আসন্ন ১৩ তম জাতীয় নির্বাচনে জমাকৃত মনোনয়নপত্র ২৫৬৮, এর মধ্যে মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ নারী প্রার্থী। এত কম সংখ্যক নারী প্রার্থী থাকার কারণ কী কী হতে পারে তা খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছি আমরা।
১# বর্তমানে নারী-পুরুষ সংখ্যার অনুপাত ৯৬.৭:১০০। পিছিয়ে পড়া পুরুষগোষ্ঠীর প্রতি জাতির কোনো আবেগ নেই। কেউ দুশ্চিন্তা করছে না এই ক্রমহ্রাসমান পুরুষ সংখ্যার ব্যাপারে। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাই পিছিয়ে পড়া পুরুষ সংখ্যায় ফোকাস করতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তাদের সংখ্যাধিক্যের প্রতি। অন্তত বিশ্ববাসী জানুক, বাংলাদেশে পুরুষরা আর অবহেলিত নয়।
২# ফাল্গুন মাসে ভালোবাসা দিবসের মাত্র দু'দিন আগে নির্বাচন। নির্বাচনের শুধু প্রার্থী হলেই তো আর হয়না, তাকে ঘুরতে হয় মাঠে-ঘাটে, চালাতে হয় নির্বাচনী প্রচারণা। বাইরে ঘুরে ঘুরে চেহারায় নষ্ট হতে পারে লাবণ্য। ১৪ তারিখে নারীদের এই সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ যাতে থাকে তাই দলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে নারীদের বিশ্রাম দিয়েছে, রূপচর্চা করার সুযোগ করে দিয়েছে।
৩# দলগুলো নারী প্রার্থী মুখ্য নয়, নারী ভোটার হলে ভালো হয়-নীতিতে বিশ্বাস করে। এজন্য যেসব দলে একজনও নারী প্রার্থী নেই , বিকল্প হিসেবে সেসব দলে রয়েছে নারী ভোটার। ভুলে গেলে চলবে না, অংশগ্রহণ করাটাই মুখ্য।
৪# বাসায় বসে সিরিয়াল দেখা যাতে মিস না হয়, সে ব্যাপারটাও বিবেচনায় রেখে নারী প্রার্থীর সংখ্যা সামান্য করা হয়েছে। সারাদিন ঘরে-বাইরে কাজ করে মা-বোনেরা যদি একটু সিরিয়ালই দেখতে না পারে , তবে রাজনৈতিক দলগুলো কোথায় মুখ দেখাবে!
৫# বিগত সময়ে বারবার দেখা গেছে নারী বিষয়ক যেকোনো সভাতে পুরুষদের উপস্থিতি প্রায় ৯৯ শতাংশ।
নারীদের জন্য উৎসর্গকৃত এমন পুরুষ জাতি যে দেশে আছে , সে দেশে নির্বাচনে শতভাগই পুরুষ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতাই কাম্য।
৬# এদেশের নারীরাও মহানুভব। ‘তুমি জিতলেই জিতে যাই আমি’- মূলনীতি ধারণ করা এ নারীরা এত বড় মনের যে কোন চাপ প্রয়োগ ছাড়াই মন থেকে স্বেচ্ছায় হাসিমুখে পদ ছেড়ে তো দেয়ই আবার দলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অঙ্গীকারও করে। এমন আন্তরিকতা দেখলে চোখে সত্যিই পানি চলে আসে নবিতা।
৭# নারীদের নিয়ে জুম উঠানো, দাঁত খিচানো ভালো থিম সং এর সম্ভাব্য অভাব নারী প্রার্থী কমে যাওয়ায় কারণ।
৮# দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং আবহাওয়াও নারী প্রার্থী কম হবার জন্য অনেকাংশে দায়ী। গ্রীষ্মকালে তীব্র দাবদাহ, শীতে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, হঠাৎ হঠাৎ ভূকম্পনের জন্য নারীদের দায় রয়েছে বলে মনে করে কর্তৃপক্ষরা। তাই দেশের আবহাওয়া সমুন্নত রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করতেই এই উদ্যোগ।



পাঠকের মন্তব্য