মঘা শাস্ত্রীয় দাওয়াখানার ডেট এক্সপায়ার্ড ওষুধ

৮৪ পঠিত ... ১৮:২০, জানুয়ারি ০৮, ২০২৬

আলিম ভাইয়ের আজ আর অফিসে যেতে ইচ্ছা করে না। মাথায় হাত দিয়ে বসে, বার বার একই কথা বলে, কী লাভ হলো আলোকিত মানুষের কারখানা করে! স্যারকে ডিরোজিও মেনে আমরা ঢাকায় বেঙ্গল রেনেসাঁ এনেছিলাম; এই কি তার ফলাফল!

বাড়ির সামনের বাগানে কয়েকটা বেড়াল কুকুরকে খাবার দেয়া শেষ হলে বেলী ভাবি বারান্দায় এসে দেখেন আলিম ভাই বুকে হাত দিয়ে থর থর করে কাঁপছে। এক গ্লাস পানি মুখে তুলে দিয়ে বলে, এতো ভাবছ কেন! তুমিও যখন প্রথম প্রথম গওহরডাঙ্গা থেকে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলে, তখন এত আলো-অন্ধকার বুঝতে না। 'ছ' উচ্চারণ ঠিক করতে ছয় মাস লেগেছিলো। কণ্ঠশীলনের ক্লাসে গুরুজি বলেছিলেন, প্রতিদিন 'ছ' দিয়ে ছয়শ শব্দ উচ্চারণ করবে; তারপর ঠিক হবে। এখনও তো তোমার 'ছ' ঠিক হয়নি।

আলিম ভাইয়ের শরীর খারাপের খবর শুনে লেখক অর্ঘ্য নোমান, ঋষভ জাফর, সামান্থা সিঁথি এসে পৌঁছে। অর্ঘ্য নোমানকে দেখে বেলী ভাবি আলিম ভাইকে বলে, এই নোমান তো মাদ্রাসায় পড়ত; কিন্তু এখন দেখো শান্তিনিকেতনে তীর্থে যায়; তাই দুঃশ্চিন্তা কোরো না; বয়স হলে বুঝতে শিখলে ওরাও একদিন আলোকিত মানুষ হয়ে উঠবে।

ঋষভ জাফর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলে, ভোটের শখ মিটে যাবে এদেশের লোকের। এটা কি হয় নাকি! আমারও একটা ভোট আবার রিক্সাওয়ালারও একটা ভোট; তাই হয় নাকি! গণতন্ত্র একটা ভুল ফর্মুলা।

সামান্থা সিঁথি ঠোঁট ঝুলিয়ে বলে, নুরূল কবির ভাই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এখন ভোট হলে শিবিরের ভরাডুবি ঘটবে। কিন্তু তা আর হলো কই!

আলিম ভাইয়ের বুকে আবার ব্যথা ওঠে। সবাই মিলে ধরাধরি করে তাকে বিছানায় শুইয়ে দেয়। বেলী ভাবি জিজ্ঞেস করে, খুব কি খারাপ লাগছে আলিম; চলো তোমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

আলিম ভাই না না করে, আর হাসপাতালে গিয়ে লাভ নেই। যে কটা দিন বেঁচে আছি, স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে বাঁচতে হবে।

আলিম ভাইয়ের চোখ গিয়ে পড়ে বুক শেলফের দিকে; মুজিব বর্ষে তার লেখা একুশটি গ্রন্থ দাঁত বের করে হাসছে যেন তার দিকে তাকিয়ে।

বেলী ভাবির ফোন পেয়ে মেয়ে অতন্দ্রিলা প্রিয়ংবদা গানের স্কুল থেকে দ্রুত ফিরে আসে, বাপ্পি বাপ্পি বলে বাবার বুকে আছড়ে পড়ে। আলিম ভাই বলে, কিছু হয়নি মা। তোমাদের স্কুলের খবর বলো!

: আজ আমরা 'সংকোচের বিহবলতা নিজেরে অপমান' গানটা গেয়েছি সবাই মিলে।

ঋষভ জাফর আক্ষেপ করে, বিএনপিকে পাকিস্তানপন্থী তকমা না দিয়ে বিরোধী দল হিসেবে সংসদে রাখা গেলে জামায়াত এমন প্রভাবশালী হয়ে উঠত না। ভুলটা হয়েছে আমাদেরই।

বেলী ভাবি ক্ষুব্ধ হয়, তখন তো আপনাদের মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল; ভেবেছিলেন, একশ বছরের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত পেয়েছে আওয়ামী লীগ।

ঋষভ উত্তর দেয়, এর আগের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তো ১৭৯৩ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। এবারের বন্দোবস্ত ১৫ বছরে ধসে যাবে তাতো কোনোদিন কল্পনাও করিনি!

বেলী ভাবি জিজ্ঞেস করে, সামান্থা, শিবির কি শুধুই হিজাবিদের ভোট পেয়েছে; নাকি অন্য মেয়েরাও তাদের ভোট দিয়েছে!

: কী আর বলবো ভাবি, ফ্যাশনেবল ড্রেস পরা মেয়েরা আজকাল ইনকিলাব মঞ্চে 'নারা এ তাকবির আল্লাহু আকবর' বলে শ্লোগান দেয়।

প্রিয়ংবদা বলে, মা ড্রেস তো ফ্রিডম অফ চয়েস। তোমরা যেভাবে কথা বলো, তা পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট। আমরা জেনজিরা তোমাদের মতো করে পৃথিবীকে দেখি না!

আলিম ভাই ছাদের দিকে উদাস চোখে তাকিয়ে বলে, কচি মনে বিশুদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতির বীজ পুঁতে দিতে মেয়েকে গানের স্কুলে পাঠালাম; অথচ তার সঙ্গে আজ আমাদের চিন্তার অমিল; আমরা বোধ হয় ডেট এক্সপায়ার্ড ওষুধের মতো পড়ে আছি মঘা শাস্ত্রীয় দাওয়াখানায়!

প্রিয়ংবদা বাবার মাথায় হাত দিয়ে সান্ত্বনা দেয়, ডোন্ট গেট মি রঙ বাপ্পি। যে দল যেমন পারফর্ম করবে, সে দল তেমন ইলেকশন রেজাল্টস পাবে। এই যে যারা ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু, জকসুতে ভোট পেয়ে জিতল; তারা ভালো পারফর্ম করলে এর পরেরবার জিতবে। খারাপ পারফর্ম করলে অন্য দল জিতবে। তোমরা যেমন মরলেও আওয়ামী লীগ বাঁচলেও আওয়ামী লীগ ধরনের অনড় পাথর; ঐ ব্যাপারটা আমাদের কাছে ফানি লাগে। একজন মানুষের জীবন এতটা পার্টিজান হতে পারে না বাপ্পি!

বেলী ভাবি মেয়ের ফেসবুক আইডিতে গিয়ে দেখে, সে গতকাল ফেলানি দিবসের পোস্টার শেয়ার করেছে। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মেয়েকে এসব পোস্ট দিতে মানা করতে গিয়েও আর করে না। মনের অজান্তে ফিস ফিস করে বলে, সংকোচের বিহবলতা নিজেরে অপমান।

৮৪ পঠিত ... ১৮:২০, জানুয়ারি ০৮, ২০২৬

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top