যেভাবে মাথা ঠান্ডা রাখবেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জন্য অবশ্যপাঠ্য

১১০ পঠিত ... ১৫:১২, আগস্ট ০৬, ২০২৬

 

বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে, লোডশেডিং বেড়েছে, অভিযোগও বেড়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি গরম এখন আবহাওয়ায় নয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাথায়! তাই জনস্বার্থে নয়, আজ মন্ত্রণালয়ের স্বার্থেই রইল মাথা ঠান্ডা রাখার কিছু অব্যর্থ টিপস।

বিদ্যুৎ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জন্য অবশ্যপাঠ্য

পৃথিবীতে কত কিছুই না ঘটে! কোনোটা ভালো, কোনোটা দুর্ঘটনা। কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে সে-ই টিকে যায়, যে এসব ধৈর্য ধরে হজম করতে পারে, রাখতে পারে মাথা ঠান্ডা!

কিন্তু মাথা কি আর বললেই ঠান্ডা রাখা যায়? এই যে সারাদেশে সবাই নামে-বেনামে শুধু বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সুর তুলে অভিযোগ করেই যাচ্ছে। এই বাড়তি চাপে, বাড়তি টেনশনে মাথা ঠান্ডা রাখতে মোটামুটি হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়!

জনস্বার্থে দুঃখিত, মন্ত্রণালয়ের স্বার্থে কিছু মাথা ঠান্ডা রাখার টিপস দেওয়া হলো। মানা না-মানা আপনাদের ইচ্ছা!

বেশি বেশি বিদ্যুৎ অফ করা

জনগণের এই উৎপাত বন্ধ করতে লোডশেডিংয়ের হার বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে, তবে ছন্দে ছন্দে।

এই ধরুন, টানা তিন ঘণ্টা লোডশেডিং। বাসার পানি নেই, ফ্রিজের জিনিসপত্রের দুর্বল অবস্থা। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে এল! সবাই দৌড়ে কাজ শুরু করতে যাবে, তখনই আবার বিদ্যুৎ অফ করে দেওয়া... জনগণ বুঝুক, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে হাংকিপাংকি করার মজা!

অবরুদ্ধ জীবন ইনজয় করা

প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস অবরুদ্ধ করে ফেলছে জনগণ! এমন অন্যায় কি মেনে নেওয়া সম্ভব? নো। তাই আজই খাট, সোফা, টিভি, চুলা ও পরিবার নিয়ে অফিসেই ঘর-সংসার পাতুন। অবরুদ্ধ জীবন রুদ্ধদ্বারে উপভোগ করুন।

জ্বালাময়ী স্ট্যাটাস

বিশ্বাস করুন কিংবা না করুন, লিখে ফেললে মন হালকা হয়। জনগণের অভিযোগের তীক্ষ্ণ তীর মুহুর্মুহু বিঁধলে বাংলাদেশের সব ফেসবুক ব্যবহারকারীকে ট্যাগ করে পোস্ট দিন—‘#দেখে_নেবো_তোদের!’

কিংবা—
আমি বলে তোদের বিদ্যুৎ দিয়ে গেলাম!

বিদ্যুৎ অফ করিনি, হয়ে গেছে

মনে করুন সেই বিখ্যাত উক্তি, তুমি যাহা রচিবে তাহাই সত্য, ঘটে যাহা তাহা সব সত্য নয়।

একটা অফিসিয়াল বিবৃতি দিন—বিদ্যুৎ আমরা অফ করি না, অফ হয়ে যায়। আমাদের দেশে বিদ্যুৎ স্বতন্ত্র হয়ে গেছে। নিজে নিজেই অন-অফ হয়। জি, এটাই সায়েন্স!

সব কথার শেষ কথা, জীবনে চলতে গেলে সাধারণ জনগণের বহু কথা শুনতে হয়, সহ্যও করতে হয় অত্যাচার। সামান্য একটু বিদ্যুৎই তো, একটু অন্ধকারই তো, একটু গরম সহ্য করা কিংবা না-ওয়া-খাওয়াই তো! কিন্তু দেশের জনগণ সেটাও অ্যাডজাস্ট করতে না পারলে সেই দায়ভার আপনাদের নয়, জনগণের! আপনারা শুধু মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করে যান।

 

১১০ পঠিত ... ১৫:১২, আগস্ট ০৬, ২০২৬

Top