কমেন্ট বক্সে এত আতঙ্ক কীসের!  

৩১ পঠিত ০ ... ১৩ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে

গভীর স্যাডনেস ও অ্যাংজাইটি নিয়ে খেয়াল করছি। ডিজিটাল দুনিয়ায় আমজনতার কমেন্ট করার অধিকার সংকটে। সচেতন নাগরিক হিসেবে তাই আঙুল তুলতেই হলো! কমেন্ট বক্সের কন্টিনিউয়াস প্যানিক নিয়ে চুপ থাকা অসম্ভব!

কাজেই, ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা থেকে সোজা আঙুল তুলছি—

১. আমি অভিযুক্ত করছি সেই ‘পাওয়ারফুল এডমিনদের’—

তারা মনে করেন দেশের ভাবমূর্তি অত্যন্ত ডেলিকেট! একেবারেই টিস্যু পেপারের মতো সুক্ষ্ম ও নরম! নাগরিকের টু-লাইন ক্রিটিসিজমে নাকি সিস্টেম ড্যামেজড হয়! একটা স্পাইসি মিমেও নাকি আবেগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়! হাউ উইয়ার্ড!

২. আমি অভিযুক্ত করছি সেই অনলাইন ওয়াচডগদের—

যেকোনো লজিক্যাল পোস্ট দেখলেই কমেন্ট বক্সে স্প্যামিং! সবাইকে ‘সিস্টেম অ্যান্টি’ আর ‘এজент’ ট্যাগ মারা কাজ! ডিএম-এ থ্রেট দেওয়া তাঁদের মূল দায়িত্ব! অথরিটিকে ট্যাগিয়ে চরম লয়াল প্রুফ করেন তাঁরা! ব্রো, গেট আ লাইফ!

৩. আমি অভিযুক্ত করছি সেলফ-সেন্সরশিপ আর প্যানিককে—

ব্রেইনিয়াকদের সাধারণ পোস্টও পাঁচবার রি-চেক করতে হয়! যে প্যানিক আমাদের প্রতিদিন নতুন পথ শেখায়! কথাটা সোজা বাংলায় বলব নাকি ইমোজি মারব? নাকি রূপক অর্থে রূপকথা বলব আমরা? দিনশেষে ড্রাফটে ফেলিয়া রাখাকেই সেফেস্ট মনে করায়!

৪. আমি অভিযুক্ত করছি সাইবার আইনের কনফিউজিং সেকশনকে—

‘অফেন্ড হওয়া’ শব্দটার ডেফিনিশন নাকি খুবই সেনসিটিভ! অফিসিয়ালের কাজের ফেইলিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুললেই নোটিশ! লিগ্যাল নোটিশ এসে দরজার বাইরে ঝুলে পড়ে! অথচ আসল সাইবার ক্রাইমাররা সিক্স প্যাক দেখায়! অনলাইনের ফেক আইডিগুলো চিল মেরে ঘুরে বেড়ায়! হোয়াট আ জোক!

৫. আমি অভিযুক্ত করছি কমেন্ট বক্সের ফোমো-ভয়কে—

তাই নেটিজেনরা ফেসবুকে ক্যাট ভিডিও শেয়ার করে! এখন কেবল ফুড ব্লগিং আর ট্রাভেল রিলস সেফ! সামাজিক ইস্যুতে রিঅ্যাক্ট দেওয়া মারাত্মক রিস্কি ব্যাপার! এখন যেন পাবজিগ্রাউন্ডে উইদাউট গ্লক দৌড়ানোর মতো রিস্ক!

আউট্রো ও ফাইনাল ওয়ার্নিং:

ওপেন পোস্টটা ড্রপ করলেই ইনবক্সে ওয়ার্নিং আসবে। কমেন্ট বক্সে ট্রল ট্রুপসের তীব্র অ্যাটাক হবে। কঠোরভাবে আইপি ট্র্যাক করার ট্রাই চালানো হবে।

স্টিল, লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার জানিয়ে দিতে চাই! সত্য প্রকাশের জন্য অফলাইনে চলে যাওয়াও কমপ্লিটলি ওকে! ভাবমূর্তি একটা ‘হা-হা’ রিয়্যাক্টে ক্র্যাশ করে না। ক্র্যাশ করে পাওয়ার প্র্যাকটিসে সত্য গোপনের চেষ্টায়!

আমি আমার কাজিয়া এখানেই শেষ করলাম। এবার আইন আর অ্যালগরিদম দিয়ে ব্যান মারুন!

ইতি,

একজন ট্রমাটাইজড কিন্তু ফুল মোডের কি-বোর্ড ওয়ারিয়র

(যিনি পোস্টের আগেই ফাইল ক্লাউডে ব্যাকআপ রেখেছেন! সো নো প্যারা!)

(এমিল জোলার ‘J’accuse…!’ খোলা চিঠির অনুপ্রেরণায়)

৩১ পঠিত ০ ... ১৩ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top ​