সার্জিও আলগোর গম্ভীর মুখে বলেন, কবি ফরহাদ মজহার আমাদের সেফ হাউস আবিষ্কার করে ফেলেছেন। এতে আমাদের কাভার ব্লো আপ হয়ে গেছে। এখানে আপনাদের সেফ হাউসগুলো বরং কালচারাল হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আপনাদের কাভারটাই এখানে কালচার। তাই আপনারা তোলাবাজি করলেই ভালো। আমরা এখন থেকে বরিশালের পেয়ারা বাগানে ঘুরব; সেলফি তুলব। আপনারা ঢাকার পেয়ারা বাগানের দেখভাল করুন।
গণেশ ত্রিবেদী হেসে বলেন, আপনারা দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছেন তাহলে। এ আপনাদের কম্মো নয়। আপনারা ঘোরেন এজেন্ডা নিয়ে; আর আমরা ঘুরি ভেজেন্ডা নিয়ে।
গোরা মুচকি হেসে বলেন, ভেজেন্ডাতে এখন আপনারা আর ইজরায়েলই সেরা। রাশিয়া তার ভেজেন্ডা ঐতিহ্য হারিয়েছে।
—আসলে ব্রিটিশ আমল থেকেই আমরা লক্ষ্য করেছি, এ জনপদের লোকের একটু টাকাপয়সা হলেই তখন মৌরালা মাছের ঝোল আর যুবতী নারীর কোল ভালো লাগে। ফলে এজেন্ডার চেয়ে ভেজেন্ডাই এখানে বেশি কার্যকর।
—সত্যি, আমরা এত হাইটেক হয়েও সফল হতে পারি না। আর আপনারা কেবল একটা ক্যামেরা দিয়ে সাফল্য পান।
—আপনারা ওপেনহাইমারকে দিয়ে পারমাণবিক বোমা বানিয়েছেন। আর আমরা মল্লনাগ বাৎস্যায়নকে দিয়ে এমন পরনারী বোমা বানিয়েছি, যা দিয়ে অনায়াসে পাওয়ার করিডোরকে বশ করা যায়।
—তাই তো দেখি। সরকার যে-ই হোক; পাওয়ার করিডোরের কিছু লোক ঠিকই আপনাদের জালে ধরা দেয়।
—আমরা জানি কী করে টোপ ফেলতে হয়; আর মাছ এসে টোপ গিললে কী করে তাকে শিকার করা যায়। ফলে অস্ত্রাগার প্রয়োজন হয় না; আমরা ভিডিও লাইব্রেরি গড়ে তুলি। একটা করে ভিডিও দেখাই আর আমাদের ভেজেন্ডা বাস্তবায়ন করি।
—আচ্ছা, আমাদের Fringe টিভি সিরিজে যে হাইব্রিড শেইপ শিফটারের কনসেপ্ট; ওই যে প্যারালাল ইউনিভার্সের হাইব্রিড এসে এই ইউনিভার্সের যে-কোনো মানুষের চেহারা ধারণ করতে পারে; কোনো রকম টেকনোলজি ব্যবহার না করে ওই রকম শেইপ শিফটার এই জনপদে তৈরি হয় কীভাবে, যারা সবসময় ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক হিসেবে শেইপ শিফটিং করতে পারে!
—আমি নিজেই তো শেইপ শিফটার। কংগ্রেস থেকে বিজেপির আকার ধারণ করেছি। এটা খুব সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়ার লোকের ইন-বিল্ট কোয়ালিটি। বাংলাদেশের রাজনীতিক তো বটেই; এমনকি ইউটিউবারদের মাঝেও এমন শেইপ শিফটার রয়েছে। এরা আজ এনসিপি, তো কাল জামায়াত আর পরশু বিএনপি। অথচ নাড়ি পোঁতা আছে বামপন্থী উঠোনে। পশ্চিমবঙ্গেও দেখুন, গতকাল বামপন্থী তো আজ রামপন্থী। গতকাল তৃণমূল, তো আজ ভালো তৃণমূল আর আগামীকাল বিজেপি।
—যে কবি আমাদের কাভার ব্লো আপ করেছেন; উনি তো মনে হলো সকাল-বিকেল শেইপ শিফটিং করেন।
গোরা সাহেবের সঙ্গে গণেশ বাবুর বৈঠক হয়েছে—এই খবরটা শোনার পর ইউটিউবে নাইস অ্যান্ড অ্যাট্রাক্টিভ হীরা-চুনি-পান্নার ডিসেম্বর থ্রম্বোসিস রোগটা আরও তীব্রতর হয়। এইবার এইবার বুবু চোখ খুলল, আলসে নয়, সে ওঠে রোজ সকালে গেয়ে—দৈনিক হিরোশিমা ও ডেইলি নাগাসাকি দুটি রিকনসিলিয়েশন বিষয়ক উপসম্পাদকীয় লিখিয়ে ফেলে ডক্টোরাল ফেলোদের দিয়ে।
কেন মায়ানমারের মাঝ দিয়ে চীনের সঙ্গে ট্রানজিট ভালো নয়—কেন অখণ্ড ভারতের বগলটাই নিরাপদ—এ নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিকেরা নেহারি খেয়ে টকশোতে লেগে পড়ে।
তুরাগ জৈন উড়ে আসেন ভেজেন্ডা নিয়ে। ওয়ার্কশপে নতুন আশার আলো নিয়ে পৌঁছে যায় ডিসেম্বর থ্রম্বোসিসের রোগীরা। উপসম্পাদকীয়, টকশো, ইউটিউব, ফেসবুক স্ট্যাটাস, কালচার ও হানিট্র্যাপ ক্যাটাগরিতে সেরাদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন তুরাগ বাবু।
হানি ট্র্যাপারদের পুরস্কার দিতে গিয়ে তুরাগ বাবুর চক্ষু চড়কগাছ। লাস্য, ছলনা, ষোলো শৃঙ্গার বাদ দিয়ে সবাই শেইপ শিফটিং করে চোখে চশমা পরে এক একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে উদয় হয়েছে। টিভি টকশো ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাচ্ছে তারা।
তুরাগ বাবু বিস্ফারিত চোখে বলেন, আমাদের ওখানে একজন অরুন্ধতী রায় তৈরি হতে অর্ধশতক লেগে যায়। আর এখানে তো দেখছি, শেইপ শিফটিং করলেই বুদ্ধিজীবী হওয়া যায়।



পাঠকের মন্তব্য