কোরবানি ঈদ মানেই মাংস খাওয়ার মহোৎসব। টানা কয়েক দিন ধরে মাংস খাওয়াটা এ সময় বেশিরভাগ মানুষের জন্যই কমন ব্যাপার। তবে ঈদের কয়েক দিন টানা মাংসের ভুনা, রেজালা, কালাভুনা, কাচ্চি, নেহারি ও ঝুরা মাংস খাওয়ার পর অবশেষে এক ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন রাজধানীর এক ভোজনরসিক। তার দাবি, এখন পানি খেলেও মনে হচ্ছে তিনি নেহারি খাচ্ছেন।
জানা যায়, গতকাল দুপুরে তিন গ্লাস পানি খাওয়ার পর হঠাৎ করেই তিনি চিৎকার দিয়ে ওঠেন, এই নেহারিতে একটু লেবু দাও তো!
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টিকে মজা মনে করলেও পরে দেখা যায়, পরিস্থিতি বেশ গুরুতর। ভদ্রলোক শুধু পানি নয়, প্রায় সব খাবারকেই কোনো না কোনো মাংসের আইটেম হিসেবে অনুভব করছেন।
আমাদের প্রতিবেদককে আবেগঘন কণ্ঠে ভাইটি বলেন, ভাই, শরীর এখনও রেজালা আর নেহারির টাইমজোন থেকে বের হতে পারে নাই। সকালে পালং শাক খেয়ে মনে হইছে ঝুরা মাংস। মাছ খাইতে গিয়া মনে হইছে বিফ স্টেক। এমনকি চা খাইতেও একবার মনে হইছিল হালকা গরুর মাংসের স্যুপ খাচ্ছি।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে তিনি আরও বলেন, কালকে ফ্রিজ খুলে বরফ দেখেও দুই মিনিট তাকায়া ছিলাম। মনে হইতেছিল ফ্যাট জমে আছে।
এদিকে বিশেষ-অজ্ঞরা এই বিরল মানসিক অবস্থার নাম দিয়েছেন স্টেকহোম সিন্ড্রোম।
রাজধানীর স্বঘোষিত খাদ্য-বিশেষজ্ঞ ডা. কাবাব উদ্দিন বলেন, ঈদের সময় এগুলো সিম্পল ব্যাপার। টানা কয়েক দিন অতিরিক্ত মাংস খাইলে ব্রেনে কারেন্ট বেড়ে যায়। তখন ব্রেন আর সাধারণ খাবার চিনতে পারে না। সবকিছুকেই মাংসজাতীয় বস্তু মনে হয়।
তিনি আরও জানান, রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, পানিতে নেহারির ফ্লেভার পাওয়া, ডালকে হালিম মনে হওয়া, আর ফ্রিজের বরফকে চর্বি মনে করা।
এদিকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পুরান ঢাকার এক ব্যক্তি বলেন, আমি গতকাল আপেল খেতে গিয়ে অটোমেটিক বলে বসছি, ভাই, এই গরুর মাংসটা একটু সফট হইছে। পরে বুঝলাম আপেল খাচ্ছি। কী একটা অবস্থা বুঝেন!


