বাবা যখন দর্জির কাছে পাঞ্জাবি বানাতে দেন

৫০২ পঠিত ... ১৪:০৯, মে ০২, ২০২২

Baba-jokhon-panjabi-banater-den (1)

প্রতিবছর ঈদে বাবা খুব ভ্যাঙায় আমাকে এটা বলে যে ড্রেস বানাতে কত নাটক এই-সেই অথচ সে এটা বোঝে না যে ইদ আসলে দর্জিদের কিছু একটা সমস্যা শুরু হয়। সমস্যাটা কী, এটা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। যাই হোক কথা সেইটা না, কথা হলো এবার ঠিক করেছি বাবার পাঞ্জাবি আর পায়জামা না কিনে ওই দর্জি চাচার কাছে বানাতে দেবো। তারপর দেখবো কতদিনে পাঞ্জাবি পায়।

বাবার পাঞ্জাবি আর পায়জামার কাপড় কিনে আমি রেডি। বাবাও বেশ এক্সাইটেড। ওদিকে মা আর ভাই অপেক্ষায় আছে পরবর্তী দৃশ্য দেখবার। যথারীতি আমি দর্জি চাচার কাছে গিয়ে হাজির। উনি আমাকে দেখেই সুন্দর করে হাসি দিলেন আর বললেন, ‘এইবার কিন্তু একদম সময়মত জামা দিবো আর একদম ঠিকঠাক জামা।‘

মনে মনে বললাম, ‘আগে আমার বাপেরটা দিয়েন। এরপর বেঁচে থাকলে আমারটার কথা ভাবা যাবে।‘

 বাবা খুব খুশি হয়ে বললো, ‘এবার আমার পাঞ্জাবি আর পায়জামাটাও বানাতে হবে। পাঞ্জাবি কিন্তু ফিটিং হওয়া যাবে না আর পায়জামা যেন চুড়িদার না হয়। মেয়েদের পায়জামার মত লাগে।‘

দর্জি চাচা সব মাপ নিয়ে বাবাকে বললেন, ‘আরে আপনার যেই সুঠাম দেহ… এই দেহের পাঞ্জাবি বানানোও ভাগ্যের। আপনার পাঞ্জাবির একটা ছবিও রাখবো আমি বানানোর পর আর আপনি সাতদিন পর পাঞ্জাবি পাবেন। আমি মামনির কাছে পাঠায় দিবো।‘

দোকান থেকে বের হয় একটা বিজয়ীর হাসি দিয়ে বাবা বললো, ‘দেখলি, আমি যেখানেই যাই সেখানেই সব ঠিক হয়ে যায়।‘  

...

দেখতে দেখতে সাতদিন শেষ। বাবা খুব এক্সাইটেড তার পাঞ্জাবি আর পায়জামার জন্য। আমি ভার্সিটি গিয়েছিলাম সকালে। ক্লাস শেষ করে দেখি বিশটা মিসড কল। কল দিয়ে জানলাম, বাবা পাঞ্জাবি আনতে বলছে আমাকে। আমি বাবাকে উনার নাম্বার দিয়ে বললাম, ‘তুমি কথা বলো।‘

সন্ধ্যায় টিউশনি শেষ করে বাসায় গিয়ে দেখি বাবা আমাকে বলছে, ‘আরে ওর নাকি আরও দুইদিন লাগবে। পায়জামাটা করা বাকি আর পাঞ্জাবিতে বোতাম লাগাবে। আমার পাঞ্জাবি দিয়ে ও নিজের কাজের প্রমোশন করবে এজন্য দুইদিন লাগবে আরকি।‘

