ডিপ্রেশনে ভুগছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা, বহন করতে চান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের খরচ

পঠিত ... ২ ঘন্টা ০ মিনিট আগে

দেশের ব্যবসায়ী সমাজ বর্তমানে গভীর মানসিক সংকটে ভুগছে বলে জানা গেছে। কারণ সদ্য শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের খরচ এখনও বহন করতে না পারায় তারা নিজেদের সামাজিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ মনে করছেন। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেখানেই যুদ্ধ, সেখানেই পণ্যের দামে সহানুভূতিশীল সমন্বয় করে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে আমাদের ব্যবসায়ীদের। বিশেষ করে ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের সময় চাল-ডাল-তেল-নুন থেকে শুরু করে বাচ্চাদের চকলেট পর্যন্ত মানবিক দামে উন্নীত করে যুদ্ধের ব্যয়ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তারা। যদিও ঐ দুই দেশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে আমাদের বাজারদরই ছিল প্রকৃত প্রমাণ।

কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত বাজারে তেমন উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি ঘটেনি এতেই হতাশ ব্যবসায়ী মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাইকারি ব্যবসায়ী ভাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দাম না বাড়াইলে শইলে একটা ভাব আসে না ভাই। যুদ্ধ হইতেছে, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকমু? মানবিকতা কই? Where? তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে আলু ও পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব তারা দিয়েছিলেন শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সাথে সংহতি  জানাতে। কিন্তু কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা তাৎক্ষণিকভাবে রাজি না হওয়ায় পুরো ব্যবসায়ী সমাজেই নেমে এসেছে বিষণ্নতা।

এদিকে কয়েকজন সিনিয়র ব্যবসায়ী সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, যুদ্ধের খবর প্রচারের সাথে সাথে যেন ‘দাম সমন্বয় প্রজ্ঞাপন’ জারি করা হয়। এতে করে ব্যবসায়ীদের মনোবল চাঙ্গা থাকবে এবং তারা আন্তর্জাতিক সংকটে সক্রিয় অবদান রাখতে পারবেন। এক তরুণ ব্যবসায়ী বলেন, আমরা তো গ্লোবাল সিটিজেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ হইলে ঢাকার বাজার কেমনে স্থির থাকে? এইটা তো আমাদের ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে। 

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ-সংকট-ডলার-সংকট ইত্যাদি উপলক্ষ্যে দাম বাড়াতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় হঠাৎ করে স্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য দ্রুত কোনো আন্তর্জাতিক ইস্যু না এলে অন্তত স্থানীয় কোনো ‘হালকা উত্তেজনা’ তৈরির পরামর্শও দিয়েছেন কেউ কেউ। সবশেষে ব্যবসায়ী সমিতির এক প্রতিনিধি জানান, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তিই চাই। তবে যুদ্ধ হইলে দায়িত্বও নিতে চাই। জনগণের পকেটের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা পাঠানো আমাদের নৈতিক কর্তব্য।

পঠিত ... ২ ঘন্টা ০ মিনিট আগে

Top