দুষ্টুদের দুষ্টুচক্র

১২০ পঠিত ... ১৭:০৩, জানুয়ারি ১৭, ২০২৬

লেখা: জিহাদ শেখ

বরকত মিঁঞার ষাঁড় গরু গতকাল হারিয়ে গেছে। আশেপাশের দশ গ্রাম খোঁজা হয়ে গেছে, কিন্তু গরু পাওয়া যায় নাই। আজ সকালে সবাই যখন গ্রামে গ্রামে গরু খুঁজছিল, তখন গ্রামের বাজারে চুন্নু কসাই বিশাল একটি গরু জবাই দিয়ে মাংস বিক্রি করতে শুরু করে।

দুই-একজন চুন্নুর জবাই করা গরুর মাথার সাথে বরকত মিঁঞার গরুর মিল খুঁজে পেলেও কেউ এটা নিয়ে মাথা ঘামাল না। কেননা গরুর মাথা ও গায়ের রঙ একরকম হতেই পারে। তাছাড়া চুন্নু মিঁঞার নামে এমন অপবাদ দেওয়ার সাহস কারও নেই। লোকটি যেমন গায়ে-গতরে অনেক বিশাল তেমনি মেজাজে একগুঁয়ে। এমন অপবাদ দিলে হয়তো চুন্নু তার কাছে গরুর গোসত বিক্রি করা বন্ধ করবে। বাজারে একটাই কসাই। আবার চুন্নুর জুতার দোকানও আছে। গরু জবাইয়ের পর গরুর চামড়া দিয়ে সে নিজেই জুতা তৈরি করে৷ সেটাও বেশ রমরমা ব্যবসা করছে।

তিনদিন পর চুন্নু কসাই অবাক করে দিয়ে বরকত মিঁঞার জন্য একজোড়া জুতা এনেছে। জুতাটা দেখতে অনেক সুন্দর। ওদিকে বরকত মিঁঞা গরু হারানোর শোকটা কাটিয়ে উঠছিলো। জুতাটা পেয়ে যেন তার মনটা আরও ভালো হয়ে গেল। অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল এমন জুতা কেনার। ভেবেও রেখেছিল গরুটা বিক্রির লাভের টাকায় এমন জুতা কিনবে। কিন্তু চুন্নু কসাই বরকত মিঁঞার কষ্ট দেখে তাকে জুতা জোড়া উপহার দিল।

বরকত মিঁঞা জুতা জোড়া পায়ে দিয়ে অনেক সুখবোধ করল। হাঁটতে এখন আর কষ্ট হবে না। প্রতিবেশী এসে বলল, লোকজন তো বলছে চুন্নু কসাই তোমার গরু মেরে তোমাকেই জুতা উপহার দিয়েছে। বরকত মিঁঞার মনটা খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু জুতা জোড়ার দিকে তাকিয়ে তার মনটা আনন্দে ভরে উঠে। ক্ষেত থেকে গঞ্জে এখন আরামেই হেঁটে যাওয়া যায়। পা আর ব্যথা করে না।

বরকত মিঁঞা ভাবে, এত্ত সুন্দর করে যে জুতা তৈরি করতে পারে, সে কি কখনও গরু চুরি করবে? তার তো অনেক টাকা। লোকজনও তার পায়ের জুতা দেখে প্রশংসা করে ও চুন্নুর জয়গান গায়। এত বড় হৃদয় চুন্নু কসাইয়ের, নতুন একজোড়া জুতা বরকত মিঁঞাকে উপহার দিয়েছে। ভাবা যায়?

দুই সপ্তাহ পার হলো, গরু হারানোর দুঃখ-শোক একদম ভুলে গেছে বরকত মিঁঞা। অনেকে তো বলে গরু হারিয়ে বরকতের ভালোই হয়েছে, সে এখন মাঠে বেশি কাজ করার সময় পায়। গঞ্জে গিয়ে সওদা করে, আড্ডা দেয়। গরুকে খাওয়ানো, গোসল করানো ও চিকিৎসায় অনেক টাকা যেত বরকতের, এখন কত্ত টাকা বেঁচে যাচ্ছে তার। তাছাড়া ছিলো ষাঁড় গরু, দুধও দিতে না। লোকসান আর লোকসান। হাল চাষ করে আর কত আয় হতো?

এক মাস হতে চললো। গোয়াল ঘরের দিকে তাকিয়ে বরকত মিঁঞা ভাবে, আদৌও কি তার কখনো গরু ছিল?  গোয়াল ঘরটা ভেঙে মুরগীর ঘর করবে। গরু আর কিনবে না, গরু পালন করা অনেক লোকসানের। তার চেয়ে মুরগী পালবে আর প্রতি হাটে-গঞ্জে গিয়ে সওদা করবে। এদিকে এই খবর শুনে মুরগী কবির ইদানিং বরকত মিঁঞার সাথে খুবই দহরম মহরম শুরু করেছে। গুজব আছে, ডিম ব্যবসায়ী মুরগী কবির যাদের মুরগী হারিয়ে যায়, তাদেরকে সে ডিম উপহার দেয়।  

দুই মাস পর বরকত মিঁঞা মুরগীর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে। তার এবার কপাল খুলেছে। ১০টা মুরগী থেকে এখন আরও ২০টি বাচ্চা হয়েছে। যেদিন থেকে সে নতুন জুতা জোড়া পরতে শুরু করেছে, সেদিন থেকেই তার কপাল খুলতে শুরু করেছে।

হঠাৎ মুরগী কবির এসে জিজ্ঞেস করলো, কী করো মিঞা?  মুরগী গোনো? মুরগী গুনতে হয় না। মুরগী গুনলে সেটা বাড়ে না।

কথাগুলো বলার সময় একটা মোরগ ডেকে উঠলো। মুরগী কবিরের মুখে হাসি ফুটে উঠলো। আগামীকাল তার মেয়েকে দেখতে আসবে ছেলেপক্ষ। সেজন্য সে মুরগী দেখতে আসছে।

 

১২০ পঠিত ... ১৭:০৩, জানুয়ারি ১৭, ২০২৬

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top