কোরবানির মাংস বণ্টনকে কেন্দ্র করে দেশের ড্রয়িংরুম ও উঠানগুলোতে সৃষ্ট তীব্র উত্তেজনা নিরসনে অবিলম্বে নীল হেলমেটধারী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী (UN Peacekeeping Operations) মোতায়েনের জোরালো দাবি জানিয়েছে সাধারণ জনগণ। প্রতিবছর মাংস কাটার পর কলিজা, মগজ, জিহ্বা আর রানের সুস্বাদু অংশ নিয়ে শরিক ও ভাইবোনদের মধ্যে যে রণক্ষেত্র তৈরি হয়, তা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সালিশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ৭ শরিকের যৌথ কোরবানিতে মাংসের স্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে চাপাতি-ছুরি হাতে একে অপরের ওপর হাড় ও চর্বি বেশি দেওয়ার যে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়, তা ঠেকাতে এখন আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না ভুক্তভোগীরা। এই বণ্টনকালীন সংঘাতকে গৃহযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজ দাবি তুলেছে, মাংসের প্রতিটি ভাগের ওপর যেন অবিলম্বে জাতিসংঘের বাফার জোন নীতি কার্যকর করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁজরের মাংস বা সিনা বণ্টনের সময় শরিকদের পারস্পরিক সন্দেহ ও ডিজিটাল স্কেলের ওপর ঘনঘন ভেটো দেওয়ার প্রবণতা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের দ্বিপাক্ষিক জটিলতাকেও হার মানায়। এক পক্ষ সুকৌশলে সব চাকা মাংস নিজের গামলায় তুলে নিয়ে অন্য পক্ষকে কেবল ভুড়ি ও শক্ত নাড়িভুঁড়ি ধরিয়ে দিলে পরিস্থিতি দ্রুত মানবিক বিপর্যয়ের দিকে মোড় নেয়। এই চরম বৈষম্য দূর করতে এবং বণ্টন প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি বাড়ির উঠানে অস্ত্র জমা নেওয়ার মতো করে মাংসের ভাগ নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ ব্লু হেলমেটধারী সেনাদের টহল এখন সময়ের দাবি। মাংস ভাগাভাগির এই বৈশ্বিক সংকটে যদি দ্রুত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা না হয়, তবে পাড়ায় পাড়ায় ফ্রিজের দখল নেওয়া এবং 'মাংস পাচার' সংক্রান্ত সীমান্ত সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


