সাইকেল দিবসে সাইকেল নিয়ে দশটি অদ্ভুত ফ্যাক্ট

৪৯ পঠিত ... ৬ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে

 

আজকে বিশ্ব সাইকেল দিবস। হয়তো আপনিও ফেসবুকে বা ইনস্টায় একটা শুভেচ্ছা জানাবেন। 

কিন্তু জানানোর আগে একটু থামুন। এই যে দুই চাকার জিনিসটাকে আমরা এত সহজ মনে করি, এর পেছনে আছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, নারী স্বাধীনতার লড়াই, আর রাইট ভাইদের সেই স্বপ্নের গল্প। জানতে চান?

 

১. সাইকেল আবিষ্কারের পেছনে একটা আগ্নেয়গিরি দায়ী

১৮১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট তাম্বোরা আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়ল। এতটাই ভয়াবহ যে পরের বছর, ১৮১৬, ইতিহাসে ‘গ্রীষ্মহীন বছর’ নামে পরিচিত। ইউরোপে জুলাই মাসেও তুষারপাত, ফসল নেই, মানুষ না খেয়ে মরছে—আর ঘোড়াও মরছে দলে দলে। জার্মান ব্যারন কার্ল ফন ড্রেইস তখন ভাবলেন, ঘোড়া ছাড়া চলা যায় না? ১৮১৭ সালে দুই চাকার একটা কাঠের যন্ত্র বানিয়ে ফেললেন। নাম দিলেন ‘লাউফমাশিনে’— মানে দৌড়ানোর যন্ত্র। পৃথিবী পেল সাইকেলের পূর্বপুরুষ।

 

২. প্রথম সাইকেলে প্যাডেল ছিল না, চালাতে হতো পা দিয়ে মাটি ঠেলে

হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। ড্রেইসের সেই যন্ত্রে কোনো প্যাডেল ছিল না। পা দিয়ে মাটি ঠেলে ঠেলে যেতে হতো। অনেকটা এখনকার বাচ্চাদের ব্যালেন্স বাইকের মতো। ১৮১৭ থেকে প্রায় ৪৫ বছর পর, ১৮৬০-এর দশকে প্যারিসে পিয়েরে মিচক্স ও পিয়েরে ললেমেন্ট  প্রথমবার সামনের চাকার সাথে প্যাডেল যুক্ত করলেন। মানে প্রায় দেড় প্রজন্ম ধরে মানুষ পা ঘষে ঘষে সাইকেল চালিয়েছে।

 

৩. মেয়েরা সাইকেল চালালে নাকি চেহারা নষ্ট হয়ে যায়

উনিশ শতকের শেষ দিকে সাইকেল জনপ্রিয় হতে শুরু করলে ইউরোপ-আমেরিকায় একটা আজব আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। চিকিৎসকরা বলতে শুরু করলেন, মেয়েরা সাইকেল চালালে মুখের মাংসপেশী এতটাই টানটান হয়ে যাবে যে চেহারা স্থায়ীভাবে বিগড়ে যাবে। পত্রিকায় লেখা হলো, সাইকেল নারীর নৈতিক চরিত্র নষ্ট করে। আসল কারণ? সাইকেল মেয়েদের স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দিচ্ছিল — এটা সেসময়ের সমাজ সহ্য করতে পারেনি। কিন্তু মেয়েরা থামেননি। সাইকেল হয়ে উঠল নারী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক।

 

৪. রাইট ভাইয়েরা বিমান বানানোর আগে সাইকেল সারাতেন

অরভিল আর উইলবার রাইট—যারা ১৯০৩ সালে আকাশে উড়িয়েছিলেন পৃথিবীর প্রথম বিমান, তাদের মূল পেশা ছিল সাইকেল মেকানিক। ১৮৯২ সালে ওহাইওর ডেটন শহরে তারা খুলেছিলেন Wright Cycle Company। সাইকেল বেচতেন, সারাতেন, নিজেরাও বানাতেন। সেই দোকানেই কাজ করতে করতে মাথায় এলো ওড়ার স্বপ্ন। সাইকেল সারানোর টাকাতেই চলেছিল বিমান বানানোর গবেষণা।

