২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চকর শুরুতে বাংলাদেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে ঐতিহ্যবাহী গর্ত-রাজনীতি। ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে উড়ন্ত জয় পাওয়ার পর, স্বাভাবিক নিয়মেই দেশের কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থক লোকলজ্জার ভয়ে ফেসবুক ও চায়ের দোকান ছেড়ে নিকটস্থ গর্তে আত্মগোপন করেন। তবে এর ঠিক তিন দিন পর, অর্থাৎ ১৯ জুন, হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিল ৩-০ গোলে জয়লাভ করতেই ভোজবাজির মতো দৃশ্যপট বদলে যায়। ব্রাজিলিয়ানরা গর্ত থেকে বের হয়ে বিজয় মিছিল শুরু করায় দেশের লাখ লাখ সুসজ্জিত গর্ত এখন সম্পূর্ণ শূন্য ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এই বিপুল আবাসন সংকট ও খোদ আর্জেন্টিনা দলের রক্ষণভাগের নড়বড়ে অবস্থার কথা বিবেচনা করে, দূরদর্শী আর্জেন্টিনা সমর্থকরা এখন থেকেই রোস্টার বেসিসে সেইসব গর্ত অগ্রিম বুকিং দেওয়ার জন্য ব্রাজিলের নীতিপ্রীতি কমিটির কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
ব্রাজিল সমর্থকদের দ্বারা নির্মিত এই গর্তগুলো যুগের পর যুগ ধরে অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক উপায়ে এবং আন্তর্জাতিক মানের ট্রোল-প্রুফ প্রযুক্তিতে তৈরি। গর্তের ভেতরে ওয়াই-ফাই সংযোগ, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পুরনো কোপা আমেরিকার হাইলাইটস দেখার ব্যবস্থা এবং রেফারি আসলেই দুর্নীতিবাজ ছিল শীর্ষক মনস্তাত্ত্বিক সান্ত্বনার অডিও ক্লিপ ২৪ ঘণ্টা বাজার সুবিধাও রয়েছে। আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর একজন শীর্ষস্থানীয় মুখপাত্র অত্যন্ত গম্ভীর মুখে জানান, ফুটবল একটা অনিশ্চয়তার খেলা, আজ মেসি গোল দিয়েছে তো কাল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আমাদের ডিফেন্সের চাকা পাংচার হতেই পারে। তাই আমরা চাচ্ছি, স্কটল্যান্ড ম্যাচের দিন যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে যেন আমাদের সমর্থকদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রোল শুনতে না হয়। ব্রাজিলের ভাইয়েরা যেহেতু এখন হাইতির জয়ে বুক ফুলিয়ে রাস্তায় ঘুরছেন, তাই তাদের এই খালি ও সুসজ্জিত গর্তগুলো আমরা শিফট বা রোস্টার অনুযায়ী ভাড়া নিতে চাই। এতে দুই দলের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য যেমন বাড়বে, তেমনি গর্তের ভাড়ার টাকা দিয়ে ব্রাজিলিয়ানরা আগামী ম্যাচের জন্য নতুন টিস্যু পেপারও কিনতে পারবেন।
এদিকে, ব্রাজিলের উর্ধ্বতন গর্ত রক্ষণাবেক্ষণ অধিদপ্তর এই বাণিজ্যিক প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি জানালেও ভাড়ার শর্ত নিয়ে কিছুটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের সাফ কথা, গর্তে প্রবেশ করতে হলে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অবশ্যই তাদের আইডি কার্ড জমা দিতে হবে এবং ভেতরে বসে আর্জেন্টিনার জনসংখ্যার চেয়ে বাংলাদেশে ফ্যান বেশি কিংবা মেসি ৩৯ বছরেও তরুণ—এই জাতীয় কোনো স্লোগান প্র্যাকটিস করা যাবে না। তাছাড়া, গর্তের দেয়ালগুলোতে নেইমার ও ভিনিসিয়াসের পোস্টার সাঁটানো রয়েছে, যা কোনোভাবেই ছেঁড়া বা বিকৃত করা যাবে না। রাজনৈতিক ও সামাজিক বোদ্ধারা মনে করছেন, বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে মন্দা চললেও, চলমান বিশ্বকাপে দুই দলের এই 'রোস্টার ভিত্তিক গর্ত শেয়ারিং' চুক্তিটি দেশের ক্রীড়া অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী ও টেকসই অধ্যায়ের সূচনা করবে, যা নকআউট পর্বের আগ পর্যন্ত উভয় পক্ষকেই একটি নিরাপদ ও ট্রোল-মুক্ত জীবনের নিশ্চয়তা দেবে।


