রেজাল্ট ভালো করার জন্য এক্সপোজ পোস্টের মতো করে বই চান শিক্ষার্থীরা

১৩ পঠিত ... ২ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে

অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে পড়ে না। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিষয়টা মোটেও তা নয়। বরং শিক্ষার্থীরা রাত জেগে ৫ হাজার শব্দের এক্সপোজ পোস্ট পড়ে সেটার টাইমলাইন বানাতে পারে, স্ক্রিনশট মিলিয়ে দেখতে পারে, এমনকি কমেন্ট সেকশনে থিসিস-লেভেলের বিশ্লেষণও দিতে পারে। আসলে সমস্যা একটাই, পাঠ্যবইয়ে কোনো স্ক্যান্ডাল নেই, এক্সপোজ পোস্ট লেভেলের রোমাঞ্চ নেই।

সম্প্রতি ইনস্টিটিউট অব ভাইরাল স্টাডিজ, মিরপুর শাখা থেকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা গবেষণা থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে বাবা-মায়ের যে সার্বজনীন অভিযোগ, ওরা মনোযোগ দিয়ে পড়ে না, এটা আসলে একদমই ঠিক না। মনোযোগ দিয়ে পড়ার মতো বিষয়বস্তু পেলে ওরা একরাতে সিরিজ শেষ করার মতো যেকোনো কিছু পড়ে ফেলতে পারে, পড়ার পর আবার নিজের অ্যানালাইসিসসহ একটা রিভিউও লিখতে পারে। সমস্যাটা আসলে পাঠ্যপুস্তকের কন্টেন্টের, পাঠ্যপুস্তকের না।

eআরকির কাছে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নালিশ করেছে যে তাদের পাঠ্যপুস্তকগুলো কেমন যেন পানসে। নিউটনের সূত্রগুলো কেমন যেন মেরমেরে, পড়তে গেলে মজা নাই, রসায়নে রস নাই, গণিতে কোনো মিস্ট্রি নাই, বাংলায় রোমাঞ্চ নাই, ইংরেজিতে অ্যাকশন নাই। এসব বই পড়তে গেলে শুরুতেই কেমন যেন একটা ইয়ে ভাব চলে আসে, পোস্ট স্কিপ করার মতো পাতাও স্কিপ করে চলে যায় তারা। অথচ, ফেসবুকে মাঝে মাঝে কিছু পোস্ট ভাইরাল হয়, একেবারে এপস্টিন ফাইলের মতো। এক বসায় পড়া শেষ না করলে মুখে খাবার রোচে না, হার্টে পালপিটেশন হয়। পড়া শেষ করে আবার বন্ধুদের সাথে পুরো ব্যাপারটাকে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে অ্যানালাইসিসও করেন তারা।

নতুন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে শিক্ষার্থীদের একটাই চাওয়া, তাদের পড়ার বইগুলো যেন এক্সপোজ পোস্টের আদলে তৈরি করা হয়। একটা পাতা পড়লেই যেন মনে হতে থাকে শেষ পর্যন্ত কী হবে! জানার আগ্রহ এমন চরমে উঠতে হবে যে পাঠ্যবইকে পাঠ্যবই কম নেটফ্লিক্সের ডার্ক সিরিজের মতো মনে হবে। বইগুলো বারবার পড়তে মন চাইবে। আর একটা বই কয়েকবার পড়ে ফেললে তো রেজাল্ট এমনিতেই ভালো হবে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, পাঠ্যপুস্তক রিফর্ম কমিটি তৈরি হয়েছে। কমিটিতে রাখা হয়েছে দুইজন ভাইরাল পোস্ট বিশ্লেষক, একজন সিরিয়াল এক্সপোজার এবং একজন গ্রুপ মডারেটর। বইয়ের কভারে আর থাকবে না, দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান। বরং লেখা থাকবে, ফাঁস হয়ে গেলো মহাবিশ্বের ৩টি গোপন সূত্র, ২ নম্বরটি জানলে তুমি অবাক হবে। ভিতরে প্রতিটি সূত্রের আগে লেখা থাকবে, স্কিপ করলে বিশাল ক্ষতি।

১৩ পঠিত ... ২ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে

Top