আমি শুধু বললাম, ‘আচ্ছা।‘

এদিকে দুইদিন গড়িয়ে আজ চারদিন। ভাগ্যিস রোজার শুরু থেকে দিয়েছিলাম নাহলে ইদের পরে ডেট দিতো। উনি উনার কারিগর দিয়ে পাঞ্জাবি আর পায়জামা বাসায় পাঠিয়েছেন। আমার রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছিলো। আমার জামা পাঠায় চান্দ রাতে আর বাবারটা এত আগে! এই ছিল মনে। বাবা খুব ভাবসাব নিয়ে বললো, ‘সবাই মানুষ চিনে বুঝলি। এই দেখ একই জায়গা অথচ দুইরকম প্রতিক্রিয়া। আমার মত হ, দেখবি দুনিয়াটা খুব সহজ।‘

আমি চোখ ছোট করে বাবাকে বললাম ট্রায়াল দিয়ে আসো। বাবা চলে গেলো পরতে। পাঁচ মিনিট পর রুম থেকে বাবা আজগর বলে চেঁচিয়ে উঠলো। দর্জি চাচার নাম আজগর কিন্তু কাহিনী কি? বাবার রুমে গিয়ে দেখি বাবা একটা শর্ট পাঞ্জাবি পরে দাঁড়িয়ে আছে, যেটার সাইডে কোমর পর্যন্ত কাটা। আর পায়জামাটা চুড়িদার। বাবাকে দেখে মনে হচ্ছে আমার কোনো কামিজ পরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি আর চুপ করে থাকতে না পেরে হাসতে হাসতে ফ্লোরে শুয়ে পড়লাম। এদিকে বাবা রাগে হন্তদন্ত হয়ে আমাকে ফ্লোর থেকে তুলে দর্জিবাড়ির দিকে ছুটলো। আরে অন্তত এই কামিজ তো খুলে যেতে পারতো। পুরো রাস্তার সবাই হাঁ করে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে। লজ্জায় আমার মাথাকাটা। মনে মনে শুধু এটাই বলছি, ‘খোদা তুমি মাটি দুইভাগ করো, আমি কিছুক্ষণ ওখানে যাই।‘

এদিকে দর্জিবাড়ির কাছে যেতেই দেখি আজগর চাচা ভেতর থেকে বের হয়ে দোকানের শাটার আধা টেনে দিলো ভৌঁ দৌড় আর সাথে সাথে পিছনে বাবা দৌড়াচ্ছে। আজগর চাচা দৌড়াচ্ছে আর বলছে, ‘শওকত ভাই বিশ্বাস করেন আমি অনেক ভালো পাঞ্জাবি বানাই। আমি জামাও ভালো বানাই। আপনি মামনিকে জিজ্ঞেস করেন?’

বাবা চেঁচিয়ে বললো, ‘তুই প্রতিটা ইদে আমার মেয়ে আর বউরে জ্বালাইছিস আর এবার আমাকে। আমি কামিজ পরবো? কামিজ? আর চুড়িদার কেনো বানালি?’

: শওকত ভাই আপনার সুঠাম দেহে চুড়িদার ভাল্লাগবে। আমার দশ বছরের অভিজ্ঞতা এটা বলে।

আমি চুপ করে দোকানের সামনে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। বাসা থেকে দ্রুত মা আর ভাই এসেছে। মা এটা দেখে বললো, ‘আমার পক্ষে এই লোকের সাথে সংসার করা আর সম্ভব না। ছি ছি ছি।‘

 হঠাৎ পাশের থেকে এক আন্টি বললো, ‘ভাই ধরতে পারলে আমার হয়ে দুইটা কিল মাইরেন। আমার তেত্রিশশো টাকার জামা পুরা নষ্ট করে দিছে। এখন আমি কী পরে ইদ করবো? আর আপা আপনি রাগ করবেন না। ভাইয়ের মত বিদ্রোহী মানুষ আজকাল হয় না। এমনই কোনো সুপুরুষকে খুঁজতেছি আমি আমার বোনের জন্য।‘

মা এদিকে রাগে কটমট করে আন্টিকে বললো, ‘এনাকেই নিয়ে যান। আমি তো আর সংসার করবো না এই বিদ্রোহী সুপুরুষের সাথে।‘

৫০২ পঠিত ... ১৪:০৯, মে ০২, ২০২২

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top