মুদ্রাস্ফীতির বাজারে টাকা দিবস

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে

টাকা! শব্দটা শুনলেই পকেটে একধরণের শিরশিরানি অনুভূত হয়, আর যদি পকেট খালি থাকে তবে সেই শিরশিরানি গিয়ে ঠেকে কলিজায়। আপনি যে ৪ মে-র কথা বললেন, ওটা হয়তো আপনার পকেটের খরার তারিখ হতে পারে, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় টাকা দিবস আসলে ৪ মার্চ। ১৯৭২ সালের সেই দিনে প্রথমবার বাংলাদেশের নিজস্ব ১ টাকা আর ১০০ টাকার নোট বাজারে এসেছিল। সেই নোটগুলোতে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিল,অর্থাৎ, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা যে নিজেদের পকেটেও স্বাধীন হয়েছি, তার প্রথম স্বীকৃতি।

এখন ভাবুন তো, আমাদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু যে বস্তু, তার জন্য মাত্র একদিনের সেলিব্রেশন কি যথেষ্ট? আমরা তো প্রতিদিন সকাল-বিকাল টাকা দিবস পালন করি!কখনো রিকশাওয়ালার সাথে দুই টাকা নিয়ে ক্যাঁচক্যাঁচ করে, আবার কখনো মাস শেষে এটিএম বুথের সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এই দিবসটা আসলে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এটা হলো সেই মরীচিকা, যা মাসের ১০ তারিখের পরেই অদৃশ্য হয়ে যায়। আমাদের মানিব্যাগগুলো তখন কোনো জাদুঘরের চেয়ে কম কিছু মনে হয় না, যেখানে শুধু পুরনো বাস টিকিট আর ভিজিটিং কার্ডের প্রদর্শনী চলে!

যাই হোক, দিবস যখন আছে, তখন শুভেচ্ছা বিনিময় তো মাস্ট! এই টাকা দিবসের কড়কড়ে শুভেচ্ছা জানান আপনার সেই সব পাওনাদার বন্ধুদের, যারা আপনার পাওনা টাকার কথা বললে মেসেজ সিন করে না,তাদের মনে করিয়ে দিন যে টাকা শুধু জাদুঘরে রাখার জিনিস নয়, ফেরত দেওয়ারও জিনিস।

শুভেচ্ছা জানান আপনার অফিসের বসকে, যিনি মুদ্রাস্ফীতির বাজারে আপনার বেতনটাকে স্ট্যাচু বানিয়ে রেখেছেন; তাকে বিনয়ের সাথে বলুন, স্যার, টাকা দিবসে টাকার সম্মান রক্ষা করতে অন্তত কয়েকটা নোট বেতন হিসেবে বাড়িয়ে দিন!
আর সবশেষে, শুভেচ্ছা জানান আপনার প্রিয় মানুষটিকে,যার গিফটের আবদার মেটাতে গিয়ে আপনার মানিব্যাগ এখন আইসিইউ-তে। তাকে বুঝিয়ে বলুন যে, টাকা দিবসের শ্রেষ্ঠ গিফট হলো টাকা জমানো শিখিয়ে দেওয়া (যদিও আমরা জানি এটা কোনো কাজে আসবে না)!

শুভ টাকা দিবস! টাকা আসুক, টাকা থাকুক, আর মাঝেমধ্যে আমাদের পকেটেও উঁকি দিক।

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি


Top