বিসিবির নবপ্রবর্তিত ‘ক্যাপ্টেন কার্ড’ নিয়ে ক্রিকেটপাড়ায় যখন তুমুল হর্ষধ্বনি, ঠিক তখনই ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দলের কাছে বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ১৬ এপ্রিল জমকালো অনুষ্ঠানে ৩৩ জন সাবেক ও বর্তমান অধিনায়ককে আজীবন সম্মাননা ও ভিআইপি সুবিধার কার্ড তুলে দেন বোর্ড প্রধান তামিম ইকবাল। কিন্তু এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা পরেই মিরপুরের উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তদের ব্যাটিং ধস দেখে বিচলিত খোদ বোর্ড প্রশাসনও।
নির্ভরযোগ্য এক কাল্পনিক সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমান অধিনায়কদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং মাঠের ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনতে এবার এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপের কথা ভাবছেন তামিম ইকবাল। বিসিবির নীতিনির্ধারকদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রস্তাব উঠেছে, শুধু দেশি অধিনায়ক নয়, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক এবং মূল বোলারদেরও জরুরি ভিত্তিতে ক্যাপ্টেন কার্ড প্রদান করা হোক। যুক্তিটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। কার্ডের সুবিধা হিসেবে যে ক্যাপ্টেন লাউঞ্জ এবং ভিভিআইপি পার্কি বরাদ্দ আছে, কিউই ক্রিকেটাররা যদি সেই আতিথেয়তায় মজে থাকেন, তবে হয়তো মাঠের ভেতরে তাদের আগ্রাসন কিছুটা কমবে।
বিশেষ করে নাথান স্মিথ ও টিকনারের বোলিং তোপে যখন বাংলাদেশের ২২১ রানে থমকে গেল, তখন গ্যালারিতে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছিল যে, প্রতিপক্ষকে সম্মান জানানোর এই কার্ড যদি আগেভাগেই তাদের পকেটে গুঁজে দেওয়া যেত, তবে হয়তো সৌজন্যের খাতিরে হলেও তারা আমাদের উইকেটগুলো নিতে দুবার ভাবতেন। তামিম ইকবাল নিজেও নাকি আক্ষেপ করে ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, নিজের দেশের সাবেক অধিনায়কদের সম্মান দিয়ে তো লাভ হলো না, বরং প্রতিপক্ষকে কার্ড দিয়ে সম্মানিত করতে পারলে যদি তারা একটু হাত খুলে খেলার সুযোগ করে দিত!
বিসিবির এই সম্ভাব্য কার্ড কূটনীতি সফল হলে ভবিষ্যতে ভারত বা অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই তাদের একাদশকে আজীবন সদস্যপদ দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ বর্তমান অধিনায়কদের পারফরম্যান্স যে পর্যায়ে ঠেকেছে, তাতে মাঠের লড়াইয়ে জেতার চেয়ে কার্ড বিলিয়ে প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে ‘নরম’ করে জেতাটাই এখন বেশি বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে। ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে, টাইগারদের এই হারের পর ক্যাপ্টেন কার্ডের পরবর্তী স্লোগান হতে পারে, মাঠে হারলেও, কার্ডে আমরাই সেরা।


