ঈদের পর টানা তিন দিন গরুর রেজালা, কোরমা আর নেহারি খেতে খেতে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে আর মাংস খাবো না, সবজি নিয়ে আয়, এমন ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন মিরপুরের এক বাবা। তবে পারিবারিক ইতিহাসে ভয়াবহ মোড় আসে, যখন তার ছেলে ‘সবজি’ শব্দের ভিন্ন অর্থ ধরে সরাসরি ডিলারকে ফোন দিয়ে বসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে বাবা কিছুটা ক্লান্ত কণ্ঠে ছেলেকে বলেন, একটু সবজি নিয়ে আয় বাবা, আর মাংস ভালো লাগতাছে না।
এই নির্দেশ পাওয়ার মাত্র ১৭ সেকেন্ডের মাথায় ছেলেটি তার বহুদিনের পরিচিতইসবজি ডিলার-কে কল দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফোনে তাকে বলতে শোনা যায়, ভাই, বাসায় সিনিয়র লেভেল থেকে সবুজ সংকেত পাইছি। ফুল প্যাকেজ নিয়ে আসেন।
ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট পর বাসার সামনে মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত এক রহস্যময় ব্যক্তি এসে হাজির হন। এ সময় বাসার দরজা খুলেই বাবা প্রথমে হতবাক, পরে ক্ষুব্ধ এবং সবশেষে জুতাবিদ্যায় পিএইচডিধারীর মতো আচরণ করেন।
বর্তমানে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছেন। আত্মগোপন থেকে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ভাই, আমি তো সবজি বলতে একটা জিনিসই বুঝি। আব্বু যদি লাউ, পটল বা ঝিঙা চাইত, তাহলে স্পেসিফিক করে বলা উচিত ছিল। মিসলিডিং ইনস্ট্রাকশন আর মাসল মেমরির কারণে আমি চিন্তাই করি নাই। ‘সবজি নিয়ে আয়’ শুনেই হাত অটোমেটিক কল বাটনে চলে গেছে।
এদিকে ছেলেটির বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাংস খেয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত লাগছিল, তাই আমি সিম্পল একটু নিরামিষ আইটেম খেতে চেয়েছিলাম। এখন হারামজাদার জন্য মহল্লায় মানুষ আমাকে দেখলে হাসে।
ঘটনার পর স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা গেছে। এক তরকারি বিক্রেতা বলেন, আমরা এত দিন ধরে আলু-বেগুন বিক্রি করে আসতেছি। এখন নতুন প্রজন্ম সবজির সংজ্ঞাই বদলাইয়া ফেলছে। কী দিন আইল, হায়রে মানুষ!


