বিশ্বকাপের ঢোল বাজতেই দেশের আনাচে-কানাচে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল নামক চিরন্তন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে আপামর জনতা। তবে এই মহোৎসবের মাঝেই এক চরম সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। জার্সি গায়ে দিয়ে ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার বদলানো এবং চায়ের দোকানে তর্কে লিপ্ত হওয়া শত শত সিজনাল ফ্যান তাদের প্রিয় দলের প্রথম একাদশের মাত্র দুইজন বাদে বাকি নয়জন প্লেয়ারের নাম বলতে গিয়ে তোতলামি শুরু করেছেন। এই জাতীয় লজ্জা এবং সামাজিক বিপর্যয় ঠেকাতে অবশেষে মাঠে নেমেছেন দেশের ইয়ার-রাউন্ড বা রেগুলার ফুটবল ফ্যানরা। তীব্র ক্ষোভ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তারা চালু করেছেন, সিজনাল ফ্যান রেসকিউ অ্যান্ড নেইম মেমোরাইজেশন ক্র্যাশ কোর্স।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক রেগুলার ফ্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
ভাইরে ভাই, একজন জার্সি গায়ে দিয়ে রিকশার পিছে ফ্ল্যাগ লাগায়ে ঘুরতাছে, অথচ জিজ্ঞেস করলাম আর্জেন্টিনার রাইট-ব্যাকের নাম কী? সে আকাশ পানে তাকায়া বলে, কেন, ডি মারিয়া না? এই লেভেলের টর্চার সহ্য করা যায় না! এরা শুধু মেসি আর নেইমাররে চিনে। বাকি প্লেয়াররা কি মাঠে ঘাস কাটতে নামে?
এই ভয়াবহ অজ্ঞানতা দূর করতে কোর্সে থাকছে বিশেষ কিছু মডিউল:
লেভেল ১ (প্রাথমিক ধাক্কা): মেসি-নেইমার ছাড়া দলে আরও ১০ জন মানুষ খেলে, এই ধ্রুব সত্যটি মেনে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি।
লেভেল ২ (উচ্চারণ শিক্ষা): লাউতারো মার্টিনেজ’ নাকি লৌতারো মার্তিনেস জিভের এই জড়তা কাটানোর বিশেষ স্পিচ থেরাপি।
লেভেল ৩ (ভিজুয়াল আইডেন্টিফিকেশন): খেলা চলাকালীন শুধু বলের দিকে না তাকিয়ে, কোন জার্সির চুল কেমন বা কার ট্যাটু কোথায়, তা দেখে প্লেয়ার চেনার শর্টকাট টেকনিক।
কোর্স পরিচালনাকারী রেগুলার ফ্যানরা জানিয়েছেন, ভর্তি হতে কোনো টাকা লাগবে না, তবে কিছু কঠোর স্ক্রিনিং টেস্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। যেমন, যারা এখনো মনে করেন এমবাপ্পে কোনো এককালে ব্রাজিলের হয়ে খেলতেন, কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো এবারও রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে দিয়ে বিশ্বকাপে নামবেন, তাদের জন্য স্পেশাল আইসিইউ ব্যাচের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কোর্সের এক পরীক্ষার্থী, যিনি নিজেকে জন্মসূত্রে ব্রাজিলের সমর্থক দাবি করেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি ভিনিসিয়ুস আর রাফিনহার নাম মুখস্ত করতে গিয়া রাত্রে ঘুমাতে পারতেছি না। খালি মনে হয় এরা বোধহয় হলিউডের কোনো মুভির ক্যারেক্টার! তবে বড় ভাইয়েরা যেভাবে মারধর না করে ভালোবেসে নামগুলো মাথায় ঢুকায়া দিচ্ছেন, আশা করি প্রথম ম্যাচ শুরুর আগেই আমি অন্তত ৫ জন প্লেয়ারের নাম অনর্গল বলতে পারবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এক মাসের এই টুর্নামেন্টজুড়ে যারা সফলভাবে নিজের দলের অন্তত আটজন প্লেয়ারের নাম, পজিশন এবং তারা কোন ক্লাবে খেলে তা নির্ভুলভাবে বলতে পারবেন, তাদের সমাবর্তন দেওয়া হবে। পুরস্কার হিসেবে মিলবে সার্টিফাইড নন-সিজনাল ফ্যান সীলমোহর সংবলিত সার্টিফিকেট।
তবে সতর্কবার্তা একটাই, কোর্স শেষ করার পর যদি কেউ আবার ভুলে কোনো প্লেয়ারকে অন্য দলের বলে চালিয়ে দেয়, তবে তাকে সমাজচ্যুত করে সরাসরি ‘ক্রিকেট ফ্যান’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে!


