লেখা: ইশতিয়াক আহমেদ শোভন
আগামীকাল সারাদেশে সাধারণ নির্বাচন। যখন কোটি কোটি টাকা খরচ করে ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, তখন দেশের একদল 'ডিজিটাল বোদ্ধা' ও 'ফেসবুক বিশেষজ্ঞ' দাবি তুলেছেন: এই আদিম পদ্ধতির নির্বাচনের আর কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের মতে, নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল সরাসরি ফেসবুক পোলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক 'আল বটর' আক্ষেপ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন শুধু শুধু জনগণের টাকা নষ্ট করছে। আমরা একটা ফেসবুক পোল দিলেই তো ফলাফল পেয়ে যেতাম। আমাদের যে পরিমাণ 'ওসমান হাদী' প্রোফাইল পিকচারওয়ালা আইডি আছে, তাতে কেবল বাংলাদেশ নয়, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া আর ফিলিপাইন থেকেও ভোটের জোয়ার আসত। হাজার হোক, বটও তো মানুষ (ডিজিটাল মানুষ)!
গত কয়েক মাস ধরে দেখা যাচ্ছে, দেশের যেকোনো ফেসবুক জরিপে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করছে। যেখানে সাধারণ মানুষ একটি কমেন্ট করতে ১০ বার চিন্তা করে, সেখানে এই ডিজিটাল বাহিনী চোখের পলকে হাজার হাজার ভোট দিয়ে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার চেয়ে ঘরে বসে প্রক্সি সার্ভার আর ভিপিএন ব্যবহার করে ভোট দেওয়াকেই বেশি 'গণতান্ত্রিক' মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলেকশন কমিশন যদি ফেসবুকের সাথে চুক্তি করত, তবে ভোটারদের আর লাইনে দাঁড়াতে হতো না। স্ক্রিপ্ট চালিয়ে দিলেই দেখা যেত দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি ভোট কাস্ট হয়ে গেছে। আর ভিনদেশি আইপি অ্যাড্রেস থেকে আসা ভোটগুলো ‘প্রবাসী ভোট’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যেত অনায়াসেই।
এই বট বাহিনীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তাদের 'সক্রিয়তা'। তারা শুধু ভোট দিয়েই ক্ষান্ত হয় না, কেউ যদি এই অনলাইন জরিপের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তবে তাকে 'ডিজিটাল গণপিটুনি' (গালিগালাজ ও আক্রমণাত্মক কমেন্ট) দিয়ে ইন্টারনেটে কোণঠাসা করে ফেলা হয়। একে নেটিজনরা বলছেন ‘ভার্চুয়াল গণতন্ত্রের নতুন রূপ’ যেখানে যুক্তি নয়, গালির সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়।
প্রতিবেদনটি তৈরি করার সময় নাম এক তরুন বট বলেন, সরকার কেন কোটি কোটি টাকা খরচ করছে? এক হাজার টাকা দিয়ে কয়েক হাজার ফেক আইডি কিনলেই তো হতো। এতে প্রার্থীর জনপ্রিয়তাও বোঝা যেত, আবার বিদেশি বটের কল্যাণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভোটের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ত!
অনেক বিশেষজ্ঞ অবশ্য বলছেন, যদি সত্যিই ফেসবুক পোলে নির্বাচন হতো, তবে ফলাফল যা দাঁড়াত তাতে দেখা যেত বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৮ কোটি হলেও ভোট পড়েছে ২৫ কোটি, যার মধ্যে ১০ কোটি ভোটই এসেছে হো চি মিন সিটি কিংবা ম্যানিলা থেকে।


