রামু ভারত থেকে ভেগে বাংলাদেশে এসে চট্টগ্রামে এক ধনীর বাড়িতে চাকর হিসেবে একটা কাজ জুটিয়ে নিলো।
যেহেতু সে ঐখানে একটা ভেজাল করে এসেছে আর এই ধনী ব্যক্তি তাকে আশ্রয় দিয়েছে তাই সে শুরুতে বাড়ির মালিককে 'সাব' (সাহেব) বলে ডাকলেও, পরে চট্টগ্রামের ভাষায় 'অ বাপ' ডাকতে শুরু করে।
কাজের পাশাপাশি সে ভাষাটা শেখার টুকটাক চেষ্টাও করতে লাগলো। একদিন তাকে একটা লম্বা বড়সড় সাইজের দেশি মোরগ জবেহ করতে বলা হলো। সে আগে কখনো এই কাজ করেনি তাই বাড়ির দারোয়ান জিয়াউদ্দিনকে অনুরোধ করে বলল মুরগাটা জবেহ করে দিতে।
জিয়া বললো, মুরগা আবার খী জিনিস? সট্টগেরামে আমরা এটাখে রাতা বলতা হ্যেয়।
রাতা ক্যেয়া জিনিস ভাই?
রাতা মানে লাতাকুরো এরি ওডো। আমি এইসব কাম নেহি করতাহে। তু কর।
একটু পর বাড়ির মালিক এসে রামুকে উদ্দেশ্য করে চিল্লান দিয়ে বলো, কীরে সুদানির্ফুয়া, আইজু রাতা ইবে ন হাডোস? না-কি আঁল্লাই বই রইয়স? (কী রে, এখনো মোরগটা কাটিস নাই? না-কি আমার জন্য বসে আছিস?)
রামু কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে বাড়ির মালিকের সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল—
কাটু ক্যেয়সে রাতা, ও সাবরে
জিয়া নেহি যা তা, অ বাপরে!
রাতা লাম্বিয়া, লাম্বিয়া রে,
কাটে তেরে সাঙ্গেয়া সাঙ্গেয়া রে।



পাঠকের মন্তব্য