জামায়াত আমিরের প্রথম প্রভাত ফেরি সফল হোক

১০৬ পঠিত ... ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে

জামায়াত আমির বাসা থেকে বের হবেন একটু পর। প্রভাত ফেরিতে যেতে হবে, সবাইকে তেমন নির্দেশনাই দিয়েছেন। এমনিতেই ঢাকার হুটহাট বদলানো আবহাওয়ার ঠ্যালায় সর্দি বাঁধিয়ে ফেলেছেন। তার ওপর রাস্তা ঝাড়ু দিতে গিয়ে বেকায়দায় কোমরে লাগিয়ে নেওয়া ব্যথা তো আছেই। এখন আবার জীবনে প্রথমবারের মতো খালি পায়ে রাস্তায় হাঁটা লাগবে। কী মুশকিলের কথা!

প্রভাত ফেরিতে যেতে যেতে অনেক মানুষের সাথে দেখা হলো। সবার একটাই প্রশ্ন—ভাষা আন্দোলন করা ভুল হলে এখন কেন এ অবস্থান? উত্তরে উনি শুধু মুচকি হেসে বললেন, 'আমাদের বিশ্বাস করে দেখেন, আমরা ভালো হয়ে গেছি।' মাঝে এক ভিক্ষুক তাকে দেখে জানতে চাইল, 'এহন কী কইবেন, প্রভাত ফেরিতে গেলেও জান্নাত পাওন যাইব?' উনি কিছু না বলে তাকে এড়িয়ে সামনে এগিয়ে গেলেন। আপাদমস্তক ঢাকা এক নারী ভক্ত তাকে এসে জড়িয়ে ধরলে উনি বিব্রত হলেও সামাল দেন। পথে খালি পায়ে হাঁটার কারণে কয়েকবার উষ্টা খেয়ে তো উর্দুতে বাঙালি জাতিকে গালিই দিয়ে বসেছিলেন; কোনোরকমে সামলে নেন আরকি। আশপাশে-চারদিকে সব জায়গায় শুধু বাংলা ভাষার বিস্তর ছড়াছড়ি দেখে উনি একটু ইতস্তত বোধ করলেন। বাংলা ভাষা দেখতে-পড়তে উনার আবার অস্বস্তি হয় কিনা!

শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে উনি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। চারিদিকে অসংখ্য ভক্ত, অনুরাগী আর দলের নেতাকর্মী। সবার সমর্থনে উনি আপ্লুত হয়ে পড়লেন। এবার সাধারণ জনতার ভিড়ের দিকে চোখ ফেরাতেই ওনার মনে হলো দলের প্রতিষ্ঠাতাকে দেখলেন। বাংলার এতো বড় দেশপ্রেমিককে মনের ভুলে দেখে ফেললেন ভাবতেই বুকটা কেমন যেন হু হু করে উঠল। হঠাৎ এরপর আকাশে চাঁদের দিকে তাকিয়ে দেখেন প্রিয় অভিভাবকের চেহারা ভেসে বেড়াচ্ছে। উনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না, কান্নায় ভেঙে পড়লেন। প্রাঙ্গণে থাকা মানুষ ধরে নিলো বোধ হয় শহিদদের স্মরণে আমির আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না। চোখ মুছে উনি ফুলের তোড়া নিয়ে এগিয়ে গেলেন মিনারের দিকে। আমিরের চোখে পানি দেখে সকলের চোখও যেন ছলছল করে উঠল। সেই সাথে এটা লিখতে গিয়ে আমার চোখেও পানি টলমল করছে।

১০৬ পঠিত ... ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top