ভেনিজুয়েলার মতো ৭.১ আর ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প যদি বাংলাদেশে হইতো…

পঠিত ... ২ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে

ভেনিজুয়েলায় কোনো মেগাসিটি নেই! ঢাকার মতো ছোট্ট একটি শহরে ২১ লাখ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনও নেই।

বিল্ডিং কোড না মেনে কেউ ভবন নির্মাণ করেনি।
৫ তলার ফাউন্ডেশন দিয়ে কেউ ৬ তলা করেনি।
চিপাচাপা অলিগলিতে রাস্তা না রেখে ভবন নির্মাণ করেনি।

তারপরও মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে হওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে কয়েকটি শহর প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
২০ তলা, ১৫ তলার মতো শক্তিশালী ভবন পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গেছে।
ভেনিজুয়েলার মানুষ রক্তের কান্না কাঁদছে।

হয়তো এই ভূমিকম্প তাদের অন্তত ২০ বছর পিছিয়ে দেবে।
হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেবে।

একবার ভাবুন!

আমাদের ছোট্ট দেশে, বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর আর সিলেট শহরের অবস্থা!

৬.৯ মাত্রার ওপরে ভূমিকম্প হলে শুধু ঢাকা শহরের প্রায় ৬০% ভবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অর্থাৎ প্রায় ২১ লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে রাজউকের তথ্য।

এই ২১ লাখ ভবনে কত কোটি মানুষ থাকে, একবার ভেবে দেখেছেন?

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন—বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল।
দুই দিন পরপর ভূমিকম্পের কম্পনও অনুভূত হচ্ছে।

কিন্তু আফসোস!

রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে শুরু করে আমরা কেউই যথেষ্ট সচেতন নই।
সচেতনতার ছিটেফোঁটাও যেন আমাদের মধ্যে নেই।

মাত্র দুই দিন আগে চিৎকার করে বলেছিলাম, ঢাকা শহরটা যেন একটা টাইম বোমার ওপর দাঁড়িয়ে আছে!

না ভাই, শুধু ঢাকা নয়; পুরো বাংলাদেশই।

ভেনিজুয়েলার মতো ৭.১ বা ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশের শহরগুলোতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

সেই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতা, আমলা, এলিট, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, গবেষক—দেশের সাধারণ থেকে অসাধারণ, কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষই নিরাপদ থাকবেন না।

এ নিয়ে সংসদে তেমন আলোচনা দেখি না।
বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আমলা—দেশের সচেতন মানুষদেরও বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট ভাবতে দেখি না।

কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বা নীতিমালা আছে বলেও মনে হয় না।
অলিগলি আর চিপাচাপা জায়গায়, যেন কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই, শুধু ভবন আর ভবন গড়ে উঠছে।

এমন একটা দিন আসতে পারে, যখন আপনার শরীর ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকবে, প্রচুর রক্তক্ষরণ হবে।

কিন্তু আপনাকে উদ্ধার করার মতো পর্যাপ্ত লোক থাকবে না।
থাকবে না প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট বা উদ্ধার সরঞ্জাম।
জনবল থাকবে না, প্রশিক্ষণও থাকবে না।

হাসপাতাল, ফার্মেসিও ধসে পড়তে পারে।
ডাক্তার-নার্সরাও নিজেদের জীবন নিয়ে ছুটোছুটি করবেন। (কারণ তাঁরাও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকেন।)

থাকবে শুধু চিৎকার।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অসহায়ত্বের চিৎকার।
রক্তের কান্না।

এত কিছুর পরও আমাদের যেন কোনো উপলব্ধি নেই।

আমার বিশ্বাস, মানুষের অন্যায়-অবিচারের ফল একসময় ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আলাদা।

তারপরও আমরা

  • এক ঘরে তিন মেয়ে ও তাদের মাকে বাসায় ঢুকে হত্যা করছি।
  • ক্লাস ৮-এর একটি শিশু এবং ৫ বছরের একটি শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে হত্যা করে জঙ্গলে ঝুলিয়ে দিচ্ছি।
  • রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় একজন আরেকজনকে হত্যা করছি।
  • প্রকাশ্যে দিবালোকে কোটি কোটি টাকার ঘুষ-বাণিজ্য করছি।
  • অর্থ পাচার করছি।
  • ব্যবসায়ী হয়ে ইচ্ছেমতো মানুষকে ঠকাচ্ছি।
  • খাবারে ভেজাল মেশাচ্ছি।

 

দেশের অধিকাংশ মানুষ যেন সুযোগ পেলেই আরেকজনকে ঠেলে নিজে ওপরে উঠতে চায়।

কিসের ধর্ম, কিসের নীতিনৈতিকতা?
কেউ যেন কিছুই মানছে না।

এমন অসভ্য, বর্বর আচরণের খবর পৃথিবীর অন্য অনেক দেশে এত ঘনঘন শুনি না।

‘মেরে ফেল’, ‘ধরে ফেল’, ‘খেয়ে ফেল’, ‘গিলে ফেল’—এসব যেন অনেকের মুখের ভাষা হয়ে গেছে।

আমার কখনো কখনো মনে হয়, আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত একটি জাতিতে পরিণত হচ্ছি।
শিগগিরই হয়তো আমাদের কৃতকর্মের ফল পুরো জাতিকেই ভোগ করতে হবে।

তার আগে হয়তো আমরা বদলাব না।

বারবার সতর্কবার্তা আসছে, বারবার সুযোগ পাচ্ছি। তবু অকৃতজ্ঞের মতো বারবারই অবহেলা করে যাচ্ছি। হয়তো এটাই নিজেকে শুধরে নেওয়ার শেষ সুযোগ ছিল। হয়তো এটাই শেষ সুযোগ ছিল

 

পঠিত ... ২ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top