কেউ খেলায় না নেওয়ায়, নিজের দেশেই বো*মা মারলেন কিম জং উন

পঠিত ... ২ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে

দুই দিন ধরে পৃথিবীর মানচিত্র জুড়ে বর্তমানে বোমা বোমা খেলায় উত্তেজনা তুঙ্গে। একপাশে ইজরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্র, অন্যপাশে ইরান, দুই পক্ষ এমনভাবে মিসাইল ছুড়ছে যেন মনে হচ্ছে, পৃথিবীর মানচিত্র জুড়ে এক বিয়েবাড়ির আয়োজন আর মিসাইলগুলো আতশবাজি।

প্রভাব বিস্তার, রেজিম চেঞ্জ, কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব এসবকিছু মিলিয়ে যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক নয়, ইগোরও। বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার অঢেল ডলার আর ইরানের স্ট্র্যাটেজিক ধৈর্যের লড়াইয়ে কে জিতবে তা সময়ই বলবে। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কেউ কারও চেয়ে কম যাচ্ছে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ করতে এসে আমেরিকার বিজয়ের চেয়ে পরাজয়ের সংখ্যাই বেশি।

এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন খবর এসেছে পূর্ব এশিয়া থেকে। বোম্বাস্টিং খেলায় ডাক না পেয়ে গভীর অভিমানে নিজের দেশেই বোমা মেরে বসেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বোমা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান মেইন ম্যাচে আমন্ত্রণ না পেয়ে কৌশলগত এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই যদি মাঠ বানানো যায়, তাহলে ডাকের অপেক্ষা কেন?

সেনাবাহিনীকে কিম জং উন নির্দেশ দেন এমনভাবে বোমা মারতে হবে যাতে প্রথম দেখায় মনে হয় এটি বাইরের কোনো শক্তির কাজ। উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিকভাবে সন্দেহের তীর যেন ইজরায়েলের দিকে কিংবা আমেরিকার দিকে যায়, আর এই সুযোগও উত্তর কোরিয়া বৈধভাবে মধ্যপ্রাচ্যে মিসাইল পাঠাতে পারে।

কিন্তু ঝামেলা বেঁধে যায় অন্য জায়গায়। পৃথিবীতে অন্য সব দেশের মিসাইলের মাথা গোলাকার আর উত্তর কোরিয়ার মিসাইল সূচালো। যেই না মিসাইল ছুড়েছে সাঁই সাঁই করে রাডারে ধরা পড়েছে। শেষ পর্যন্ত যখন বুঝতে পেরেছে এই মিসাইল আসলে অনেক দূরে ঘুরে এসে আবার উত্তর কোরিয়ায় আসার আগেই অন্য কোনো দেশ ভূপাতিত করার সুযোগ পাবে, উত্তর কোরিয়া নিজেরাই সেটাকে বিকল করে দেশের সীমানায় ফেলে দেয়। ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও মূল উদ্দেশ্যটা পূরণ হতে হতেও শেষ পর্যন্ত বিফল।

এদিকে সুপ্রিম লিডারের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সরাসরি বন্ধু রাষ্ট্র ইরানকে সাহায্য করতে গেলে নিজেকেই টার্গেট বানানোর ঝুঁকি ছিল উত্তর কোরিয়ার। তাই কৌশল বের করেছিল, আগে নিজে আক্রান্ত হই, তারপর বলি দেখো, আমরাও খেলায় আছি। একবার মিসাইল কোরিয়ার মাটিতে পরলেই সাঁই সাঁই করে হাজার হাজার ব্যালিস্টিক, সুপারসনিক মিসাইল দিয়ে মৌমাছির মতো হামলা করার প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিল কিম জং উনের সেনাবাহিনী।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেশ মজা পেয়ে গেছে এই ঘটনায়। উত্তর কোরিয়াকে খেলায় নিচ্ছে না দেখে কতটা অভিমান করলে কেউ নিজের দেশে নিজেই মিসাইল ছুড়তে পারে, এই ভেবে নেট দুনিয়ায় হাসাহাসি হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন এটা মূলত একটা ভূরাজনৈতিক FOMO।

কোরিয়ান বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধ আর শুধু অস্ত্রের নয়, উপস্থিতিরও। মাঠে না থাকলে ইতিহাসে নাম ওঠে না। আর এত এত অস্ত্র মজুত করেই বা কী হবে যদি কাজে লাগানো না যায়। শুধু আমেরিকাই কি আক্রমণ করার যোগ্যতা রাখে? এত কিছুর পর কিম জং উন অবশ্য নির্ভার, এটা নাকি ট্রেলার ছিল! সিনেমা এখনো বাকিই আছে।

পঠিত ... ২ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে

Top