eআরকি উইকলি ওয়েদার ফোরকাস্ট (৬-১২ জুন)

১৬ পঠিত ... ১০ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে

প্রথমে একটু দূরের খবর।

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে এখন একটা গরম ঢেকুর তৈরি হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন এল নিনো। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানাচ্ছে, আস্তে আস্তে এল নিনোর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ২০২৬-এর শেষ বা ২০২৭-এর শুরুতে স্যার পুরোদমে এসে পড়বে।

মানে এখনই আসেনি। তবে আসছে।

ঠিক আমাদের কারেন্টর বিল ১৭% বাড়ার মতো। এক্সট্রা বিল এখনও পকেট থেকে দিতে হয়নি, সামনে দিতে হবে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, জুন মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি এবং বেশি তাপমাত্রা থাকবে। দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও আছে। মার্ডার কেস অবস্থা!

 

আসেন, সপ্তাহের হিসাবটা বুঝে নেই।

 

শনিবার-রবিবার (৬-৭ জুন)

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, এখন দেশের ওপর দিয়ে একটা মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

মৃদু?

৩৬ থেকে ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মৃদু? হ্যাঁ, এসির মধ্যে বসে থাকলে মৃদু। বাইরে বের হলে আপনার নিজেকে তন্দুর রুটি মনে হবে। শাওয়ার নিলে মনে হবে গরুম তন্দুর রুটিকে আরও গরম নেহারির ঝোলে চুবানো হয়েছে।

ঢাকা, রাজশাহী, খুলনায় গরমের তীব্রতা থাকবে সবচেয়ে বেশি। বাতাসে আর্দ্রতা এত বেশি থাকবে যে শ্বাস নিলে মনে হবে একটা গরম ও তরল টাইপের ভাইব।

এই গরমে একমাত্র স্বস্তির জায়গা হলো ব্যাংক। যে ব্যাংকে এসি আছে। বিশাল লাইন ধরে একবার টাকা জমা দিন, আরেকবার তুলুন। এইভাবেই পার হয়ে যাক দিন।

 

সোমবার-মঙ্গলবার (৮-৯ জুন)

সুখবর আছে, তবে এখনই না।

মিয়ানমার থেকে শুধু ইয়াবাই না, মৌসুমী বায়ুও ঢোকে। সেইটাই ঢোকার কথা এই সময়ে। তাতে কী হবে? আস্তে আস্তে সারাদেশে বায়ুটা ছড়ালে তাপপ্রবাহ কমবে। তবে, বুধবারের আগে এই জিনিস খুব টের পাওয়া যাবে না।

এইদিকে, এদিকে IMF-এর প্রতিনিধিদলও এই সপ্তাহে ঢাকায় আসছে অর্থনৈতিক পর্যালোচনায়। বর্ষা আর IMF—দুজনেই আসছে, দুজনেই স্বস্তি দেওয়ার কথা বলছে। দুজনের ব্যাপারেই জনগণ সমান সংশয়ী।

বগুড়া, রংপুর, নেত্রকোনায় বিক্ষিপ্ত ধূলিঝড় বা হালকা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সাময়িক স্বস্তি মিলবে। সার্বিক গরম কমবে না। ঠিক যেন ইন্টেরিম আমলের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি।

 

বুধবার-বৃহস্পতিবার (১০-১১ জুন):

এই দুই দিনে সারা দেশে বৃষ্টি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। প্রথমে চট্টগ্রাম ও বরিশালে নামবে, তারপর ধীরে ধীরে মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে ছড়াবে। মানুষ রাস্তায় বের হবে। ভিজবে। মিলেনিয়ালরা স্ট্যাটাস, কবিতা লিখে ফেসবুকে দেবে। জেনজিরা ছবি তুলে দেবে ইনস্টায়, স্ন্যাপচ্যাটে।

তাই বলে, আপনার এলাকায় বৃষ্টি হবেই, শিওর ধরে নেবেন না। ওয়েদার ফোরকাস্ট অনেকটা বিশ্বের সেরা ব্যাটারের সামনে লোপ্পা বল করার মতো। চার-ছক্কা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা, কিন্তু হবেই—এইটার গ্যারান্টি দেওয়া যায় না।

 

শুক্রবার (১২ জুন):

সপ্তাহ শেষ। বর্ষা এসে গেছে। কার জন্য এসেছে? যে বা যারা ছাতা কেনে নাই, তার জন্য বর্ষা আসবে। যাদের ঘরে ছাতা আছে, তাদের জন্য খটখটা গরম।

এটাই বাংলাদেশের আবহাওয়ার চিরন্তন নিয়ম।

 

সবাই ভালো থাকুন, বৃষ্টিতে ভিজুন। শুধু, ঠাডার মধ্যে পইড়েন না। এই আরকি...

 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, WMOearki-র নিজস্ব দুর্ভোগ অনুভূতি

 

১৬ পঠিত ... ১০ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top