পবিত্র ঈদুল আজহার টানা তিন দিন ধরে পরিবারের অন্য সদস্যদের সকাল, দুপুর, বিকেল ও রাতে একটানা অবলীলায় গরুর মাংস ধ্বংস করা দেখে তীব্র মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপে পড়েছেন এক ডায়েট করা যুবক। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ঈদের প্রথম দিন থেকেই নিজের ওজনের কাঁটাকে বাগে রাখতে ওই যুবক প্লেটে মেপে মেপে শসা, লেবু এবং চর্বিহীন লিন-কাট মাংসের দুই-একটি টুকরো মুখে তুলছিলেন। তবে আজ ঈদের তৃতীয় দিনে এসে তার এই কঠোর আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মানসিক শক্তি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। নিজের চোখের সামনে পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে প্লেটভর্তি চর্বিযুক্ত মাটন লেগ রোস্ট, গরুর চাকা চাকা নেহারি এবং তেলের ওপর ভাসতে থাকা কড়া ভুনার ওপর অবিরাম হামলে পড়তে দেখে ওই যুবকের ভেতরে এক চরম অস্তিত্ব সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে তার ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করেছে।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, আজ দুপুরে যখন ডাইনিং টেবিলে ধোঁয়া ওঠা গরুর মাংসের তেহারির গামলা আনা হয়, তখন ওই যুবক নিজের ওজনের স্কেলটির কথা মনে করে সশব্দে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। ঠিক তখনই এক আত্মীয় তার প্লেটের দিকে তাকিয়ে ঈদের দিনে ডায়েট কিসের, একটু খা, কাল থেকে আবার করিস বলে এক হাতা তেল-মসলাযুক্ত মাংস জোরপূর্বক তুলে দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। এই সামাজিক চাপ এবং চারপাশের তীব্র মাংসের ঘ্রাণে যুবকের শরীরে এক ধরনের হাইপার-ক্যালোরিক ফোমো (FOMO) বা মাংস হাতছাড়া হওয়ার ভয় তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের একাংশ বলছেন, সালাদ চিবানোর সময় পাশের জনের দাঁতে গরুর চর্বি কাটার কড়মড় শব্দ শুনলে যে কোনো কঠোর ডায়েটারেরই কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন হু হু করে বেড়ে যেতে পারে।
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ফ্রিজভর্তি মাংসের এই অন্তহীন মজুদ এবং আরও অন্তত এক সপ্তাহ ঘরে ঘরে এই মাংস উৎসব চলার নির্মম বাস্তবতা উপলব্ধি করে ওই যুবক বর্তমানে চরম হতাশায় ভুগছেন। বাথরুমে গিয়ে গোপনে নিজের মেদহীন পেটের দিকে তাকিয়ে সান্ত্বনা খোঁজার চেষ্টা করলেও, বসার ঘর থেকে ভেসে আসা কোল্ড ড্রিংকসের ক্যান খোলার ফিসস শব্দ তার সেই মানসিক প্রতিরোধকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের আশঙ্কা, এই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ যদি আর দুই দিন জারি থাকে, তবে ওজন কমানোর বিগত তিন মাসের সমস্ত প্রগ্রেস ও চিট ডে-র নিয়মকানুন জলাঞ্জলি দিয়ে ওই যুবক আজ রাতেই ফ্রিজ খুলে একাই আধা পাতিল বাসী মাংসের ভুনা সাবাড় করে দিতে পারেন।


