নির্বাচনের পর দিন ভোরে জানা গেলো সুস্মিতার মামা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। এই মামা জেল-জুলুম সয়েও কীভাবে নিরাপোষ রয়ে গেলেন; তার একটি হৃদয়স্পর্শী গল্প লিখে আনন্দ-অশ্রু বিসর্জন করতে থাকে সুস্মিতা। ফেসবুকে এমপির ভাগ্নি হিসেবে সুস্মিতার একটা পরিচিতি কয়েকঘণ্টার মাঝেই দাঁড়িয়ে যায়।
কে একজন বেরসিক এসে জিজ্ঞেস করে, আপনার মামার সংখ্যা নেহাত কম নয়। একজন উপদেষ্টা আপনার মামা ছিলেন। আর হাসিনার সময়ে আপনার আরেক মামার অনেক গল্প শুনেছি। সুস্মিতা রেগে যায়, চুপ কর জামাতি কোথাকার!
সুস্মিতার সখি তন্বী তরান্বিতা এসে বলে, জামায়াত, ইয়াক। ব্লক করে দাও। শিশুকালে জুতোর অভাবে খালিপায়ে দৌড়াদৌড়ি করলে শিশুদের শরীরে হুকওয়ার্ম ঢুকে পড়ে। ফলে বড় হলেও বমি বমি ভাবটা রয়ে যায়। উন্নয়ন বসন্তে ইমেলদা মার্কোসের মতো অনেক জোড়া জুতো হয়েছে; কিন্তু সেই আকালের সন্ধানের কালে ঢুকে পড়া হুকওয়ার্মের সাংস্কৃতিক দ্যোতনা রয়ে যায়।
হাসিনার ঔদার্যে পূর্বাচলে প্লট পেয়েছিলেন সুস্মিতার বাবা। মেট্রোরেল প্রকল্পের ধুলোমুঠি সোনামুঠি করে এমন একটা অবস্থা হয়েছিলো যে সুস্মিতা আজ দার্জিলিং কি কাল কাশ্মীর, আজ লাদাখ তো কাল রাজস্থানে চেক ইন দিত। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের মেয়রের ভাগ্নের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। রাওয়া ক্লাবে চেতনার গায়ে হলুদ থেকে সেনাকুঞ্জে বিবাহ পরবর্তী রিসেপশন; এমনকি হানিমুনে সিঙ্গাপুরে বাঞ্জি জাম্পিং এর কালে লাল সবুজ পতাকার টিশার্ট পরে সুস্মিতা হয়ে উঠেছিলো উন্নয়নের পোস্টার গার্ল।
৫ অগাস্টের পর সুস্মিতার বাবা দাড়ি ছেড়ে দিয়ে পাড়ার মসজিদে গিয়ে জামায়াতের রুকনের ভঙ্গিতে সেজদা দিয়ে আর উঠতেই চান না। মহল্লায় সুনাম ছড়িয়ে পড়ে পরহেজগার মওলানা হিসেবে। মেয়র মামা জেলে চলে যাওয়ায়; সুস্মিতা তার বান্ধবী তন্বী তরান্বিতাকে গিয়ে বলে, এই তুই তো জুলাই মাসে কুসুম কুসুম প্রতিবাদ করেছিলি; এখন তোর জুলাইকে একটু আমার জুলাই বলে ডাকি!
স্বামী মসজিদে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ে আছে দেখে; সুস্মিতার মা এক উপদেষ্টার কাছে গিয়ে বলে, আমি আপনার গ্রামেরই মেয়ে, আপনাদের পেয়ারা গাছে ঢিল দিয়ে পেয়ারা চুরি করেছি অনেক। আমাকে মাফ করে দেন। এলাকার বোন হিসেবে উপদেষ্টা ভদ্রতা প্রকাশ করলে; ঐদিন সন্ধ্যায় সুস্মিতা ফেসবুকে লিখে ফেলে, আজ ভাইবোনের দেখা হয়েছিল। উপদেষ্টার সঙ্গে সুস্মিতার মায়ের ছবি; ফেসবুক জগতে নতুন পরিচয়ে উদ্ভাসিত করে সুস্মিতাকে।
তন্বী তরান্বিতা এসে বলে, বিএনপিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে কথা বলার কিছু লোক দরকার। তুই তো পট করে যাকে তাকে রাজাকার বলতে পারিস। তোকে আমাদের লাগবে। ফেসবুকে সুস্মিতার মা ইউনূসের লোক, সুস্মিতার বাবা ডা শফিকুর রহমানের লোক আর সুস্মিতা তারেক রহমানের লোক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
সুস্মিতা বিএনপির এক নেতার আলোচনা সভার পরে তাকে গিয়ে বলে, আমার মা আপনার এলাকার মেয়ে। শুনেছি ছোটবেলায় আপনাদের বরই গাছে ঢিল দিয়ে বরই চুরি করেছে। আম্মা আজকে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু ঐ লজ্জায় আসেনি। বিএনপির নেতা বলেন, তুমি তো আমার এলাকার বোনের মেয়ে। একদিন উনাকে নিয়ে এস।
সুস্মিতা ফিরে এসেই ফেসবুকে বিএনপি নেতার সঙ্গে ছবি দিয়ে বলে, মামার সঙ্গে দেখা হলো। সেই মামা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে সুস্মিতা ইন্ডিয়ায় তার পলাতক স্বামীকে ফোন করে বলে, চলে এস ডার্লিং; বাকিটা আমি দেখব।
ফেসবুকে অনেকদিন পর সুস্মিতা তার হাবির সঙ্গে ছবি দেয়। নিয়নের হলুদ আলোয় হাবি বাইক চালাচ্ছে; আর পেছনে দুই বাহু প্রসারিত করে সুস্মিতার রাজ্যজয়ের হাসি। পোস্টের ক্যাপশনে লিখে দেয়, উই হ্যাভ আ প্ল্যান।



পাঠকের মন্তব্য