রাত ঠিক ১১টা ৪৫ মিনিট। মিরপুরের একটি গলির ভেতর নলেজ পাওয়ার কোচিং সেন্টারের শাটার অর্ধেক নামানো। ভেতরে ১৫-২০ জন কিশোর গোল হয়ে বসে গেম খেলছে আর চিপস খাচ্ছে। হঠাৎ আকাশ কাঁপিয়ে বিকট শব্দ! এলাকার মানুষ ভাবল ভূমিকম্প, কিন্তু না ওটা ড. মিলনের সেই কিংবদন্তি হেলিকপ্টার।
হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে কমান্ডো স্টাইলে নিচে নামলেন স্বয়ং পূর্ণ শিক্ষামন্ত্রী। হাতে কোনো ফাইল নেই, আছে একটা বিশাল মেগাফোন আর পকেটে এক দিস্তা কারণ দর্শাও নোটিশ।
ড. মিলন: (মেগাফোনে গর্জে উঠে) হ্যান্ডস আপ! কেউ নড়বে না! কার কার পকেটে স্মার্টফোন আর কার কার ব্যাগে গাইড বই আছে, সব টেবিলে রাখো। দিস ইজ এ রেইড!
কিশোররা তো থরথর করে কাঁপছে। তাদের লিডার টাইপ একজন সাহস করে বলল, স্যার, আমরা তো জাস্ট আড্ডা দিচ্ছিলাম...
ড. মিলন: (ভুরু কুঁচকে) আড্ডা? রাত ১১টার পর কিশোরদের আড্ডা মানেই হলো মিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চালানো। তোমরা কি জানো না, এই সময়ে তোমাদের মগজে অক্সিজেন যাওয়ার কথা, আর তোমরা ঢোকাচ্ছ নিকোটিন আর ফ্রি-ফায়ার? পুলিশ! এদের সবাইকে ভ্যানে তোলো। কাল সকালে এদের 'জৈব যৌগ' আর 'কারক-বিভক্তি'র ওপর ক্রস-একজামিনেশন হবে।
ঠিক সেই সময় এক সাংবাদিক হাঁপাতে হাঁপাতে সেখানে হাজির।
সাংবাদিক: স্যার! স্যার! আপনি তো শিক্ষামন্ত্রী, আপনি কেন মাঝরাতে পুলিশ নিয়ে রেইড দিচ্ছেন? এটা কি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ না?
ড. মিলন: (সহাস্যে) আরে ভাই, আপনি তো পুরনো আমলের সাংবাদিক। শিক্ষা আর স্বরাষ্ট্র কি আলাদা? একটা ছাত্র যখন পড়া না পেরে নকল করে, ওটা একটা ইনটেলেকচুয়াল ডাকাতি। আর এই যে ছেলেরা রাত জাগছে, এরা হলো ভবিষ্যৎ আসামী। আমি প্রিভেন্টিভ মেজার নিচ্ছি।
সাংবাদিক: কিন্তু স্যার, হেলিকপ্টার দিয়ে কোচিং সেন্টারের ছাদ ফুটো করাটা কি একটু বেশি হয়ে গেল না? লোকে তো বলছে আপনি শিক্ষার র্যাম্বো হতে চাচ্ছেন।
ড. মিলন: র্যাম্বো? ওটা তো বিদেশি মুভি। আমি হলাম দেশি নকল-প্রতিরোধক। হেলিকপ্টার দিয়ে ওপর থেকে দেখলে বোঝা যায় কার মাথায় কয়টা চুল আর কার মগজে কয়টা ফর্মুলা আছে। আমি তো প্ল্যান করছি, প্রত্যেকটা স্কুল ভ্যানে একটা করে জ্যামার বসাব যাতে স্কুলের ১০০ গজের ভেতর কেউ পাবজি'র নেটওয়ার্ক না পায়।
সাংবাদিক: স্যার, ফেসবুকে তো আপনার নামে ট্রল হচ্ছে। মানুষ গান গাইছে "মিলন যাবে কতদিনে, শান্তিতে ঘুমাবো কোন দিনে..."। এই যে আপনাকে নিয়ে সমালোচনা, এটা কি আপনার গায়ে লাগে না?
ড. মিলন: (পকেট থেকে একটা ডায়েরি বের করে) শুনুন, এই গান যারা গাইছে তাদের সুরটা খেয়াল করেছেন? একদম সস্তা টিউন। সমালোচনা করবেন, মিউজিকটা তো অন্তত নিজের বানান! এই যে সুর নকল করে আমাকে গালি দেওয়া এটাও তো এক ধরনের চিটিং। আমি এই প্যারোডি গায়ককে ধরতে অলরেডি সাউন্ড ডিটেকটিভ নিয়োগ দিয়েছি। নকল সমালোচনা আমি সহ্য করি না, গালি দিলেও সেটা অরজিনাল লিরিক হতে হবে।
সাংবাদিক: আপনার এই কড়াকড়ি কি তবে চলতেই থাকবে?
ড. মিলন: অবশ্যই! যতদিন না দেশের প্রতিটা কিশোর রাত ৯টায় দুধ-ভাত খেয়ে ঘুমাতে যাবে, ততদিন আমার হেলিকপ্টার আকাশে ঘুরবে। আমি তো ভাবছি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটা এভিয়েশন উইং খুলব। শুধু নকল ধরা না, যেসব ছাত্র ফেল করবে, তাদের হেলিকপ্টারের দড়িতে ঝুলিয়ে পুরো শহর ঘুরিয়ে দেখানো হবে যাতে লজ্জায় হলেও পরের বার এ প্লাস পায়।
সাংবাদিক: (ভীত হয়ে) স্যার, আমি কি এখন যেতে পারি? আমার বাসায় আবার ছোট ভাই আছে, ও পড়াশোনা করছে কি না দেখতে হবে।
ড. মিলন: দাঁড়ান! যাওয়ার আগে 'বুলবুলিতে ধান খেয়েছে' কবিতার শেষ চার লাইন শুনিয়ে যান। না পারলে কিন্তু আমার হেলিকপ্টারের পেছনের সিটে জায়গা আছে!
সাংবাদিক ক্যামেরা ফেলে দৌড় দিলেন। ড. মিলন মেগাফোনে হাসতে হাসতে পরবর্তী টার্গেটের দিকে রওনা হলেন।


