জিলাপির বাসা
আমি জিলাপি। পেশায় মিষ্টান্ন, নেশায় প্যাঁচ। হোটেলে চিনির সিরায় ডুবতে থাকা অবস্থায় আমার প্রথম চোখ যায় পাশের দোকানে বস্তায় ভরা মুড়ির দিকে। সাদা, হালকা, ফোলা-ফোলা, একেবারে নিরীহ চেহারা। প্রথম দেখাতেই আমার সিরা বেড়ে যায় দুই লিটার। দোকানি ভাই ভেবেছিল চিনি বেশি হয়ে গেছে। না ভাই, ওটা ছিল প্রেম। ঠিক তখনই সিদ্ধান্ত নিই, বিয়ে করলে মুড়িকেই করব।
আমার রসে ভরা টইটম্বুর দেহ আর চালের দানা ফুলে ওঠা মুড়ির মধ্যে যে কেমিস্ট্রি হবে, তা কোনো ডিম চপের সাথে সম্ভব না। আলুর চপ তো একদমই না।
আজই প্রস্তাব পাঠাব। আমার হয়ত বংশমর্যাদা নাই, কিন্তু ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে।
মুড়ির বাসা
এদিকে আজ মুড়ির বাসায় ধুম ধাম করে ইফতার পার্টির আয়োজন হচ্ছে আজ। উপস্থিত আছে বেগুনি, বুট, পেয়াজু, ডিম চপ, আলুর চপ, কাবাব, মুরগির চাপ প্রমুখ। পার্টিতে সবাই যার যার মত মজা করছে। হঠাৎ করেই সদর দরজা দিয়ে জিলাপির প্রবেশ। সবাই হিন্দি সিরিয়ালের মত ঘুরে ঘুরে তাকালো।
এই অসময়ে জিলাপি এসেছে কোন কারনে। শুধু জিলাপি নয়, পেছনে বুন্দিয়াও আসছে।
বুন্দিয়ার বক্তব্য
বুন্দিয়া কণ্ঠ পরিষ্কার করে বললো, আমি বুন্দিয়া। কেউ কেউ ডাকে বুরিন্দা। সেটা ভিন্ন আলাপ। আমার বন্ধু জিলাপি বহুদিন ধরে একটা কথা বলতে চাইছে। মুড়িকে শাদি করতে চায়। বিয়ে করলে সিরার রসে ডুবিয়ে রাখবে। ছেলে হিসেবে মিষ্টি, রোজগার ভালো, ইফতারে চাহিদা আকাশচুম্বী।লেবুর শরবত পাশে ফিসফিস করে বললো, ব্র্যান্ডিং খারাপ না কিন্তু।
পেয়াজু বুটের ক্ষোভ
এদিকে জিলাপির প্যাচ দেখে, ছোট বুন্দিয়ার মুখে বড় বড় কথা থেকে পেয়াজু বুটের মাথা গরম হয়ে গেছে। পেয়াজু উঠে দাঁড়িয়ে ঝাল কণ্ঠে বললো, এইটা কি নাটক চলছে? আমাদের বোনকে সিরায় ডুবাবে?
আমরা সাত ভাই চম্পার মত আগলে রাখি। বাতাসে একটু বেশি থাকলে পানসে হয়ে যায়, আর তুই চাস সিরায় ডুবাতে! বুট গম্ভীর গলায় বললো, আমরা ভাবছি কোনো অভিজাত ঘরে বিয়ে দিবো, হয়তো কাবাব পরিবারের সাথে, না হয় মুরগির চাপের সাথেও যাওয়া যায়। ওরা প্রোটিনসমৃদ্ধ, একটা বংশ মর্যাদা আছে। জিলাপির তো বংশের কোনো ঠিকানাই নাই। একেবারে বামন হয়ে চাদের দিকে হাত বাড়াচ্ছিস তোরা।
জিলাপির জবাব
এবার হাজারো প্যাচের জিলাপি মিষ্টি সুরে বলে উঠলো জনাব আসসালামুয়ালাইকুম। আমি আপনার বোনকে ভালবেসে ফেলেছি। ওর জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত। আমাকে একবার কাছে নিয়েই দেখুন না। দূর থেকে আমাকে আর কতটুকুই বা চিনতে পারবেন। আমি ওকে একদম মাথায় করে রাখব। খাবার ঠিক ১ মিনিট আগে আমাকে মিশালেই বুঝবেন কত জিলাপিতে কত টেস্ট। শুধু একবার সুযোগ দিয়ে দেখুন না।
মুড়ির অভিমান
এতক্ষণ চুপ থাকা মুড়ি হালকা স্বরে বললো, আমি কি কিছু বলতে পারি? সবাই থমকে গেছে। একে অন্যের মুখের দিকে তাকাচ্ছে। আমাকে সবাই শুধু মিশিয়ে খেতে।কেউ চায় ঝাল দিয়ে, কেউ চায় মিষ্টি দিয়ে।
কিন্তু কেউ কি জিজ্ঞেস করেছে আমি কাকে চাই?
পুরো ঘরে নীরবতা। মুড়ি কাকে চাইতে পারে? কে সেই সৌভাগ্যবান?
বট পেয়াজু একটু নড়েচড়ে বসেছে। কি চাস বোন আমার? বল আমাদের, তুই যা চাস আমরা তাই করব।
মুড়ির সিদ্ধান্ত
মুড়ি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি ডায়েট করব। সবাই স্তব্ধ। এবার ইফতারে আমি শুধু শসা আর ছোলার সাথে যাব। মুড়ির কথা শুনে, জিলাপির সিরা শুকিয়ে গেল। পেয়াজুর ঝাল নেমে গেল। বুট মাটিতে বসে পড়লো।
ঠিক তখনই বাড়ির কর্তা রহিম মিয়া এসে তার বউকে বললেন এই সব কিছু নিয়ে আসো তো। আজকে মুড়ি মাখার সাথে জিলাপি, বুন্দিয়া সব মেশাব, দেখবা, হেব্বি টেস্ট হবে।


