একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনফারেন্স রুমে দেশের সেরা জীবন মূল্যায়ন কমিটি’ মিটিংয়ে বসেছে। এজেন্ডা একটাই, হাসপাতালের আইসিইউতে অবহেলায় মারা যাওয়া ৬ শিশুর মরদেহের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ।
কমিটির চেয়ারম্যান চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে বললেন, দেখুন, আবেগ দিয়ে তো আর অর্থনীতি চলে না। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। ১টা বাচ্চার দাম কত ধরা যায়?
টেবিলের ওপাশ থেকে একজন অর্থনীতিবিদ ফাইলপত্র ঘেঁটে বললেন, স্যার, একদম তরতাজা উৎপাদন। বাজারে এখনো কোনো বিনিয়োগ করেনি। ট্যাক্স দেয় না, জিডিপিতে অবদান জিরো। পাইকারি দরে প্রতি পিস ৫০ হাজার টাকা ধরলে কেমন হয়?
চেয়ারম্যান হিসাব কষলেন, হুম, ৫০ হাজার গুণন ৬... মোট ৩ লক্ষ টাকা! চমৎকার। লাখের কোঠায় ফিগার থাকলে শুনতে বেশ মর্যাদাপূর্ণ লাগে।
ঠিক তখনই ফাইলে সই করতে গিয়ে হাসপাতালের ডিরেক্টর কাঁচুমাচু মুখে বললেন, স্যার, একটু বিবেচনা করা যায় না? ৩ লাখ টাকা তো অনেক বড় অঙ্কের জরিমানা! আমাদের এক বেলার এসি বিল আর ডাক্তারদের লাঞ্চের খরচই তো প্রায় এই টাকা।
চেয়ারম্যান হাত তুলে তাকে আশ্বস্ত করে বললেন, আরে ডিরেক্টর সাহেব, কাঁদছেন কেন? বিজনেস পলিসি বোঝেন না? এই ৩ লাখ টাকা আপনারা 'আইসিইউ মেইনটেন্যান্স চার্জ' নাম দিয়ে আগামী সপ্তাহের রোগীদের বিলের সাথে যোগ করে দেবেন। ৫০ জন রোগীর কাছ থেকে মাত্র ৬ হাজার করে নিলেই তো জরিমানা উসুল!
ডিরেক্টরের মুখে হাসি ফুটল। তিনি পকেট থেকে আইফোন বের করে হিসাব করে দেখলেন, ৩ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার পরও হাসপাতালের ফান্ডে আরও উদ্বৃত্ত থাকবে। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বললেন, স্যার, আপনারা সত্যিই মানবিক। ৬টা জীবনের জন্য মাত্র ৩ লাখ! এর চেয়ে সস্তা অফার আর বাজারে হতেই পারে না।
মিটিং শেষে বাইরে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের সামনে এসে চেয়ারম্যান গম্ভীর মুখে ব্রিফিং করলেন, অপরাধীকে আমরা কঠোর শাস্তি দিয়েছি! ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা! আমরা প্রমাণ করেছি, এ দেশে প্রতিটি শিশুর জীবনের মূল্য ঠিক ৫০ হাজার টাকা। এক পয়সাও কম নয়! এর চেয়ে সস্তায় মরার লাইসেন্স আমরা আর কোনো হাসপাতালকে দেব না।
পেছন থেকে হাসপাতালের ডিরেক্টর মুচকি হেসে নতুন আইসিইউ উইংয়ের উদ্বোধনী ফিতা কাটার প্রস্তুতি নিতে লাগলেন। মনে মনে ভাবলেন, "পরের বার টার্গেট ১০টা শিশু। অফার আরও লাভজনক হবে।



পাঠকের মন্তব্য