গত বছরের মতো এবারও কাস্টমারদের মারধর করে ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন স্টার কাবাবের কর্মচারীরা। কাস্টমার মারাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এই কর্মচারীদের নিয়ে অন্যরা সমালোচনা করলেও বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন পলাতক ছাত্রলীগ নেতারা। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় নিয়মিত অন্যদের মারধর করতে পারলেও সরকার পতনের পর এখন বেশ অলস সময় কাটছে তাদের। তাই নিজেদের পুরোনো স্কিল কাজে লাগানোর জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র হিসেবে স্টার কাবাবকে বেছে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তারা।
এক পলাতক ছাত্রলীগ নেতা গোপন গর্ত থেকে আমাদের বলেন, স্টার কাবাবের কর্মচারীদের মাইরের স্টাইল দেখে বেশ নস্টালজিক হয়ে গেলাম। এক সময় আমরাও চেয়ার-টেবিল দিয়ে মানুষ পেটাতাম। এখন সেই স্কিলগুলো ব্যবহার করার সুযোগ পাই না। তাই ভাবছি স্টার কাবাবে একটা পার্ট-টাইম চাকরি নিলে কেমন হয়। তিনি আরও বলেন, এটা শুধু চাকরি না, এক ধরনের প্যাশনও। আমরা চাই মারধরের এই শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে।
এদিকে মাতৃভূমি ভারত থেকে ভিডিও কলে আরেক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, স্টার কাবাবের কর্মচারীদের চেষ্টা প্রশংসনীয় হলেও এখনও অনেক উন্নতির সুযোগ আছে। ওদের মাইরের টেকনিক মোটামুটি ঠিক আছে, কিন্তু আরও প্রফেশনাল হতে হবে। আমাদের নিয়োগ দিলে আমরা কাস্টমার পেটানোর ওপর বিশেষ ট্রেনিং দিতে পারি। ইতোমধ্যে ‘মাইরের উপর ওষুধ নাই’ শীর্ষক একটি কর্মশালার পরিকল্পনাও করেছি।
এদিকে স্টার কাবাব কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ নেতাদের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তাদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে নিয়োগ দেওয়া হলে ওয়েটাররা মাথায় হেলমেট পরে এবং হাতে হাতুড়ি নিয়ে কাস্টমার সার্ভ করবেন কিনা সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রেস্টুরেন্টের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা সবসময় গ্রাহকসেবার মান উন্নত করতে চাই। ছাত্রলীগ নেতাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগলে হয়তো ‘মারধর-সহ কাস্টমার সার্ভিস’-এ নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।


