হ্যাপি ফ্লাটিং ডে

৬৯ পঠিত ... ১৬:৪১, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

 

১.

আজ ফ্লার্টিং ডে। জহিরের মতে, এটি বছরের সবচেয়ে ‘ক্রিঞ্জ’ বা বিরক্তিকর দিন। জহিরের কাছে ফ্লার্ট করা মানে হলো শব্দের অপচয় করে নিজেকে জোকার প্রমাণ করা। কিন্তু অফিসের কিউবিকেলে বসে সে যখন দেখে তার কলিগরা শায়লার সাথে ‘স্মুথলি’ ফ্লার্ট করছে, তখন জহিরের প্রচণ্ড মন খারাপ হয়। জহিরের ইচ্ছে করে নির্মলেন্দু গুণের স্টাইলে বুক ফুলিয়ে বলতে, 

আবার যখনই দেখা হবে, আমি প্রথম সুযোগে

বলে দেব স্ট্রেটকাট: 'ভালোবাসি'। 

 

কিন্তু বাস্তবে শায়লা সামনে এলে জহিরের মুখ দিয়ে বড়জোর বের হয় ‘চা খেয়েছেন?’ বা ‘বৃষ্টি হতে পারে’।

 

২.

শায়লা জহিরকে একটা টকটকে লাল পাঞ্জাবি উপহার দিয়েছিল। জহির ভেবেছিল আজ সেটা পরেই শায়লার সাথে দেখা করতে যাবে। কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়াতেই জহিরের মনে হলো, লাল পাঞ্জাবিটা সে পরেনি, বরং কোনো এক মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালের ঢিলেঢালা অ্যাপ্রোন পরিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাবির ঝুলে থাকা হাতাগুলো দেখে মনে হচ্ছে, জহির বুঝি এইমাত্র রক্তদান কর্মসূচি শেষ করে ফিরল। নিজের উচ্চতা আর এই লাল রঙের বৈপরীত্য দেখে জহিরের মনে হলো আজ যদি সে শায়লার সামনে যায়, শায়লা রোমান্টিক হওয়ার বদলে হয়তো জিজ্ঞেস করবে, জহির ভাই, প্রেসার কি লো হয়ে গেছে?

জহির আর গেল না। তার কাছে নিজের আইডেন্টিটি রক্ষা করা শায়লার সাথে ডেটে যাওয়ার চেয়েও জরুরি মনে হলো।

 

৩.

জহির মাঝেমাঝে ভাবে, প্রেম যখন হলোই না, তখন অন্তত একটা ট্র্যাজিক হিরো হওয়া যাক। শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’ হওয়ার জন্য সে কয়েকদিন দাড়ি কাটল না। ভাবল, সাদা পাঞ্জাবি আর উসকোখুসকো চুলে তাকে এক বিবাগী প্রেমিক লাগবে।

কিন্তু সমস্যা বাধল দাড়ি নিয়ে। জহিরের গালে দাড়ি ঠিক গজায় না, বরং গুনে গুনে সাতটা দাড়ি এদিক-সেদিক ত্যাড়াব্যাড়া হয়ে বের হয়ে আছে। আয়নায় নিজেকে দেখে জহিরের মনে হলো, দেবদাস তো দূর কি বাত, তাকে দেখে মনে হচ্ছে প্রাইমারি স্কুলের কোনো বাচ্চা নাটক করার জন্য আঠা দিয়ে গালে কিছু খড়কুটো লাগিয়ে রেখেছে।

জহির ভাবল, এই চেহারা নিয়ে যদি সে রাস্তায় নামে, তবে পুলিশ তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে ধরবে না, বরং মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করবে, ‘খোকা তোমার বাবার নাম কী? মেলা থেকে কি হারায় গেছ?’ সাতটা দাড়ি নিয়ে আর যা-ই হোক,দেবদাস হওয়া যায় না।

 

৪.

অফিসের লাঞ্চ ব্রেকে জহির দেখল, তার কলিগরা শায়লার চারধারে মৌমাছির মতো ভনভন করছে। কেউ শায়লার চুলের প্রশংসা করছে, কেউ তার কি-বোর্ড টাইপ করার শব্দের মাঝেও মিউজিক খুঁজে পাচ্ছে। জহিরের ভাষায় এগুলো স্রেফ সিম্পিং। জহির মনে মনে বলে, আমি তো নির্মলেন্দু গুণের 'শুধু তোমার জন্য' মুখস্থ করে রেখেছি শায়লা, কিন্তু তোমার ওই কলিগদের হাসির চোটে আমার শব্দগুলো গলার ভেতরেই আত্মহত্যা করছে।

জহির ক্যাফেটেরিয়ার কোনায় বসে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া শিঙাড়া চিবোতে চিবোতে ভাবে  ফ্লার্টিং ডে তাদের জন্য যাদের উচ্চতা ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি আর যাদের দাড়ি দাউ দাউ করে গজায়। জহিরদের জন্য কেবল আছে ধূসর পাঞ্জাবি আর বিড়বিড় করে বলা কিছু অব্যক্ত কবিতা।

 

৬৯ পঠিত ... ১৬:৪১, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top