ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকা দেখে চরম মানসিক ও শারীরিক ধাক্কা খেয়ে কোমায় চলে গেছেন রাজধানীর এক বাসিন্দা। প্রতিদিনের যানজট, হর্ন, ধুলো, রিকশার সাথে সিএনজির প্রেম-সংঘর্ষ আর বাসের হেলপারদের গলা ফাটানো ডাকের মধ্যে বড় হওয়া এই নাগরিক হঠাৎ করেই ঢাকার রাস্তা ফাঁকা দেখে নিজের মস্তিষ্ককে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি।
ঘটনাটি ঘটেছে ঈদের সকালে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসা থেকে বের হয়ে তিনি প্রথমে রাস্তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন। এরপর একবার ডান দিকে, একবার বাম দিকে তাকিয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন এটি সত্যিই ঢাকা কিনা। মিনিটখানেক পর তাকে বলতে শোনা যায়,এইটা কি মিরপুর, নাকি আমি ভুল করে কোনো বিদেশে আইসা পড়ছি? এরপরই তিনি হালকা হাসি দেন, দুই হাত আকাশের দিকে তোলেন এবং নাটকীয় ভঙ্গিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা জানান, ফাঁকা ঢাকা দেখার মতো বিরল ও অবিশ্বাস্য দৃশ্য তার ব্রেন নিতে পারেনি। এক ডাক্তার বলেন,এই রোগীর ব্রেন বহু বছর ধরে শুধু জ্যাম, সিগন্যাল না মেনে গাড়ি ঢোকা, উল্টোপথে বাইক আর অকারণে হর্ন এসবের মধ্যে অভ্যস্ত ছিল। হঠাৎ রাস্তাগুলো ফাঁকা দেখে তার ব্রেনের রাস্তাগুলোও সাময়িকভাবে ফাঁকা হয়ে গেছে। সেই শক থেকেই কোমা।
রোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি প্রতিদিন অন্তত একবার করে ঢাকায় আর থাকা যাবে না বললেও কোথাও যাননি। বরং জ্যামে বসে বসে ফুচকা, ফ্ল্যাট, ফুটপাত, ফ্লাইওভার সবকিছু নিয়েই দর্শন কপচাতেন। এমন একজন মানুষ হঠাৎ গাড়িহীন রাস্তা, শব্দহীন মোড়, ফাঁকা বাসস্ট্যান্ড দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বেন, তা তারা কল্পনাও করেননি।
ঘটনার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ঢাকাবাসী ফাঁকা রাস্তা দেখেও আর উত্তেজিত হচ্ছেন না, বরং ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ বাসার বারান্দা থেকে নিচে তাকিয়ে নিজেদের শান্ত রাখার জন্য বিড়বিড় করে বলছেন, “কিছুক্ষণ পর ঠিকই জ্যাম লাগবে, কিছুক্ষণ পর ঠিকই জ্যাম লাগবে।”
এদিকে নগর বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, ঢাকার মানুষের জন্য ফাঁকা রাস্তা একটি অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন,যে শহরে ১৫ মিনিটের রাস্তা যেতে দেড় ঘণ্টা লাগে, সেখানে হুট করে ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া নাগরিকদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলে। তারা মনে করতে শুরু করে জীবনে কিছু একটা ভুল হচ্ছে।
রোগীর এক বন্ধু জানান, কোমায় যাওয়ার আগে ভাইটি নাকি শেষবার বলেছিলেন, আজকে কোনো হর্ন নাই, কোনো জ্যাম নাই, এ জীবন রাখি কেমনে! এরপরই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।
বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন, আর ডাক্তাররা ধীরে ধীরে তাকে সুস্থ করতে পাশে হালকা হর্ন, দূর থেকে ভেসে আসা রিকশাওয়ালার ঝগড়ার মতো এমন পরিচিত ঢাকাই শব্দ শোনানোর চেষ্টা করছেন। চিকিৎসকরা আশাবাদী, দ্রুতই তার জ্ঞান ফিরবে। তবে পুরোপুরি সুস্থ করতে হলে ঈদের ছুটি শেষে তাকে একদিনের জন্য মহাখালী, ফার্মগেট বা মিরপুর ১০ নম্বরে নিয়ে গিয়ে অন্তত আড়াই ঘণ্টা জ্যামে বসিয়ে রাখতে হতে পারে।


