জুনিয়রের বাসায় ঢুঁ মারার পর বসের যা হলো

২৬৯ পঠিত ... ১৭:২৫, নভেম্বর ২৮, ২০২২

Juniorer-basay

রফিক সাহেব তার অফিসের জুনিয়র রাশেদ খানের বাসায় মাঝেমধ্যেই ঢুঁ মারেন। আজ বাসায় ঢুকে দেখেন  রাশেদ মুখ কালো করে সোফায় বসে আছে। পাশে স্ত্রী। দুজনের সামনে তাদের ছেলে দাঁড়িয়ে।

ছেলের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে রেজাল্ট খারাপ করেছে। একটু আগে এসএসসির রেজাল্ট প্রকাশ হয়েছে।

রফিক সাহেবকে দেখে রাশেদ বলল, 'দেখেন তো স্যার, এগুলা কোনো রেজাল্ট? এই জিপিএ-৫ এর যুগে সে পাইছে ৪.৫। এটা কোনো কথা? রফিক সাহেব এবার বিষয়টা বুঝতে পারলেন।'

: দেখো রাশেদ, সবাইকে জিপিএ-৫ পেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। জিপিএ-৫-ই সবকিছু না। জিপিএ-৫ না পেয়েও জীবনে ভালো কিছু করা যায়। সফল হওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল কি জিপিএ-৫ পাইছে? পায় নাই।

রেজাল্ট খারাপ হলে সন্তানকে বকাঝকা না করে তার পাশে দাঁড়াতে হয়। হতে হবে সাপোর্টিভ প্যারেন্টস। ভাবী, এক কাপ চা দেন। আজ আপনাদের বাসায় চা খেয়ে বাসায় যাই।

আর এই যে বোকা ছেলে, অমন মনমরা হয়ে দাঁড়িয়ে আছো কেন। এই যে আমি আজ সফল ব্যবসায়ী, আমি কি জিপিএ-৫ পাইছিলাম? পাই নাই। সামান্য একটা পরীক্ষার রেজাল্ট তোমার জীবনের সবকিছু না।

বাসা থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠবেন এমন সময় রফিক সাহেবের ছেলের কল, 'আব্বু, ফোর পয়েন্ট জিরো সিক্স পাইছি।'

: কী? তুই আমার ছেলে হয়ে ফোর পয়েন্ট জিরো সিক্স পাস? তোরে কী সুবিধা আমি দেই নাই বল। প্রতি সাবজেক্টের জন্য আলাদা আলাদা মাস্টার রাখছিলাম এই রেজাল্ট করতে রে হারামজাদা। তুই ভালো কোনো কলেজে ভর্তি হইতে পারবি রে **বাচ্চা?

আমার জুনিয়রের ছেলে পায় ফোর পয়েন্ট ফাইভ আর তুই পাস ফোর পয়েন্ট জিরো সিক্স? হারামজাদা। লাট সাহেবের বাচ্চা হইছো, তাই না? পিডায়ে তোরে মানুষ করার দরকার আছিল। বেশি আদর দিছি তোরে। আমি আসার আগে তুই বাসা থেকে বের হয়ে যাবি। রিক্সা চালা গা। যা। পড়ালেখা তোরে দিয়ে হবে না। তুই রিক্সাওয়ালা হওয়ার যোগ্য।

 

 

২৬৯ পঠিত ... ১৭:২৫, নভেম্বর ২৮, ২০২২

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top