বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম কালজয়ী সিনেমা ফররেস্ট গাম্প। অস্কারজয়ী এই হলিউড ক্ল্যাসিকের প্রধান চরিত্রের সেই বিখ্যাত সংলাপ, Run, Forrest, run! সিনেপ্রেমীদের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে চিরকাল। এবার সেই কালজয়ী চরিত্রটি রূপালি পর্দায় বাঙালি সংস্কৃতির আদলে নিয়ে আসার জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ঢালিউডে। আর চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, এই চরিত্রের জন্য নির্মাতাদের প্রথম এবং একমাত্র পছন্দ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন।
সম্প্রতি রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গাড়িবহরের সামনে নয়নের এক অবিশ্বাস্য স্প্রিন্ট বা গতিময় দৌড়ের পর এই জল্পনা তীব্র হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মাত্র কয়েক সেকেন্ডের সেই ভিডিও ফুটেজটি ইতিমধ্যেই অস্কার-স্তরের সিনেমাটোগ্রাফির দাবিদার বলে মনে করছেন নেটিজেনরা।
সিনেমার ভেতরের খবর, হলিউডের টম হ্যাঙ্কসকে যেখানে ফররেস্ট গাম্প চরিত্রের জন্য মাসের পর মাস কঠোর ডায়েট ও রানিং প্র্যাকটিস করতে হয়েছিল, সেখানে যুবদল নেতা নয়ন কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই ঢাকার জ্যাম-জমাট রাস্তায় যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তা এক কথায় মেথড অ্যাক্টিং-এর চূড়ান্ত উদাহরণ।
ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িবহরের গতি আর নয়নের পায়ের গতি ফিজিক্সের সব সূত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সমান্তরালে এগিয়ে চলেছে। একই সাথে ডান হাতে স্যালুট ধরে রাখা, মুখাবয়বে আনুগত্যের চরম প্রকাশ এবং ফুসফুসের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে স্লোগান দেওয়ার এই মাল্টিটাস্কিং কেবল একজন জাত অভিনেতার পক্ষেই সম্ভব।
নেটদুনিয়ায় ইতিমধ্যেই নয়নকে কাকরাইলের উসাইন বোল্ট বা দৌড় নয়ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। অনেকে আবার মজা করে বলছেন, অলিম্পিকে অ্যাথলেটিকসের ট্র্যাকে নয়ন ভাইকে নামিয়ে দিলে দেশের প্রথম সোনা আসা স্রেফ সময়ের ব্যাপার ছিল।
এক প্রতিক্রিয়ায় নয়ন জানিয়েছেন, তার এই দৌড় কোনো সস্তা প্রচারণার অংশ নয়, বরং এটি তার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আসা এক স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ। তিনি তারেক রহমানকে নিজের হৃদপিণ্ড বলে উল্লেখ করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা অবশ্য এখনও গবেষণা করছেন যে, হৃদপিণ্ড কীভাবে শরীরের বাইরে এসে গাড়ির সামনে অত জোরে দৌড়াতে পারে।শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশি এই অ্যাডাপশনে ফররেস্টের চিংড়ি ব্যবসার বদলে দেখানো হতে পারে কাকরাইল মোড়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি। মূল ছবির সেই বিখ্যাত পালক উড়ে যাওয়ার দৃশ্যের পরিবর্তে এখানে হয়তো দেখা যাবে প্রটোকলের গাড়ির হাওয়া।
পরিচালকরা মনে করছেন, নয়নের এই বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে কোনো গ্রাফিক্স বা স্টান্টম্যানের প্রয়োজন হবে না। দর্শক প্রেক্ষাগৃহে বসে শুধু রোমাঞ্চ নিয়ে দেখবে, নেতা যাচ্ছেন গাড়িতে, আর কর্মী যাচ্ছেন রানিংয়ের ওপর!
চলচ্চিত্রটি কবে নাগাদ ফ্লোরে গড়াবে তা নিশ্চিত না হওয়া গেলেও, সিনেমাটির প্রি-বুকিংয়ের জন্য যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখনই ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।


