এলএসডি: লোডস অফ সুইফট ডেভেলপমেন্ট

৮২৮ পঠিত ... ১৫:০১, জুন ০৩, ২০২১

LSD-maskawath

এ নেশা প্রাণঘাতী নেশা। কেরানির ছেলে ইতিহাসান বোকসেদ, খাসিব হুক; সবুজ লুঙ্গি খুলে জিনস-লাল টিশার্ট পরে চতুর সুই হয়ে ঢুকে পড়ে কালচারাল ভটভটি আপাদের আড্ডায়; স্বপ্ন তাদের বুদ্ধিফাল হয়ে বের হবে। শিশুকালে তৃতীয় শ্রেণীর সরকারি কোয়ার্টারের গবাক্ষপথে তাকিয়ে দেখেছে চৌধুরী বাড়ির রাস-উতসব; দেখেছে চৌধুরীদের ছেলেমেয়েরা কতনা রঙ্গে কাঠি লজেন্স চুষেছে। ইতিহাসান বোকসেদ অভিমান করে জিজ্ঞেস করেছে, ভটভটি আপা; আমরা আর কত বড় হবো; মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিলো, বড় হও বোকসেদ; আমি তোমাকে রঙ্গভবনের পদ্ম-পুকুর দেখাতে নিয়ে যাবো। খাসিব হুক জিজ্ঞেস করে, বোকসেদ আমরা আর কত বড় হবো! মাথার ওপরে ছাদ ফুঁড়ে আকাশ দেখা গেলে; তবে কী রঙ্গভবনের দাওয়াত পাবো।

উন্নয়নের পাথর যুগে এসে 'টেন পার্সেন্ট গ্লো ক্রিম' পিউপাপিয়া আপাদের আঁচল ধরে তারা শাকা ক্লাবে প্রবেশের সুযোগ পায়। সেখানে শুধুই শত কোটি টাকার গল্প আর 'শাক দিয়ে মাছ ঢাকা'র নৈশভোজ। সুইপারপট্টি মিলিওনিয়ারেরা সেখানে বসে 'রূপকল্প ২১২১' নিয়ে আলোচনা করে। বাল্টন হিরক শাকা ক্লাবের প্রক্ষালন কক্ষ ক্লিন করে এসে গোল টেবিলের পাশে দাঁড়ায়। কোবতে বলে মুগ্ধ করে সবাইকে, 'বলো তো ঢেলে দিয়ে আসি জঞ্জাল সুশীলের বারান্দায়; যারা এই চোরক রাজ্যের ভিন্নমত ভাই।;

ভটভটি আপা বলে, জিজ্ঞেস করার কী আছে; জানো না; একদল একমত; চোরের খনির জয়রথ।

খাসিব হুক প্রস্তাব রাখে, হীরকাব্দে কিছু ইতিহাসের বই বেচে বোকসেদ হয়ে উঠতে পারে চালাকসেদ। সরকারি আপিসে পার্টির নাম ভাঙ্গিয়ে চাকরিতে চেয়ার বাগিয়ে বসা ধামাচাপা আপা বলে, নিশ্চয়ই; আমি বলে দেব ইতিহাস মন্ত্রণালয়ে; কিনে নেবে বই; কইয়ের তেলে ভেজে ফেলো কই।

একসময় গোলাপি টি-শার্ট পরে ঘুরতো মুকুর ছানা; গোলাপির প্রশংসায় মুখ দিয়ে থুথু ছুটিয়ে ফেলতো। এখন হাওয়া বদলে; বৃষ্টির ভাব বুঝে ছাতা ধরে গোপালী টিশার্ট পরে সে মুকুরছানা এখন বাতাবি লেবুর ব্যাপারী হয়েছে। সে-ও যোগ দেয় তৃতীয় শ্রেণীর সরকারি কোয়ার্টারের রগড়ে যারা রুলিং এলিট হবার স্বপ্ন দেখেছিলো; সেই ইতিহাসান ডি ক্লার্ক সংহতিতে।

