একটা সুখবর আছে জানো?

পঠিত ... ৩ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে

ভাই সব, ইঁদুর মারেন, তেলাপোকা মারেন, ছারপোকা মারেন। জাদুর কাঠি ম্যাজিক চক, দাগ দিলে মরে, ঘষা দিলে মরে, তেইল্লাচোরা মরে। চোরার ঘরের চোরা তেইল্লাচোরা, জায়গায় খায়, জায়গায় ব্রেক কাইত হইয়া খায়, চিৎ হইয়া পড়ে, জায়গায় মরে।
ইঁদুর-চিকা মারামারি, নষ্ট করে বাসাবাড়ি। ওষুধ লন তাড়াতাড়ি, ময়নামার ঘুম নাই, ইঁদুর তোর বাসর নাই! ধরা পড়লে জামিন নাই, এক ঘষায় তামা তামা!

হরহর করে বলে যাওয়া লোকটার নাম রাশেদ। দূরপাল্লার বাসগুলোতে এই ঈদে নাড়ির টানে ছোটা মানুষগুলোয় সড়কপথ যেন গিজগিজ করছে। কিন্তু রাশেদকে যেকোনো মূল্যে এই বাসগুলোতে বিক্রির জন্য উঠতেই হবে।

রাশেদ ছেলেটা বেশ কাজের। সে একটা জিনিস নিয়েই পড়ে থাকতে পছন্দ করে না। ইঁদুর মারার ওষুধটা বাসে বিক্রি করার ব্যর্থ চেষ্টা করল বটে, কিন্তু পরের বাসে উঠে সে তার প্রোডাক্ট বদলে ফেলল।

এবার বের করল এক কৌটা আচার। রাশেদ তার কণ্ঠে সুর তুলল,
‘আপনারা আমার মুখের কথা বিশ্বাস করবেন না, এই আচার আমার নিজেদের বানানো, বরই আর খেজুরের মিক্স। খাওয়ার আগে এক পয়সাও দাম দিতে হবে না। খেয়ে তারপর দাম দেবেন।’

এই বাসেও ভীষণ ভিড়। কেউ আচারের প্রতি তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এক বাচ্চা ‘আচার খাবো’ বলে চেঁচিয়ে উঠতেই ওর মা থামিয়ে দিল, বাইরের খোলা খাবার খাওয়া যাবে না। রাশেদের মুখটা মলিন হয়ে উঠল। একটা আচারও কেউ যদি নিত...

একটা বাসেই সে একটু আশা আর বেশখানিকটা শঙ্কা নিয়েই দুই স্টপ পার করল। এবারও আশানুরূপ বিক্রি হলো না।

পরের বাসে পূর্ণোদ্যমে সে বের করল কয়েকটি ব্রাশ আর সুন্দর একটা চিরুনি। রাশেদ এবার কৌশল বদলে খানিক হাসল। হাসিমুখে বলতে লাগল,
‘বাইরে এই ব্রাশ পাবেন বিশ টাকায়। কিন্তু শুধুমাত্র কোম্পানির প্রচারের স্বার্থে আমি দুটো ব্রাশ দিচ্ছি দশ টাকায়, দশ টাকায়, দশ টাকায়।’

একজন, দুজন করে চারজন ওর ব্রাশ কিনে ফেলল। আরেকজন যখন চাইলো, রাশেদ বলল, স্টকে অল্প ছিল, আজকের মতো শেষ। বলতে বলতে পরের স্টপ চলে এল।

রাশেদ তড়িঘড়ি করে নেমে দিল এক লাফ!

খুশিতে চোখ চকচক করছে। এক ছুটে দৌড়ে নিজের বাড়িতে এসে বউকে ফোন দিল,
তোমার সাথে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম না, টিকিট ম্যানেজ করতে না পারলে এবার বিনা পয়সায় বাড়ি আসব? এই যে, চলে এসেছি। এখন তোমার পালা। শর্তটা মনে আছে তো?

আগেই বাড়িতে চলে আসা বউ ওপাশ থেকে জানাল,
হ্যাঁ হ্যাঁ, মনে আছে। চ্যালেঞ্জে হেরে গেলে পাশের বাসার ভাবীর সাথে আর তুলনা দিতে পারব না, তাই তো? আচ্ছা, ভাবীর সাথে আর তুলনা দেব না। তুমি এত কষ্ট করে চ্যালেঞ্জ জিতেছো।

একটা সুখবর আছে, জানো? নিচতলায় নতুন এক ভাড়াটিয়া এসেছে। সেই ভাবী বলেছে, ভাই নাকি তরমুজ আর মুরগির আড়তদার। এই শুনছো, এই?

ফোনের ওপাশে রাশেদের আর কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া গেল না...

পঠিত ... ৩ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top