একটি ব্রেকাপ, কয়েকটি মহাজাগতিক পর্যবেক্ষণ এবং পাশের বাসার আন্টি

৩১১৭ পঠিত ... ১৫:৫২, মার্চ ০৮, ২০১৯

- তাহলে এই সম্পর্ক রাখা তোমার পক্ষে সম্ভব না??
- না।
- তুমি কি জানো কতটা ভয়ঙ্কর একটা কথা এটা??
- বিশ্বাস করো রাশেদ, আমি পারছি না। কোনোভাবেই আমাদের পরিবার আমাদের ব্যাপারটা মেনে নিতে পারবে না। আমাকে মাফ করে দাও প্লিজ। তুমি আমার চেয়ে বেটার কাউকে পাবা!
- পারবো না ইমা। তোমাকে কোনভাবেই ক্ষমা করা সম্ভব না। হয়তো বা তোমার চেয়ে বেটার কাউকে পাবো, কিন্তু তোমাকে পাবো না।

দুজনের কাছাকাছি থেকে পুরোটা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছিলেন বাংলাদেশ সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এদের উপর নজর রাখার দায়িত্ব তিনি অফিশিয়ালি পেয়েছিলেন। ইমা মেয়েটা হিন্দু, রাশেদ ছেলেটা মুসলমান। দুজনের পরিবারই প্রভাবশালী। এদের সম্পর্কের ব্যাপারটা জানাজানি হলে ভয়াবহ দাঙ্গা বেঁধে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কাজেই, তাদের ব্রেকাপে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন তিনি।

একই ঘটনা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে রেখেছে যুক্তরাষ্টের পেন্টাগনের কর্মকর্তারাও। দুটো পরিবারের কারণে দাঙ্গা বাঁধলে বাংলাদেশ সরকার তাদের দেশের স্মরনকালের ভয়াবহ দাঙ্গা ঠেকাতে পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে যাবে। অথচ কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বিশাল অঙ্কের একটা সামরিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একটা দাঙ্গার জন্য সেটা পিছিয়ে পড়ার রিস্ক তারা নিতে পারেন না। ব্রেকাপটা তাদের জন্যও স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ওদিকে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদেরকে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণের চোখে রেখেছে বৃহস্পতি গ্রহের একদল প্রাণি। তারা নিজেদেরকে পরিচয় দেয় 'চৌখামি' নামে। যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশে অস্ত্র সাপ্লাই না দেয়, তাহলে সেই অস্ত্র বিক্রি করা হবে আফ্রিকার বিদ্রোহী দলগুলোর কাছে। তারা সেটা হতে দিতে পারে না। পৃথিবী থেকে আসা আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশ্লেষণ করে চৌখামিরা এক বিশেষ ধরনের খনিজের সন্ধান পেয়েছে, যা শুধুমাত্র আফ্রিকা মহাদেশেই পাওয়া যায়। বিদ্রোহীদের হাতে অস্ত্র গেলে যেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তাতে চুপচাপ লুকিয়ে খনিজ উঠিয়ে আনা সম্ভব হবে না। এই খনিজ কিছুদিন পরেই চৌখামিদের টিকে থাকার প্রধান উপাদান হবে। কাজেই, ব্রেকাপটা তাদের জন্যও স্বস্তি এনে দিয়েছে।

অলংকরণ: সালমান সাকিব শাহরিয়ার

ওদিকে সৌরজগতের বৃহস্পতি গ্রহের চৌখামিদের কে নিজেদের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণে রেখেছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি শাসন করা একদল বিশেষ প্রাণি। এরা নিজেদেরকে 'মামচিকু' বলে পরিচয় দেয়। এরা অপেক্ষায় আছে চৌখামিরা পৃথিবী থেকে খনিজ এনে নিজেদের সভ্যতাকে আরেকটু উন্নত করতে পারলে তারা চৌখামিদের গোলাম বানিয়ে সৌরজগতের শাসনভার নিজেদের হাতে নেবে। পৃথিবীর দাঙ্গার জন্য যদি চৌখামিরা খনিজ না পায়, তাহলে তারা সৌরজগতের মালিকানা পাবে না। কাজেই, ব্রেকাপটা তাদের জন্যও স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ওদিকে 'মামচিকু'দের উপর নিজেদের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ রেখেছে এন্ড্রোমিডা নক্ষত্রপুঞ্জের বুদ্ধিমান একদল প্রাণি। এরা নিজেদের 'মহাজাগতিক কিউরেটর' বলে পরিচয় দেয়। রাশেদ আর ইমার ঘটনাটা তাদের জন্যও উদ্বেগের। এদের দুজনের DNA তে বিশেষ কিছু উপাদান আছে, এদের যদি কোন সন্তান হয়, তাহলে সেই সন্তান অবিশ্বাস্য কিছু ক্ষমতা নিয়ে জন্মাবে, যেটা এমনকি মহাবিশ্বের ব্যালেন্স নষ্ট করে ফেলার ক্ষমতা রাখে। কাজেই, ব্রেকাপটা তাদের জন্যও স্বস্তি এনে দিয়েছে।

এদিকে এন্ড্রোমিডা নক্ষত্রপুঞ্জের 'মহাজাগতিক কিউরেটর'দের উপরে তীক্ষ্ণ নজর রাখছিলো আরেকদল প্রাণি। পৃথিবীর মানুষ এদের চেনে 'পাশের বাসার আন্টি' নামে। কিউরেটরদের উপর নজরদারীর মাধ্যমে দুজনের ব্রেকাপের সংবাদ পেয়ে দুজন ভদ্রমহিলা রাশেদ এবং ইমার মায়ের কানের কাছে যেয়ে চিৎকার করে বলে উঠলেন, 'ভাবিইইইইইই........!'

৩১১৭ পঠিত ... ১৫:৫২, মার্চ ০৮, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top