো ফার্নেস অয়েল বা গ্যাসের প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ জ্বালানি সংকটের কোনো বালাই নেই।

শারীরিক ব্যায়াম: পাখা নাড়ানোর ফলে জনগণের হাতের পেশি মজবুত হবে, যা জিম যাওয়ার খরচ বাঁচাবে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা: এসএসসি পরীক্ষার্থীরা মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিলে তাদের একাগ্রতা বাড়বে। এছাড়া গরমে ঘামলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যায়, যা পরীক্ষার্থীদের মস্তিষ্ক শীতল রাখতে সাহায্য করবে বলে দাবি করা হয়েছে।

অর্ধশতাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি কোনো সংকট নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী যান্ত্রিক ধ্যান। মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো একটানা চলতে চলতে হাঁপিয়ে উঠেছিল। তাদেরও তো ব্যক্তিগত জীবনের দরকার আছে। তাই তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। দুই হাজার মেগাবাইট ঘাটতি মানে হলো আমরা প্রকৃতিকে দুই হাজার মেগাবাইট কার্বন থেকে মুক্তি দিচ্ছি।

শিল্প এলাকাগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে জানানো হয়েছে। কারখানায় বিদ্যুৎ না থাকলে শ্রমিকরা ঘাম ঝরিয়ে কাজ করবেন, যা প্রকৃত মেহনতি মানুষের পরিচয় দেবে। 

এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, লোডশেডিং আসলে একটি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার। আপনি যদি মনে করেন অন্ধকার, তবেই অন্ধকার। আর যদি মনে করেন এটি চাঁদনী রাতের মহড়া, তবে আপনি সুখী।

সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে, হাতপাখা প্রকল্পের পাশাপাশি জনগণকে শীতলপাটি ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। সুতরাং, এসি বা ফ্যানের মোহ ত্যাগ করে হাতপাখার মায়ায় জড়ানোর এটাই মোক্ষম সময়। সরকার মনে করিয়ে দিচ্ছে— বিদ্যুৎ তো আজ আছে কাল নেই, কিন্তু আপনার হাতের কবজির জোর চিরকাল থাকবে। 

তাই বিভ্রান্ত হবেন না, হাতপাখা নাড়ুন আর ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রাকৃতিক হাওয়া উপভোগ করুন।

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে

Top