প্রতিদিনের মতো কাকডাকা ভোরবেলায় অনিক তার বড়বোনের সাথে ভার্সিটি এলাকায় জগিং করছিল, পরনে একটা ঢলঢলে ট্রাউজার। অনিকের বয়স ১৮ বা ১৯, রুপবান ছেলে, অনেকগুলো ছেলের ভিড়ে মেয়েদের নজর কাড়ার মতো তার দেহসৌষ্ঠব। যাই হোক অনিক দৌড়াচ্ছে, তার বোন তাকে পাহারা দেবার ভঙিতে সাথে সাথে দৌড়ে যাচ্ছে।
তখন বিপরীত থেকে অপরিচিত একটি মেয়ে, বেশ হাট্টাকাট্টা স্বাস্থ্যবান, হেঁটে আসছিল। মেয়েটা অনিককে দেখে দাঁড়িয়ে গেল এবং তাদের পথ আটকে দাঁড়াল। অনিকের কিছুটা আনইজি লাগছিল, এমন একটা যুবতী, বেগানা, স্বাস্থ্যবতী মেয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা তখন অনিকের দিকে এল, অনিক তার বোনের হাতটা শক্ত করে ধরল। মেয়েটি এসে উপরের দিকে তাকিয়ে অনিককে বলল, ভাই আপনি আপনার ইজ্জতকে রক্ষা করতে শিখুন, পোশাক আশাকের ব্যাপারে সচেতন হোন। আপনি এসব ট্রাউজার পরে প্লিজ রাস্তায় বের হবেন না, বেগানা নারীদের কুনজর পড়ে যেকোনো দিন যেকোনো একটা দুর্ঘটনা হয়ে যেতে পারে। তখন আর সে ক্ষতির ক্ষতিপূরণ কীভাবে করবেন? অনিকের বড় বোন দ্রুত তার ওড়নাটা দিয়ে অনিকের ট্রাউজারের উপরে জড়িয়ে দিল, অনিক কেমন কাঁপছিল তার বোনের হাত ধরে। তার বোন হুঙ্কার দিয়ে উঠল। সাথে সাথে যুবতী মেয়েটি বলল, আমি খারাপ তো কিছু বলিনি, আমি কি বলেছি যে তোমার *নটা বড়, ট্রাউজারের উপর থেকে দোল খাচ্ছে। এই শুনে অনিকের বোন চিৎকার দিয়ে উঠল, সাথে সাথে আশেপাশ থেকে আরও মেয়েরা জড়ো হলো। অনেকে মুঠোফোনে ভিডিও করছিল। অনেকেই ওই মেয়েটাকে শাসাচ্ছিল। এক সময়ে মেয়েটাকে ধরে তারা পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায় ও হাজতে পুড়ে দেয়।
এর কিছুক্ষণের মধ্যে জিন্স টিশার্ট পরা, হাতে বাজুওয়ালা একদল উদ্ভট যুবতীরা সেখানে আসে। সেখানে এসে তারা ওই হাজতের যুবতীর সাথে কথা বলে। হাজতের যুবতী জানায়, ওই ছেলে মানে অনিক একটা ট্রাউজার পরে অশালীনভাবে তার বোনের সাথে খুলে আম দৌড়াদৌড়ি করছিল। সে শুধু উপরের দিকে চেয়ে বলেছিল, ওভাবে চলবেন না ভাইয়া। এতেই তারা রেগে যায় এবং তার নামে কেস করে এরপর তার এই অবস্থা। শুনেই বখাটে মেয়ের দল রাগান্বিত হয়ে যায়, তারা পুলিশদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। বেহায়া পুরুষদের নির্লজ্জতা নিয়ে গালাগাল দিতে থাকে, এদের জন্যেই সমাজের অধঃপতন, এদের খোলামেলা পোশাক দেখে সিডিউস হয়েই মেয়েরা ধর্ষণে লিপ্ত হয় আসলে, দেশে ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণও ছেলেদের এই ধরনের পোশাক তাও তারা উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে দিতে বলে। তারা ওই ছেলেকে একটি প্রস্টিটিউট হিসেবে চিহ্নিত করে। পুলিশকে থ্রেট করে বলতে থাকে—ওই ছেলের নামে চুরির মামলা দিতে হবে, আরেকজন বলে ওঠে চুরির নয় মানহানির মামলা দিতে হবে।
এরপর মিডিয়ার লোকজন আসে। তারা হাজতে থাকা মেয়েটির সাক্ষাৎকার নেয়। সাক্ষাৎকারে মেয়েটি জানায় কীভাবে অনিক একটা পাতলা ট্রাউজার পরে, উপরে কিছু দিয়ে আলাদা কাপড় না পেঁচিয়ে দৌড়াচ্ছিল, আর তার নিতম্ব ও যৌনাঙ্গগুলো তার সাথে সাথে দুলছিল। চারপাশের মেয়েরা সেগুলো দেখছিল। সে শুধু অনিককে পোশাকের ব্যাপারে আরও সংযত হতে বলেছে। কোনো খারাপ কথা বলেনি, এমনকি তার শ্রোণীদেশের দিকেও তাকায়নি। কথা বলার সময় সারাক্ষণ উপরে তাকিয়ে ছিল।
একসময় মব গার্লদের একজন বলে ওঠেন ওই অনিক 'শালাকেই ধরতে হবে, ওই ছেলে একটা পিওর একটা হাহাবাগী। হাহাবাগী ছাড়া না ঢেকে ট্রাউজারে বেগানা মেয়েদের ভীড়ে এভাবে কোনো ছেলে বের হতেই পারে না। এই বলে এক মেয়ে দরজায় আঘাত করে, উপর্যুপরি আঘাতের থানার পুরনো সরকারি দরজাটা ভেঙে যায়। ভেতরে থাকা ভীতসন্ত্রস্ত অনিককে আরেকটা চুলে কালার করা দাঁতভাঙা মেয়ে হাত ধরে টান দিয়ে বের করে আনে...
এতটুকুই ছিল, এরমধ্যেই অনিক হঠাৎ খাট থেকে পড়ে গেল। তার বুক কাঁপছিল, উঠে বসে সে তার বুকের ভেতর দামামা বাজতে শোনে। সে বুঝতে পারে এটা টোটালি একটা দুঃস্বপ্ন ছিল। আজ বিকেলে অনিক রাস্তায় বের হয়, কিন্তু চোখ ঘুরিয়ে মেয়েদের স্তনের দিকে না তাকিয়ে দৃষ্টি সংযত রাখে। ভীড় বাসে উঠে অনিক ইচ্ছে করে দাঁড়ানো মেয়েটার গায়ে আরেকটু ঘেঁষে দাঁড়ায় না, ফেসবুকে অপরিচিত মেয়েদের আইডিতে, কী করো, কী খেয়েছ, বলে ডিক পিক পাঠানোর চিন্তা তার মাথায় আসে না। নিজের এ পরিবর্তন সে লক্ষ্য করে। কিন্তু আর কতদিন? সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতে অনিক আবার আগের চালে ফিরে আসে। সে উল্লিখিত না করা সব কাজই আবার শুরু করতে শুরু করে। সে এখন সোশ্যালে অপরিচিত মেয়েদের পোস্টে ঢুকে কমেন্টেও লেখে 'kanke mage balo ha'



পাঠকের মন্তব্য