চমকদার দাঁতের মাজন

২৭৩ পঠিত ... ১৪:৫৬, মার্চ ০১, ২০২৪

429779398_362491163359421_3864934588945340365_n

ফিরছিলাম।

রাস্তায় বিক্রি হচ্ছে 'চমকদার দাঁতের মাজন'। দাঁত আমার হলুদ আছে তাও কম দিনের না। হলুদ দাঁত দিয়ে আমার যে চলে যাচ্ছিল না, তা না। খাচ্ছিলাম, কুলকুচি করছিলাম, শিরশিরে ছিল না। তবু রঙ তো হলুদ!

মাজনঅলা আমাকে পেয়ে খুশি। পাঁচ মিনিটে দাঁত অর্ধেক শাদা হয়ে যাবে, পাঁচ দিনে বাকি অর্ধেক।

আমি ফুটপাতেই দাঁত মাজলাম। মাজনঅলা আয়না দেখালো। দাঁত ঝকঝকে বটে!

পরের পাঁচ দিন অহোরাত্রি দাঁত মাজি। কী তামশা! দাঁত ফকফকা!

১০ টাকার মাজনে ১০ লাখ টাকার কাজ। আমি দিলখুশ মানুষ। মাজনঅলাকে গিয়ে ১০০ টাকা বকসিস দিয়ে আসলাম।

অফিসের সবাইকে বললাম চমকদার দাঁতের মাজনের কথা। তাদের কেউ কেউ কিনল। পাঁচ দিনে দাঁত চমকালো!

বন্ধুদের সবাইকে বললাম চমকদার দাঁতের মাজনের কথা।

তাদের কেউ কেউ কিনল। পাঁচ দিনে দাঁত চমকালো!

কিন্তু মাস খানেক যেতে না যেতেই আমার দাঁত নড়তে শুরু করল৷ মাড়ির একটা দাঁত হাড় চিবাতে গিয়ে খসে গেল। সামনের একটা দাঁত ঝুলতে শুরু করল। অহোরাত্রি নয়টা দাঁতে ব্যথা।

আমি মাজনঅলার কাছে ছুটে গেলাম। মাজনঅলা তখনও মাজন বেচছে। অনেক ভিড় তাকে ঘিরে। সবাই তাদের দাঁতের উন্নয়ন চায়। চকচক উন্নয়ন। সবাই দাঁত মাজছে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে।

আমি বললাম এইটা ভুল উন্নয়ন। এইভাবে দাঁত চকচকাবে শুধু। দাঁত টিকবে না!

আশ্চর্য! ওরা আমাকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে বাতাসে মিলিয়ে দিলো। আমি হয়তো ওদের কামড়ে দিতে পারতাম, কিন্তু ততো দিনে আমার কোনো দাঁতই অবশিষ্ট ছিল না!

 

২৭৩ পঠিত ... ১৪:৫৬, মার্চ ০১, ২০২৪

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top