আর্জেন্টিনা, মেসি ও ডিয়েগো: বিদ্রোহ থেকে বিশ্বজয়

পঠিত ... ৩ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে

ঘটনাটা ১৮০৮ সালের। স্পেনের রাজা ৭ম ফার্দিনান্দ নামের এক ভদ্রলোক তখন বেশ বিপদে পড়েছেন। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, আচমকা স্পেন আক্রমণ করে রাজাকে বন্দী করে ফেললেন। এই খবর যখন আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে লাতিন আমেরিকার এই প্রান্তে পৌঁছাল, তখন এখানকার মানুষের মাথা চুলকানোর দশা হলো। তারা ভাবল, যে রাজার নিজেরই কোনো সিংহাসন নেই, তার গোলামি আমরা কেন করব? একেই বোধহয় বলে, কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ।

অবশ্য এর কয়েক বছর আগেই একটা কাণ্ড ঘটেছিল। ১৮০৬ আর ১৮০৭ সালে ব্রিটিশরা খুব শখ করে বিশাল জাহাজ নিয়ে বুয়েনোস আইরেস দখল করতে এসেছিল। স্প্যানিশ বড় বড় সাহেবরা তখন লেজ গুটিয়ে পালালেও, স্থানীয় সাধারণ মানুষ কিন্তু দমে যায়নি। তারা ঘরের হাঁড়ি-পাতিল, বটি আর যার যা ছিল তা-ই নিয়ে ব্রিটিশদের এমন তাড়া করল যে, সাহেবরা বুড়িগঙ্গার ওপার, থুড়ি, রিও দে লা প্লাতার ওপারে গিয়ে দম নিল। এই ঘটনাটায় স্থানীয় মানুষদের মনের ভেতর একটা অদ্ভুত জোর চলে এলো। তারা বুঝল, স্পেনের দয়া ছাড়াও তারা দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে।

১৮১০ সালের মে মাসের এক মেঘলা দিনে তারা প্রথম নিজেদের একটা সরকার বানিয়ে ফেলল। ইতিহাস একে চেনে ‘মে বিপ্লব’ নামে। তবে স্বাধীনতা তো আর মুখের কথায় আসে না, তার জন্য লাগে রক্ত আর যুদ্ধ। জোসে দে সান মার্টিন নামের এক গম্ভীর, গোঁফওয়ালা ভদ্রলোক তরবারি হাতে নেমে পড়লেন যুদ্ধে। ১৮১৬ সালের ৯ জুলাই, টুকুমান নামের একটা ছোট্ট শহরে বসে তারা ঘোষণা করল, আজ থেকে আমরা স্বাধীন। নাম দেওয়া হলো ‘ইউনাইটেড প্রভিন্সেস অব দ্য রিও দে লা প্লাতা’।

তবে মানুষের স্বভাব বড় বিচিত্র। দুঃখের দিনে মানুষ যেমন এক থাকে, সুখের দিনে ঠিক ততটাই আলাদা হয়ে যায়। দেশটা স্বাধীন হতেই শুরু হলো নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি। কার ক্ষমতা বেশি? বুয়েনোস আইরেসের বড়লোকদের, নাকি গ্রামের সহজ-সরল চাষাভুষাদের? এই নিয়ে শুরু হলো এক দীর্ঘ এবং ক্লান্তিকর গৃহযুদ্ধ। ভাই ভাইয়ের বুকে ছুরি চালাল। এই মারামারির চক্করে পড়ে সাধের স্বাধীন দেশটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। এক খণ্ড আলাদা হয়ে নাম নিল প্যারাগুয়ে, আরেক খণ্ড হলো উরুগুয়ে, আর ওপরের দিকটা কেটে গিয়ে হলো বলিভিয়া।

মানুষ যখন নিজেরা মারামারি করে ক্লান্ত হয়, তখন প্রকৃতির নিয়মেই একজন খলনায়কের জন্ম হয়। আর্জেন্টিনাতেও এলো সামরিক জান্তা আর স্বৈরশাসন। বিংশ শতাব্দীতে এসে শুরু হলো এক ভয়ঙ্কর খেলা, যার নাম ডার্টি ওয়ার। মাঝরাতে কালো রঙের গাড়ি এসে মানুষকে তুলে নিয়ে যেত, আর তারা কোনোদিন ফিরত না। প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ এভাবে স্রেফ হাওয়া হয়ে গেল। বাতাসে তখন কেবল কান্নার গন্ধ।

