ভারতীয় সৈন্যরা সত্যি সত্যিই আজ গেল!

১৭৪ পঠিত ... ২ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে

ইতিহাস কইতেছে, এক দেশ আরেক দেশে সৈন্য ঢুকাইলে ওইডা আর সহজে বের হইতে চায় না। কিন্তু ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে যা হইছিল, ওইডা দুনিয়ার রাজনীতির লাইগা পুরাই শক আছিল। যুদ্ধ শেষ হইছে তিন মাস, আর বিজয়ী ভারতীয় সেনারা নিজেরাই ব্যাগ গুছাইতেছে। এই দৃশ্য দেইখা অনেক বড় বড় মোড়ল দেশও চুপ মাইরা গেছিল।

১৬ ডিসেম্বরের পর পাকিস্তান আর তাদের কিছু সমর্থক গলা ফাটাইয়া কইতেছিল, বাংলাদেশ এখন ভারতের কলোনি! অনেকে ভাবছিল ঢাকার রাস্তায় বুঝি ভারতীয় আর্মি চিরস্থায়ী ক্যাম্প বসাইবো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এইসব প্যাঁচ বুঝতেন। ১০ জানুয়ারি দেশে আইসা তিনি একদম ক্লিয়ার কইরা দিলেন, স্বাধীন দেশ মানে স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ। ইন্দিরা গান্ধীর লগে আলাপচারিতায় সরাসরি কইলেন, সৈন্যরা কবে ফিরবো? কথা আছিল ভদ্র, কিন্তু পজিশন আছিল একদম শক্ত। ইন্দিরাও বুঝছিলেন, সাহায্য করা আর বসে থাকা এক জিনিস না।

১২ মার্চ ঢাকা স্টেডিয়ামে যে বিদায় প্যারেড হইল, ওইডা আছিল আবেগের এক বিরাট মুহূর্ত। হাজার হাজার মানুষ গ্যালারিতে, সামনে লাল পাগড়িওয়ালা জওয়ানরা মার্চ কইরা বিদায় নিচ্ছে। লোকজনের চোখে পানি আছিল, কিন্তু বুকও ফুলা আছিল। কৃতজ্ঞতা আছে, কিন্তু তার চাইতে বড় আছিল নিজের দেশ নিজের হাতে পাওয়ার আনন্দ। দুনিয়ার অনেক জায়গায় বিদেশি সৈন্য বের করতে বছর বছর লাগে, আর এখানে চায়ের টেবিলের কথাবার্তায় তারিখ ফাইনাল, তারপর ব্যস—গুছায়া বিদায়।

অনেকে তখনও সন্দেহ করতেছিল, আরে, এত তাড়াতাড়ি নাকি? কিন্তু মার্চ ১৯৭২-এই বাস্তবতা চোখে দেখা গেল। সৈন্যরা গেল, দেশ পুরোপুরি নিজের কাঁধে উঠল। এই ঘটনাই দুনিয়ারে বুঝাইলো, বাংলাদেশ কারও ছায়া না, নিজের পায়ে দাঁড়ানো একটা রাষ্ট্র।

১৫ মার্চ তাই শুধু একটা ডেট না। ওইডা ছিল নিজের ঘরের চাবি নিজের হাতে তোলার দিন। বন্ধু পাশে আছিল, কিন্তু দরজার চাবি নিজের কাছেই থাকল। এইটাকেই কয় সম্মান, এইটাকেই কয় সত্যিকার স্বাধীনতা।

১৭৪ পঠিত ... ২ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top