তারেক রহমান যাতে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে একটা কল দেন: অনুরোধ সাধারন জনগণের

৫৬ পঠিত ... ১২ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে

এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার রহস্য আজও কুয়াশাচ্ছন্ন। রাষ্ট্রের সদিচ্ছা আর একটি শক্তিশালী ফোন কল যে কত দ্রুত অসাধ্য সাধন করতে পারে, তার প্রমাণ মিলল অতি সম্প্রতি। জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন, যে বিচার এক যুগেও হলো না, তা কি স্রেফ একটি রিংটোনের অভাবে আটকে আছে?

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় অপরাধ দমনের এক নতুন এবং অভাবনীয় মডেল আবিষ্কৃত হয়েছে। এতদিন আমরা জানতাম অপরাধী শনাক্ত করতে ডিএনএ টেস্ট, ফরেনসিক রিপোর্ট কিংবা জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমের সাম্প্রতিক তৎপরতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সবচেয়ে শক্তিশালী ফরেনসিক টুলের নাম হলো একটি সময়োপযোগী ফোন কল।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর যে অনাকাঙ্ক্ষিত বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে, তাতে পুলিশের ভাবমূর্তি যখন খাদের কিনারায়, ঠিক তখনই এক অলৌকিক ঘটনা ঘটল। সমালোচনার মুখে থাকা ডিসি মাসুদ আলম ২৪ ফেব্রুয়ারি এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধারে যে বিদ্যুৎগতির প্রদর্শন করলেন, তা কেবল হলিউডের থ্রিলার সিনেমাতেই মানায়। খিলগাঁও থেকে অপহৃত ছাত্রকে মাত্র দেড় ঘণ্টায় উদ্ধার করা, তা-ও আবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ পাওয়ার পর; এটি নিশ্চিতভাবেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পাওয়ার যোগ্য।
প্রশ্ন উঠছে, এই অবিশ্বাস্য গতির রহস্য কী? এটি কি কেবলই পেশাদারিত্ব, নাকি কোনো বিশেষ ফোন কলের জাদু?


সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ এ পর্যন্ত ১২৪ বার পিছিয়েছে। র‍্যাব থেকে শুরু করে পিবিআই; সবাই যখন তদন্তের চোরাবালিতে আটকে আছে, তখন জনমনে এক করুণ প্রশ্নের উদয় হয়েছে: সাগর-রুনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার ফোনে কি তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি কল যাওয়া বাকি?
যদি এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটে অপহরণের জট খোলা সম্ভব হয়, তবে এক যুগেও কেন সাংবাদিক দম্পতির খুনিরা শনাক্ত হলো না? দেশবাসী বলছেন, তদন্ত সংস্থাগুলোর ফরেনসিক ল্যাবে সম্ভবত নেটওয়ার্কের সমস্যা আছে। তারেক রহমান যদি দয়া করে একবার সেই তদন্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নম্বরে একটি কল দিয়ে বলতেন, মাসুদকে যেভাবে গাইড করেছি, আপনাকেও করছি; আগামীকাল বিকালের মধ্যে খুনিদের নাম চাই, তবে হয়তো ১২৪ বারের ব্যর্থতা ১২৪ মিনিটেই সাফল্যে রূপ নিত।


তনু হত্যাকাণ্ড কিংবা আরও ডজনখানেক মামলার ফাইল এখন ধুলো জমিয়ে পড়ে আছে ডিবি বা পিবিআইয়ের আলমারিতে। অথচ আমরা দেখলাম, শাহবাগ থানা ঘেরাও আর শিক্ষার্থী পেটানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঠিক পরমুহূর্তেই পুলিশি তৎপরতা কীভাবে সুপারসনিক গতি পায়। এই যে গতির পার্থক্য এটি কি স্রেফ টেকনিক্যাল, নাকি কৌশলগত?
বিচক্ষণ নাগরিকরা এখন আর চার্জশিটের অপেক্ষা করছেন না। তারা অপেক্ষা করছেন সেই পাওয়ারফুল কলের জন্য। কারণ বাংলাদেশে আইন এখন আর নিজের গতিতে চলে না, আইন চলে ওপর মহলের নির্দেশিত কল লিস্টের গতিতে।


সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মেঘ এখন কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা দিয়েছে। সে সম্ভবত আর আদালতের বারান্দায় বিচার খোঁজে না। সে হয়তো এখন টিভির স্ক্রিনে ডিসি মাসুদের উদ্ধার অভিযান দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবে, তার বাবা-মায়ের খুনের ফাইলটি কি তবে কোনো অফ-গ্রিড এলাকায় পড়ে আছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর ফোন কল পৌঁছাতে পারছে না?
সরকারের কাছে অনুরোধ, তদন্ত সংস্থাগুলোর বাজেট না বাড়িয়ে বরং তাদের সবার ফোনে তারেক রহমানের কল রেকর্ড করে রিংটোন হিসেবে সেট করে দেওয়া হোক। হয়তো সেই রিংটোনের আওয়াজেই ঘুম ভাঙবে স্থবির হয়ে পড়া বিচার ব্যবস্থার।

৫৬ পঠিত ... ১২ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে

Top