কিন্তু প্রকৃতির একটা অদ্ভুত ভারসাম্য আছে। সব অন্ধকারেরই একটা শেষ থাকে। ১৯৮২ সালে দেশের সামরিক শাসকেরা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ব্রিটেনের সাথে এক ফকল্যান্ডস দ্বীপ নিয়ে যুদ্ধ বাধিয়ে দিল। মাত্র ৭৪ দিনের মাথায় আর্জেন্টিনা হেরে গেল। যুবকেরা প্রাণ হারাল, কিন্তু এই চরম পরাজয়ের ভেতর দিয়েই একটা অদ্ভুত ভালো জিনিস ঘটল। স্বৈরশাসকদের গদি এমনভাবে টলে উঠল যে, তারা পালা পথ পেল না। দীর্ঘ অন্ধকার কেটে আর্জেন্টিনার আকাশে আবার ফিরে এলো গণতন্ত্রের মিষ্টি রোদ।

মানুষগুলো যখন যুদ্ধের ক্ষত আর কান্নায় ক্লান্ত, ঠিক তখনই দূর থেকে একটা চামড়ার গোল বল গড়িয়ে তাদের পায়ের কাছে এসে থামল। যেন বিধাতা বললেন, অনেক কেঁদেছ, এবার একটু হাসো।

মানুষের মন বড় অদ্ভুত জিনিস। যখন চারপাশে চার আনা সুখও খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন মানুষ খুব তুচ্ছ কোনো জিনিসকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। আর্জেন্টিনার মানুষগুলোর জন্য সেই তুচ্ছ জিনিসটা ছিল একটা চামড়ার গোল বল, যার ভেতর কিছুটা বাতাস ভরা থাকে।

১৯শ শতকের মাঝামাঝি সময়ের কথা। বুয়েনোস আইরেস বন্দরে তখন বড় বড় ব্রিটিশ জাহাজ এসে ভিড়ছে। সাহেবরা এসেছেন এখানে রেললাইন বসাতে আর ব্যবসা করতে। তো, সেই সাহেবরা কাজটাজ শেষ করে বিকেলবেলা গোলমতো একটা চামড়ার জিনিস পায়ে নিয়ে লাফালাফি শুরু করলেন। স্থানীয় মানুষজন মাঠের এক কোনায় দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে সেই কাণ্ড দেখে। তারা ভাবল, আহা রে, বেচারাদের দেশে মনে হয় বিনোদনের খুব অভাব। বাচ্চাদের মতো একটা বলের পেছনে এতগুলো ধাড়ি মানুষ হন্যে হয়ে ছুটছে!

ব্রিটিশরা এই খেলাটার নাম দিয়েছিল ফুটবল। তাদের কাছে খেলাটা ছিল অনেকটা মিলিটারিদের কুচকাওয়াজের মতো, সবকিছু নিখুঁত নিয়মে হতে হবে। পাস হবে সোজা, শরীরটা থাকবে শক্ত, আর মনে থাকবে ব্রিটিশ শৃঙ্খলা। ১৮৬৭ সালে থমাস আর জেমস হগ নামের দুই ভাই মিলে যখন বুয়েনোস আইরেস ফুটবল ক্লাব বানালেন, তখনো খেলাটা ছিল কেবলই সাহেবদের। স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছিল ইংরেজদের খেলা।

কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম বড় বিচিত্র। খাঁচায় বন্দি পাখিও যেমন একদিন বনের গান গাইতে শুরু করে, তেমনি এই ইংরেজদের খেলাটাও একদিন সাহেবদের হাত থেকে ফসকে চলে গেল পাড়ার গলির ইতালীয় আর স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত ছোকরাদের পায়ে। আর তখনই ঘটল আসল ম্যাজিক।

বাঙালিরা যেমন ভাতের পাতে একটু ঘি আর কাঁচামরিচ না হলে তৃপ্তি পায় না, লাতিন আমেরিকার এই তরুণেরাও তেমনি ফুটবলের মধ্যে নিজেদের মনমেজাজ মিশিয়ে দিল। তারা সাহেবদের সেই রোবটের মতো সোজা পাসিং আর নিয়মের ফুটবলকে বুড়ো আঙুল দেখাল। বুয়েনোস আইরেসের ধুলো ওড়া গলিতে জন্ম নিল এক নতুন স্টাইল, যার নাম ‘ক্রিওলো’।

এই স্টাইলে কোনো নিয়ম নেই, আছে কেবল আনন্দ। এখানে বল পায়ে নিয়ে প্রতিপক্ষকে একটা বোকা বানানোর মিষ্টি আনন্দ আছে। শরীর দিয়ে নয়, খেলাটা হতে লাগল বুদ্ধি আর পায়ের জাদু দিয়ে। চোখের পলকে বল নিয়ে বাতাসে ভেসে যাওয়ার মতো ড্রিবলিং শুরু হলো। ১৮৯৩ সালে যখন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) তৈরি হলো, ততদিনে ফুটবল আর ব্রিটিশদের বাচ্চাদের খেলা রইল না। ওটা হয়ে গেল আর্জেন্টিনার মানুষের নিশ্বাসের বাতাস।

