১, ২, ৩… কী ব্যাপার, বাকি চকলেটগুলো কোথায়?
ইস! বাবাকে মিষ্টির কথাও বলা হয়নি।
ক্লাস পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়ে বন্ধুদের কথা দিয়ে ফেলেছিলাম—ওদের খাওয়াব।
বাসাভর্তি মানুষ! এত মানুষ আগে কখনো আসেনি।
কিন্তু কয়েক দিন ধরেই আমার ভীষণ মন খারাপ। হবেই বা না কেন?
বাবা, মা, বোন—সবাই শুধু কাঁদে।
বাবাকে ডাকলাম, মাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম, দৌড়ে গিয়ে বোনের চুলের মুঠি টেনে বললাম,
আপু, কাঁদছো কেন? আমি তো এই যে!
কী আশ্চর্য, কেউ আমার দিকে তাকাচ্ছেই না!
এমনিতেই গলায় ইয়া বড় একটা দাগ। ডাকাডাকি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। সবাই ‘রামিসা’, ‘রামিসা’ করছে, অথচ আমি তো সামনেই দাঁড়িয়ে আছি। সবাই বলছে আমি মরে গেছি! কিন্তু এই যে দিব্যি দৌড়ে বেড়াচ্ছি, আমার তো কোনো কষ্টই হচ্ছে না।
তবে আমার বিড়ালটা বুঝি আমাকে দেখতে পাচ্ছে।
ওকে দেখেছি, ঠিকমতো খাচ্ছে না। মাথায় হাত বুলিয়ে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিলাম,
শোন, এভাবে না খেয়ে থাকলে তুই তো শুকিয়ে যাবি। গায়ে শক্তি না থাকলে অন্য বিড়ালের সঙ্গে মারামারি করবি কী করে? বোকা কোথাকার!
এই ঈদে একটা লাল জামার কথা বাবাকে বলব ভেবেছিলাম। কিন্তু বাবা না আমার কথা শুনছে, না আমাকে দেখছে! তারা কেন বোঝে না—তারা কাঁদলে আমারও কান্না পায়, কষ্ট হয়!
মা, জানো? এখন আমার কোনো কষ্ট হচ্ছে না।
খিদে পায় না, ব্যথা লাগে না। কিন্তু মরে যাওয়ার আগে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল, খুব ব্যথা!
রাইসা আপু, তোমার চকলেটে আমি আর ভাগ বসাব না; পুতুল আর ট্রফিগুলো এখন থেকে তোমার।
আজ তো ঈদের দিন। তোমরা আজ কী কী রান্না করবে?
মা, ও মা, একটা সাদা আলো আমার দিকে আসছে কেন?
কী সুন্দর ঘ্রাণ!
বাবা, আপু, তোমাদের ঝাপসা লাগছে কেন?
আমি তোমাদের দেখতে পাচ্ছি না… দেখতে পাচ্ছি না!



পাঠকের মন্তব্য