বগুড়া জেলার নাম পরিবর্তন করে ‘শাহে আলম নগর’ রাখার দাবি বগুড়াবাসীর

৪০ পঠিত ... ১৫ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে

নতুন ইউনিয়ন গঠন ও নামকরণ নিয়ে দেশজুড়ে চলমান অলৌকিক কাকতালীয় আলোড়নের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার স্বয়ং বগুড়া জেলার নাম পরিবর্তনের এক স্বতঃস্ফূর্ত ও অভূতপূর্ব দাবি উঠেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অনন্য প্রশাসনিক দূরদর্শিতা এবং তাঁর পরিবারের প্রতি প্রকৃতির এই মহাজাগতিক ও অলৌকিক পক্ষপাতিত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে ঐতিহাসিক বগুড়া জেলার নাম পরিবর্তন করে ‘শাহে আলম নগর’ রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন জেলার সর্বস্তরের তথা কথিত আমজনতা।

সাম্প্রতিক এক প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপনে দেখা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর নিজ এলাকায় গঠিত নতুন তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে যথাক্রমে মীরবাড়ী, সীমান্ত এবং দিগন্ত। যদিও বিরোধীরা এবং কিছু কুচক্রী মহল অভিযোগ তুলছেন যে মন্ত্রী মহোদয় নিজের পৈতৃক বংশ এবং দুই পুত্র, মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামানুসারে এই নামকরণ করেছেন। তবে গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া অত্যন্ত যৌক্তিক ও অলৌকিক ব্যাখ্যায় জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের চোখ খুলে গেছে। সংসদে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছেন যে, ভৌগোলিক কারণে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের জন্য ‘দিগন্ত’ এবং দুই উপজেলার বর্ডারে হওয়ায় সীমান্ত নাম হয়েছে, যার সাথে তার সন্তানদের নামের মিলটি স্রেফ একটি মিরাকল।

প্রতিমন্ত্রীর এই অকাট্য এবং অলৌকিক যুক্তি শোনার পর বগুড়ার আপামর জনতা বুঝতে পেরেছেন যে, আসলে প্রকৃতিই চাচ্ছে এই পুরো অঞ্চলটি প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের সাথে একাত্ম হয়ে যাক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবগঞ্জের এক প্রবীণ চা-বিক্রেতা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, যেহেতু এই এলাকায় সীমান্ত এবং দিগন্ত শব্দ দুটি আর সাধারণ কোনো শব্দ নেই, এগুলো এখন অলৌকিকতার প্রতীক, তাই আমরা আর এই জেলাকে বগুড়া নামে ডেকে প্রকৃতির এই মহাজাগতিক ইশারাকে অপমান করতে চাই না। আমরা চাই পুরো জেলার নামই মন্ত্রীর নামে শাহে আলম নগর হোক। স্থানীয়দের মতে, যেহেতু মন্ত্রীর নামে আলম আছে এবং পুরো পৃথিবীতেই আলো বা আলম (জগৎ) বিদ্যমান, সেহেতু এই নামকরণ কোনোভাবেই ব্যক্তিস্বার্থ নয়, বরং বৈশ্বিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতারই এক অমোঘ প্রতিফলন।

এদিকে এই নামকরণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে শিবগঞ্জের তরুণ সমাজের একাংশ একটি সুদীর্ঘ ডিও লেটার প্রস্তুত করছেন বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, জেলা শাহে আলম নগর হলে এর ভেতরে থাকা করতোয়া নদীর নাম পরিবর্তন করে প্রতিমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যার নামানুসারে ‘কায়ানাত প্রবাহ’ করা যেতে পারে। কারণ নদীটি দেখতে আকাশ বা কায়ানাতের মতোই বিশাল। সমালোচকরা যদি এতেও পরিবারের মিল খুঁজে পান, তবে তা হবে তাদের সংকীর্ণ মানসিকতা এবং প্রকৃতির অলৌকিক মিল তত্ত্বকে অস্বীকার করার শামিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই নাম পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে কাকতালীয় ও ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে। এখন দেখার বিষয়, গণশুনানি ও স্থানীয় জনগণের এই ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ আবেগের ওপর ভিত্তি করে মন্ত্রণালয় পরবর্তী অলৌকিক প্রজ্ঞাপনটি কবে জারি করে।

৪০ পঠিত ... ১৫ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে

Top