এরই মধ্যে বছর ঘুরে এলো ১৯৮৬। মেক্সিকোর আকাশ তখন গনগনে রোদে পুড়ছে। চার বছর আগের ফকল্যান্ডস যুদ্ধের ক্ষতটা আর্জেন্টিনার মানুষের বুকে তখনো দগদগে একটা ঘা-এর মতো বসে আছে। নিজেদের দেশের তরুণেরা ব্রিটেনের কাছে যুদ্ধে হেরে প্রাণ হারিয়েছে, এই অপমান তারা ভুলতে পারছিল না। আর ঠিক তখনই, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হলো আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ড।

মাঠে সেদিন এগারোটা ছেলে নামেনি, নেমেছিল একটা পুরো দেশের কান্না আর প্রতিশোধের আগুন। আর সেই আগুনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক রাগী মানুষ। ঝাঁকড়া চুল, চোখে এক অদ্ভুত চপলতা। নাম তার ডিয়েগো।

খেলার ৫১ মিনিটের মাথায় একটা কাণ্ড ঘটল। ইংলিশ গোলকিপার পিটার শিল্পটন যখন শূন্যে লাফিয়ে বলটা ধরতে গেলেন, ডিয়েগো তার আগেই লাফিয়ে উঠে বলটা জালে পাঠিয়ে দিলেন। রেফারির চোখে ধরা পড়ল না, কিন্তু ক্যামেরায় দেখা গেল—বলটা ডিয়েগোর মাথায় নয়, লেগেছিল তার বাঁ হাতে। পুরো ইংল্যান্ড দল যখন রাগে কাঁপছে, ডিয়েগো তখন মুচকি হেসে বললেন, ওটা ম্যারাডোনার হাত ছিল না, ওটা ছিল ঈশ্বরের হাত।

কিন্তু বিধাতা বোধহয় চাইলেন এই চাতুরির পর একটা খাঁটি অলৌকিক কিছু ঘটাতে। তার ঠিক চার মিনিট পর, মাঝমাঠ থেকে সেই ঝাঁকড়া চুলের ছেলেটা বলটা পায়ে নিলেন। তারপর শুরু হলো এক অবিশ্বাস্য মহাকাব্য। একে একে পাঁচজন ইংলিশ ডিফেন্ডারকে তিনি ডালভাতের মতো কাটিয়ে, গোলকিপারকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে বলটা জালে জড়ালেন। একেই বলে শতাব্দীর সেরা গোল।

সেদিন ম্যাচ শেষে বুয়েনোস আইরেসের রাস্তায় কোনো মানুষ ঘরে বসে ছিল না। মাঝবয়সী গম্ভীর পুরুষেরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো কাঁদছিল। তারা বুঝে গিয়েছিল, ফকল্যান্ডস দ্বীপটা হয়তো মানচিত্রে তাদের হাতছাড়া হয়েছে, কিন্তু সবুজ ঘাসের ওই সবুজ দ্বীপে তারা আজ ব্রিটিশদের চিরতরে হারিয়ে দিয়েছে। ফুটবল তখন আর কেবল খেলা রইল না, ওটা হয়ে গেল এক অলিখিত যুদ্ধ জয়ের আনন্দ।

আর্জেন্টিনার আকাশটা যদি আপনি কখনো ভালো করে দেখেন, তবে একটা অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করবেন। সেখানে মেঘেরা খুব একটা স্থির থাকে না। কখনো ঝুম বৃষ্টি নামে, কখনো আবার চড়া রোদ। দেশটির অর্থনীতি আর রাজনীতির হালচালও ঠিক এই মেঘেদের মতোই অস্থির। আজ যেখানে ব্যাংক খালি, কাল সেখানে মুদ্রাস্ফীতির হাহাকার। কিন্তু এই ভাঙাচোরার দেশেও একটা জায়গায় গিয়ে সবাই খুব শান্ত, খুব একতাবদ্ধ। সেই জায়গাটার নাম, আকাশি-সাদা জার্সি।

আজকের আর্জেন্টিনা মানেই ফুটবল নামের এক আদিম এবং অকৃত্রিম ধর্ম। সেখানে চার্চের চেয়েও কখনো কখনো ফুটবল গ্যালারির শোরগোল বেশি পবিত্র মনে হয়। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ক্লাবের জন্য নিজের জীবন বাজি রাখতে রাজি। বুয়েনোস আইরেস শহরের দুই চিরশত্রু—'বোকা জুনিয়র্স' আর 'রিভার প্লেট' যখন মাঠে নামে, তখন তাকে আর সাধারণ ম্যাচ বলা চলে না; ইতিহাস তার নাম দিয়েছে সুপারক্ল্যাসিকো। সে যেন এক সামাজিক যুদ্ধ, এক অদ্ভুত উন্মাদনা। ধনী-দরিদ্র, চোর-সাধু সবাই সেদিন এক কাতারে এসে দাঁড়ায়।

