লেখা: ফাহিম আনাম মেঘ
রমজান আসলে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়া বাংলাদেশের আদি আসল ঐতিহ্য। গতকাল বুধবার সকালে ৩০ টাকা দরে এক হালি লেবু পাওয়া গেলেও বিকেল হতে না হতেই সেটি ৮০ টাকা হয়ে যায়। বস্তায় থাকা একই লেবু সকালে ৩০ টাকা থাকলেও বিকেলে কীভাবে ৮০ টাকা হয়ে গেলো সেটা কেউ জানে না! এই অবস্থায় জনগণ তীব্র দাবি জানিয়েছে যে তাদের রমজান উপলক্ষে অন্যান্য কার্ডের মতো ইফতার কার্ড নামে একটি নতুন কার্ড প্রয়োজন।
ফ্যামিলি কার্ড, বেকার ভ্রাতা কার্ড, ভিআইডি কার্ড ইত্যাদি অনেক কার্ডের ব্যাপারে আমরা আগে শুনে থাকলেও এ মুহূর্তে ইফতার কার্ড প্রাসঙ্গিক। এ কার্ড দিয়ে ইফতার কেনা থেকে শুরু করে আরো বিশেষ কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে। ইফতার কার্ডের কয়েকটি স্তর থাকবে
১. দামি ইফতার কেনার ডিসকাউন্ট সুবিধা
২. নিত্যপণ্যের দামে ছাড় পাওয়া
৩. ইফতারের মূল ফল-ফলাদি যেমন, লেবু বা খেজুরে অভাবনীয় ছাড়
এই কার্ড দিয়ে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো জায়গায় ইফতার কার্ড দেখালেই এসব সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে এসব সুবিধা শুধু রমজান পর্যন্ত মানে এক মাসের জন্যই প্রযোজ্য।
পাল্টাপাল্টি দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজ। তারা বলেন, রোজাদারদের একটি মাস দামি খাবার কেনার অনুভূতি দিতেই তারা এভাবে সস্তা জিনিসেরও দাম বাড়িয়ে বড়লোকি জিনিস বানিয়ে দেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কায়দা করে এত ভালো কাজ করার প্রতিদান হিসেবে তারাও একটি কার্ড চান। তাছাড়া তাদের অবদান ইফতার কার্ডের সামনে ম্লান হয়ে যায়। তাই তাদের কথা মাথায় রেখে তাদের জন্য নতুন একটি কার্ডের কথাও চিন্তা করা হচ্ছে।
আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে ঈদ স্পেশাল কার্ডও আসতে পারে। ঈদের কেনাকাটা, ভ্রমণ কি দেশে না বিদেশে এইসব বিষয় রেখে কার্ডের স্তর সাজানো হতে পারে। এতসব কার্ডের সুবিধার আশায় বুক বাঁধছে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ।