স্কুলজীবন-কলেজ জীবন-বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেটেছিলো; সহপাঠিনীদের চরম অবজ্ঞায়। 'কেউ কথা রাখেনি'; 'ছ' বর্গ উচ্চারণের দুর্বলতার কারণে দর্শক দুয়ো দিয়ে নামিয়ে দিতো মঞ্চ থেকে। তাই 'চ' বর্গের ক্রিপি গ্যাং বানিয়ে ইতিহাসান তার লেট ইয়ুথের যৌবনজ্বালায় স্বদেশী আন্দোলনের ভাটের আলাপ শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘরে বাইরেই ভণ্ড স্বদেশীর মতো। ফেসবুকের ইনবক্সে প্রবাসিনী ডেসপারেট হাউজ ওয়াইভস ক্লাবের প্রেমে আলুথালু কমলাদের কাছে টাকা ধার চায়; নতুন বই লেখার অনুপ্রেরণা হিসেবে। মিউজ এন্ড মানি দুটোই চাই ইতিহাসানের।

ইতিহাসানের দাদা চা-বাগানের কুলির সর্দার ছিলো। তাই চা-বাগানের মালিকের নাতিটি'র সাহায্য নিয়ে টুকটাক পাপিয়া-পর্যটন ব্যবসার চেষ্টাও করেছিলো। কিন্তু ভাগ্য যার ভাদাইম্মা; তার জীবনে আর কর্মের যোগ থাকে কোত্থেকে। চা-বাগানের মালিকের কাউচ-পটেটো নাতি ভিডিও গেমস খেলতে খেলতে বলে, তুমি বরং ইতিহাস করে খাওগে; ইতিহাসান; ব্যবসা তোমার কম্মো নয়।

তারপর এইদিন প্রতিদিন; শাকা ক্লাবে গিয়ে চোথা মারা ইতিহাসের রদ্দি বই বিক্রির চেষ্টা; আর ফেসবুকে সহমত ক্রিপি গ্যাং-এর রিং লিডার হয়ে; অন্যায়-অবিচারের জাস্টিফিকেশান লীগ গড়ে তোলা; ভিন্নমতের লোকেদের বেডরুমের খবর সংগ্রহ করা তাদের বাড়ির চৌকিদার; ড্রাইভার ও বাংলালিক্স বুয়ার কাছ থেকে। আর তারপর ফেসবুকে এসে মুখোশ উন্মোচন। গভীর রাতে বিভিন্ন গোলার্ধের সঙ্গে সময় মিলিয়ে বিশ্রামে ক্লান্ত 'কমলা' বৌদির ইনবক্সে হৃদয় হরণ; ডলার বরণ; আর দিনের আলোয় সাধু যাজক হয়ে, 'দুঃশ্চরিত্র'দের মুখোশ উন্মোচন।

শিশুকালে অপুষ্টির কারণে মস্তিষ্ক বর্ধিত না হওয়ায়, 'যন্ত্র ঐ একটাই ষড়যন্ত্র' কিংবা ' ঐ দ্যাকো হনুমান দেশটারে গন্ধ মাদন পর্বতের মতো তুইলা নিয়া যাওয়ার পায়তারা করতেছে'-এইসব বহু ব্যবহারে জীর্ণ কন্সপিরেসি থিওরির আলাপ করে সমাজের মানুষের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটায় ইতিহাসানেরা।

মহামারী করোনা এসে হীরকাব্দে 'ইতিহাসের বই বিক্রি'র ধান্দার পেটে লাথি দেয়। প্রকাশিত বই-এর বস্তাগুলো পড়ে থাকে চৌকির তলায়। বাপ এসে ধমক দেয়, এইগুলি সেরদরে বেচলেও দুইদিনের কাঁচাবাজারের পয়সা আসে। ল্যাখক হইছেন উনি, মন দিয়া পড়া লেখা করছোস কুনোকালে; যে লিখবি বোকসেদ!