যদি তাদের ইতিহাসের খেরোখাতা উল্টানো যায়, তবে দেখা যাবে ১৯১২ সাল থেকে তারা ফিফার খাতায় নাম লিখিয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলায় লা আলবিসেলেস্তেরা এ পর্যন্ত ১৬ বার কোপা আমেরিকা জিতেছে। আর বিশ্বকাপের ট্রফি? ওটা তো তাদের জন্য এক একটা যুগের গল্প।

প্রথম তারাটা এসেছিল ১৯৭৮ সালে, যখন নিজেদের মাটিতে মারিও কেম্পেস নামের এক লম্বা চুলের জাদুকর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চুরমার করে কাপটা উঁচিয়ে ধরেছিলেন। দ্বিতীয় তারাটার গল্প তো ডিয়েগোর সেই মেক্সিকোর রূপকথা, যা ১৯৮৬ সালে একটা পুরো জাতিকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছিল।

কিন্তু মানুষের লোভ বড় বিচিত্র। দুটো তারা পাওয়ার পর তাদের তৃষ্ণা যেন আরও বেড়ে গেল। দেখতে দেখতে কেটে গেল দীর্ঘ ছত্রিশটা বছর। মাঝখান দিয়ে কত রথী-মহারথী এলেন আর গেলেন। গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার সেই বুলেট শট, কিংবা আনহেল দি মারিয়ার চিতার মতো দৌড়; কোনো কিছুই যেন সেই কাঙ্ক্ষিত সোনার ট্রফিটা এনে দিতে পারছিল না। বারবার ফাইনালে গিয়ে ফিরে আসার যে কী যন্ত্রণা, তা বুয়েনোস আইরেসের চেয়ে ভালো আর কে জানে! ২০১৪ সালের ব্রাজিলের সেই রাতটার কথা মনে হলে এখনো অনেক আর্জেন্টাইনের চোখে জল চলে আসে।

তারপর এলেন তিনি। শান্ত, লাজুক, বাঁ পায়ের এক জাদুকর। বার্সেলোনার সবুজ ঘাসে যিনি একের পর এক রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছিলেন, কিন্তু নিজের দেশের জার্সিতে ট্রফিটা যেন কিছুতেই ধরা দিচ্ছিল না। মানুষ তাকে নিয়ে কত কটু কথা বলল, কত উপহাস করল। কিন্তু বিধাতা যার কপালে শেষ হাসিটা লিখে রাখেন, তাকে আটকায় কার সাধ্য?

২০২২ সালের কাতারের সেই অবিশ্বাস্য রাত। লুসাইল স্টেডিয়ামে তখন নাটকের পর নাটক চলছে। ফরাসিদের সাথে মরনপণ লড়াই শেষে ম্যাচ যখন টাইব্রেকারে গড়াল, তখন পুরো আর্জেন্টিনার মানুষের নিশ্বাস যেন বন্ধ হওয়ার জোগাড়। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ নামের সেই বাজপাখির মতো গোলকিপার যখন শেষ বলটা আটকে দিলেন, তখন মরুভূমির বুকে যেন এক টুকরো বুয়েনোস আইরেস নেমে এলো। দীর্ঘ ছত্রিশ বছরের খরা কাটিয়ে আধুনিক ফুটবলের ঈশ্বর, লিওনেল মেসি যখন ট্রফিটা বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন, তখন যেন পুরো পৃথিবীর ফুটবলপ্রেমী মানুষ স্বস্তির একটা নিশ্বাস ফেলল। আর্জেন্টিনার জার্সিতে যুক্ত হলো তৃতীয় তারা।

যে দেশটাকে একসময় গৃহযুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা আর স্বৈরশাসন বারবার ভেঙে টুকরো টুকরো করতে চেয়েছিল, সেই দেশের মানুষকে আজ এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে ওই চামড়ার গোল বলটা। ব্রিটিশ সাহেবরা একদা যে খেলাটাকে বাচ্চাদের শরীরচর্চা বলে অবহেলা করেছিল, আজ লাতিন আমেরিকার এই প্রান্তে এসে তা এক জাতীয় অহংকারের রূপক হয়ে উঠেছে।

বিকেল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা নামে, তখন বুয়েনোস আইরেসের কোনো এক গলিতে এখনো একদল খালি পায়ের কিশোর ধুলো উড়িয়ে বলের পেছনে ছোটে। তাদের চোখে মুখে কোনো ক্লান্তি নেই। তারা জানে, এই বলটাই তাদের অক্সিজেন, এই বলটাই তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র নিখাদ আনন্দ।

পঠিত ... ৩ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top