অবসর নেওয়ার পর মিস্টার কুদ্দুস সাহেব শহরের কোলাহল ছেড়ে একটা সুন্দর নদীর পাড়ে ছোটখাটো একটা বাড়ি নিলেন। প্রতিদিন সকালে বারান্দায় বসে চায়ে চুমুক দিতে দিতে তিনি শান্ত নদীর ঢেউ আর দূরের সবুজ প্রকৃতি দেখতে পেতেন।
প্রায় প্রতিদিন সকালেই মিস্টার কুদ্দুস লক্ষ করতেন, একটা তরুণ ছেলে প্রতিদিন নদীর ঘাটে এসে ছিপ ফেলে বসে থাকে। আবহাওয়া ভালো থাকুক, রৌদ্রোজ্জ্বল দিন হোক কিংবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হোক, ছেলেটার নিয়মের কোনো নড়চড় নেই। সে প্রতিদিন ঠিক সময়ে এসে হাজির হয়।
এভাবে কয়েক মাস কেটে যাওয়ার পর মিস্টার কুদ্দুসের মাথায় একটা ব্যাপার এল। তিনি খেয়াল করলেন, ছেলেটার বসার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। কোনো দিন সে ঘাটের বাঁ পাশে বসে, কোনো দিন ডান পাশে, আবার কোনো দিন সোজা ঘাটের একদম শেষ মাথায় গিয়ে বসে। মিস্টার কুদ্দুস কিছুতেই মেলাতে পারতেন না যে ছেলেটা প্রতিদিন সকালে ঠিক করে কীভাবে আজ সে কোথায় বসবে।
একদিন আর কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে মিস্টার কুদ্দুস নাশতা শেষ করেই সোজা নদীর ঘাটে গিয়ে হাজির হলেন এবং ছেলেটার পাশে দাঁড়ালেন।
মিস্টার কুদ্দুস একটু কৌতূহলী সুরেই জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা, আমি বেশ কয়েক দিন ধরে লক্ষ করছি, আপনি কখনো ঘাটের বাঁ পাশে বসছেন, কখনো ডান পাশে, আবার কখনো একদম শেষ মাথায়। আসলে কোন হিসাব করে ঠিক করেন যে আজ কোথায় বসে বড়শি ফেলবেন?
ছেলেটা ছিপ থেকে চোখ সরিয়ে মুচকি হেসে বলল, আরে আঙ্কেল, একদম সিম্পল হিসাব! প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি আমার বউয়ের দিকে তাকাই। সে যদি বাঁ কাতে শুয়ে থাকে, আমি এসে ঘাটের বাঁ পাশে বসি। সে যদি ডান কাতে শুয়ে থাকে, আমি ডান পাশে বসি। আর সে যদি উপুড় হয়ে শুয়ে থাকে, তাহলে সোজা ঘাটের একদম শেষ মাথায় গিয়ে বসি।
মিস্টার কুদ্দুস বেশ অবাক হয়ে বললেন, বাহ্, বেশ চমৎকার নিয়ম তো! কিন্তু আচ্ছা, সে যদি সোজা চিত হয়ে শুয়ে থাকে, তখন কী করো?
ছেলেটা তখন চোখের কোণে একটা দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে মিস্টার কুদ্দুসের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
সেসব দিনে তো আর মাছ ধরতে যাওয়া হয় না!



পাঠকের মন্তব্য