 

৫. সাইকেলে চাপলে আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষ প্রাণী হয়ে যান

১৯৭৩ সালে Scientific American-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পুরো দুনিয়াকে চমকে দিল। কায়িক শ্রম ব্যবহার করে কোথাও যেতে হয়; এমন যানবাহন বা প্রাণী হিসেবে সাইক্লিস্ট মানুষ সব প্রাণীকে হারিয়ে দেয়। ঈগল, স্যামন মাছ, ঘোড়া—কেউ পারে না। শক্তি ব্যবহারের দিক থেকে সাইকেল চালানো পায়ে হাঁটার চেয়ে পাঁচগুণ দক্ষ। ২০২৬ সালে Scientific American আবার এই গবেষণাটি আপডেট করে প্রকাশ করেছে—ফলাফল একই।

 

৬. নেদারল্যান্ডসে মানুষের চেয়ে সাইকেল বেশি

নেদারল্যান্ডসের জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। আর দেশটিতে সাইকেল আছে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ। মাথাপিছু ১.৩টা সাইকেল। পৃথিবীতে সর্বোচ্চ। আমস্টারডামে অনেক মানুষ গাড়ি চেনে না, ছোটবেলা থেকে সাইকেলেই জীবন কাটে। মোট যাতায়াতের ২৭ ভাগই হয় সাইকেলে।

 

৭. Tour de France-এর রাইডাররা প্রতিদিন তিনজনের খাবার একা খান

তিন সপ্তাহের এই রেসে একেকজন সাইক্লিস্ট প্রতি স্টেজে পোড়ান গড়ে ৫,০০০-এর বেশি ক্যালোরি। একজন সাধারণ মানুষের সারাদিনে লাগে মাত্র ২,০০০। কঠিন পাহাড়ি স্টেজে এই সংখ্যা আরও বাড়ে। পুরো ১৭৬ জন রাইডার মিলে একটা Tour de France-এ পোড়ান প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ক্যালোরি।

 

৮. মাথা খালি? সাইকেলে চাপুন

সাইকেল চালালে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ে, নতুন ব্রেইন সেল তৈরি হয় আগের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ হারে। গবেষণা বলছে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা — সব উন্নত হয়। অর্থাৎ অফিসে বস যদি বলেন ‘এই কাজটা কি মাথায় ঢোকে না?’  উত্তর হলো, সাইকেলে আসা শুরু করুন। মাথা আপনা-আপনি ঠিক হয়ে যাবে।

 

৯. সাইকেল আবিষ্কারের আগে সাইকেল শব্দটাই ছিল না

Bicycle শব্দটা এলো ফরাসি bicyclette থেকে, যেটা আবার এলো গ্রিক bi (দুই) আর লাতিন cyclus (চাকা) থেকে। প্রথম প্রথম এটাকে বলা হতো Laufmaschine, Draisine, Dandy Horse, Hobby Horse… কত নাম! Bicycle কথাটা জনপ্রিয় হলো ১৮৬০-এর দশকে, যখন প্যাডেলওয়ালা সাইকেল বাজারে এলো।

 

১০. ঢাকায় সাইকেল চালান — এই সাহস আপনার আছে?

পৃথিবীতে এখন প্রায় ১০০ কোটি সাইকেল আছে। কিন্তু ঢাকায় সাইকেল চালানোর কথা বললে মানুষ যেভাবে তাকায়, মনে হয় আপনি বললেন, আমি প্রতিদিন সাঁতরে অফিস যাই।" 

বিশ্ব সাইকেল দিবসে তাই একটাই অনুরোধ — সাইকেল না চালাতে পারলেও অন্তত সাইক্লিস্টকে ওভারটেক করার সময় একটু সম্মান দিন। বিশ্বব্যাপী সাইকেলের যে জয়গান, তাতে সামিল হতে এই ভাই বা বোনটিও কিন্তু আছেন। 

৪৯ পঠিত ... ৬ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top