ওদিকে লোডস অফ সুইফট ডেভেলপমেন্ট (এলএসডি)-র নেশায় প্রতিদিন হাসপাতালে '২৫০ টাকার সুই ২৫০০০ টাকার ফালে'র দামে ক্রয়ের দুর্নীতির খবর, বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের টাকা চুরি করায়, 'পালাবি কোথায়' চলচ্চিত্রের শুভ মহরতে কাদা ছুঁড়ে গ্রামবাসী চোরক রাজার দেশের বিদূষককে ধাওয়া দেবার খবর, এলএসডির প্রাবল্যে বসুন্ধরার ইক্ষু কলের মালিকের হাতে মুনিয়া পাখি নিহত হবার খবর; খুনিকে পুনর্বাসনে ক্র্যাবের সহমত ভাইদের বাতাবি লেবুর রস খেলার আসরের খবর, মিলন কন্ঠের বাতাবি শীতকার। ভাগ্যবদলের রাজনীতিতে 'ফইন্নির ঘরের ফইন্নি' নেতারা অধিকার বঞ্চিত পরিশ্রমী গরীবের হক মেরে পৃথিবীতেই জান্নাতি প্যালেস নির্মাণের খবর। দেশপ্রেম আর জাতীয়তাবাদের পতাকা মাথায় বেঁধে একসেস টু টেকাটুকা (এটুটু) প্রকল্পে ঢুকে বিদেশে টাকা পাচার ও সেকেন্ড হোমার হয়ে ওঠার খবর। শ্রমিক তার ঘাম শুকিয়ে যাবার অনেক পরে মজুরি চাইলে; এলএসডি পুলিশের টোটাবিদ্ধ হয়ে মেহনতী মানুষের পিঠ রক্তজবা হয়ে ওঠার স্থিরচিত্র হয়ে ওঠে স্বদেশ।

সারাজীবন আন্দোলন সংগ্রাম করে, বিদেশি লুন্ঠকের উপনিবেশ সরিয়ে এক জনদরদী নেতা স্বাধীনতা এনে দিলে, তারপর তেলাঞ্জলির বিনিময়ে লুন্ঠন-দখল-হত্যার থাগস অফ ইতিহাসানদের দেখে; তিনি গভীর অভিমানে বলেছিলেন, কাজের লোক তো নেই; সব তো চাটার দল; একী চোরের খনি পেলাম আমি। সেই নেতাকে হত্যা করে ফেলেছিলো এই থাগস অফ জঙ্গলেরা। সেই নেতার মেয়েও সব দেখে শুনে গভীর বেদনায় বলেন, এইখানে আমি ছাড়া আর সবাইকে টাকা দিয়ে কেনা যায়। তিনি গৃহহীনদের ঘর নির্মাণের বরাদ্দ দিলে; রডের পরিবর্তে বাঁশ, সিমেন্টের পরিবর্তে কাদা দিয়ে ঘর নির্মাণ করলে, রাতের রহমতের বৃষ্টিতে ধসে যায় সহমতের ঘর।

ধামাচাপা আপা তখন ইতিহাসান বোকসেদ আর খাসিব হুককে ডেকে বলে, একটা কিছু করো ভাইয়েরা; একটা কিছু করো। ইতিহাসান তখন তার চকির তলা থেকে বের করে টাইম মেশিন। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে, বর্তমানের আলোচনায় কাম কী; চলেন ইতিহাসের আলোচনায় সবাইরে নিয়া যাই; ভিন্নমতরে স্পেস না দিয়া চলেন ইঞ্চিমতের পাগলা হাওয়ার বাদলদিনে প্রথম কদম ফুল ফোটাই। এরপর রূপের জাদুঘর 'মিমি আপা'র চাবানো চুইংগাম চেবাতে চেবাতে খাসিব হুক বলে, লিংক দেন ধামাচাপা আপা ভিন্নমতের লিংক দেন; মজা নিমু; উই আর লুকিং ফর শত্রুজ।

রাজভোঁদড় লীলা পারবেন আপার পাওয়ার পোল ডান্সে মাতোয়ারা হয় 'ইতিহাসানের কলতলা'। ভ্যাসভেসে কন্ঠে সে লীলা পারবেন বাঈ গান গায়, 'ভিন্নমতের নাগর আমার সহমতের কাঁচা পীরিত পাকতে দিলো না।'

৮২৮ পঠিত ... ১৫:০১, জুন ০৩, ২০২১

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top