দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন সরকার। তারেক রহমান সবার আগে সময়মতো অফিসে এসে দেশবাসীকে অবাক করে দিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা সময় মতো অফিসে না আসলে নেওয়া হবে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।
এই ঘোষণায় বিপাকে পড়েছে অনেক সরকারি কর্মকর্তা। কারণ দীর্ঘদিন নিজেদের মনমতো অফিস করতে করতে তারা ভুলেই গেছেন, অফিসের সঠিক সময় আসলে কখন! আবার লজ্জায় তারা কাউকে জিজ্ঞেসও করতে পারছেন না। এমন অনেক সরকারি কর্মকর্তাই আছেন বিপাকে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিপাকে পড়া এসব কর্মকর্তাদের অনেকে এখন পুরোনো ডায়েরি বা ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে দেখার চেষ্টা করছেন কোথাও অফিসের সময়সূচি লেখা আছে কি না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ভাইরে, অফিসে যে সময়মতো ঢুকতে হয়, এই কনসেপ্টটাই তো আমাদের সিলেবাসে ছিল না! গত দশ-বারো বছর ধরে তো জানতাম সূর্য যখন মাথার ওপর আসবে, তখনই হাজিরা খাতায় সই করার শ্রেষ্ঠ সময়। এখন সকাল নয়টা মানে কী? এটা কি ঘুমের সময়, না কি অফিসের?
পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, অনেক কর্মকর্তা এখন তাদের স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। কোনো কোনো কর্মকর্তা তার ছোট সন্তানকে জিজ্ঞেস করছেন, বাবা, তোমার স্কুল কয়টায় শুরু হয়? অফিসের সময়ও কি স্কুলের মতোই সকাল সকাল হয়?
এদিকে সচিবালয়ের আশেপাশে একদল টাইম কনসালটেন্ট বা সময়-পরামর্শদাতার উদয় হয়েছে। তারা অর্থের বিনিময়ে বিভ্রান্ত কর্মকর্তাদের কানে কানে অফিসের সঠিক সময় মনে করিয়ে দিচ্ছেন। তবে সেখানেও সমস্যা; কারণ দীর্ঘদিনের অভ্যাসবশত সকাল ৯টা শুনলে অনেক কর্মকর্তারই অ্যালার্জির মতো চুলকানি শুরু হয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে মজার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের সামনে। মেশিনগুলো সচল হতেই অনেক কর্মকর্তা ভয়ে সেদিকে তাকাচ্ছেন না, যেন ওটা কোনো টাইম মেশিন, যা তাদের সরাসরি বরখাস্তের যুগে পাঠিয়ে দেবে। অফিসের পিয়নরা এখন সবচেয়ে ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছেন, কারণ তারাই একমাত্র ব্যক্তি, যারা জানেন আসলে ঠিক কখন গেটে তালা খোলে। কর্মকর্তাদের এই স্মৃতিভ্রম কাটাতে অনেকে পরামর্শ দিয়েছেন অফিসের দেয়ালে বড় বড় করে ‘অফিস টাইম: সকাল ৯টা’ লিখে রাখার জন্য। তবে তাতে কাজ হবে কি না, তা নিয়ে খোদ কর্মকর্তারাও সন্দিহান, কারণ তারা তো অফিসে আসতেই ভুলে যাচ্ছেন!


