কেপ ভার্দের 'ছোটো দাদি'

৫৬ পঠিত ... ৭ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে

স্টিফেন চাও-এর ‘শাওলিন সকার’ সিনেমার কথা মনে আছে? ফুটবলকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিশ্বখ্যাত এই সিনেমা দেখেননি, এমন মানুষ মেলা ভার। কখনো কি বিশ্ববাসী ভেবেছিল, সিনেমার সেই নায়িকা-সদৃশ গোলকিপার বাস্তবে পুরুষ রূপে কেপ ভার্দে দলের হয়ে খেলবে?

নামটি কিন্তু তাঁর ‘ছোট দাদি’।
বিশ্বাস হচ্ছে না? পর্তুগিজ শব্দ ‘ভোজিনহা’ (Vozinha)-এর অর্থ সেটাই। ছোটবেলায় বাবা-মা বেশিরভাগ সময়ই কাজে ব্যস্ত থাকতেন। তাই ভোজিনহার বেড়ে ওঠার একটি বড় অংশজুড়ে ছিলেন তাঁর দাদা-দাদি। আদর করে তাই তাঁকে এই নামে ডাকা হয়।

বয়সটা গুণে গুণে মাত্র ৪০! কিন্তু কথা সেটা নয়।
একে তো কেপ ভার্দের নিজেদের প্রথম ম্যাচ বিশ্বকাপের মতো আসরে, তার ওপর ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন প্রতিপক্ষ— একেবারে বিষফোঁড়ার মতো অবস্থা!

কিন্তু এই প্রবীণ, টগবগে যুবকটি যেন গোলপোস্টটিকে নিজের মুঠোয় পুরে নিলেন।
অবিশ্বাস্য ৭টি গোলের চেষ্টা তিনি দুর্দান্তভাবে রুখে দেন। স্পেন হয়তো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েই গিয়েছিল— কী হচ্ছে এসব? কেমন করে জিতব আমরা?

কেপ ভার্দেও হয়তো ভাবেনি তারা কী করতে চলেছে!
স্পেনের ১১ জনের বিরুদ্ধে একা একজন মানুষ যদি চীনের মহাপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে সবাই তো অবাক হবেই!

শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত যেন সবার দম আটকে ছিল। ম্যাচ শেষে নিজের কান্না আটকাতে পারেননি গোলশূন্য ড্রয়ের নায়ক, গোলকিপার ‘ভোজিনহা’ নিজেও। সবচেয়ে বয়স্ক গোলকিপার হিসেবে কোনো গোল হজম না করার রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন তিনি।

অথচ এমন বিশেষ মুহূর্তে তাঁর দাদি বেঁচে নেই। অর্থাভাবে নিজের মাকেও মাঠে নিয়ে আসতে পারেননি— এই আক্ষেপ তাঁর চোখের জল ছুঁয়ে গেছে সবাইকে।

স্পেনের বিপক্ষে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হওয়ার পর রাতারাতি তারকাও হয়ে গেছেন তিনি। মাত্র এক রাতেই তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ৪৫ হাজার থেকে কয়েক লাখে পৌঁছে যায়।

এজন্যই বলে, পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে।

৫৬ পঠিত ... ৭ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top