বাসায় গ্যাস নাই। শুধু আপনার না, কারোরই নাই। পাশের বাসার ভাবীর নাই, অফিসের বসের বাসায় নাই, ফেসবুকে যাকে স্টক করেন, তার বাসাতেও নাই। মানুষ খুব বিরক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুন ঝরছে। চায়ের দোকানে উঠছে ঝড়।
অথচ, গ্যাস না থাকার কিছু উপকারিতাও আছে। মানুষ এমনই অকৃতজ্ঞ, এগুলো নিয়ে কেউ কথা বলছে না। তাই, আজ কথা বলল eআরকি। জেনে নিন, গ্যাস না থাকার সেই উপকারিতাগুলো।
১) বাসায় গ্যাস না থাকায় আপনি প্রচুর পরিমাণে জেলি, পাউরুটি, চানাচুর, বিস্কিট, বাটারবন খাবেন। সমৃদ্ধি ঘটবে দেশীয় বেকারি কোম্পানির।
২) দুপুরের খাবার খাবেন লোকাল রেস্টুরেন্টে। বা, একদিন মুখ বদলাতে চলে যাবেন স্টার কাবাব, কিংবা চান্দা হোটেলে। রেস্টুরেন্টগুলোর ব্যবসাও হয়ে উঠবে চনমনে।
৩) রেস্টুরেন্টে যেতে উঠবেন রিকশা, সিএনজিতে। মাঝেমধ্যে বাসে, মেট্রোরেলে। যানবাহন শিল্পে আসবে রেনেসাঁ যুগ। আসবে প্রচুর বিনিয়োগ। ছে-মেয়েরা বড় হয়ে স্বপ্ন দেখবে, একদিন আমারও একটা সিএনজি হবে।
৪) রেস্টুরেন্টে গেলে মোবাইলটা তো শুধু পকেটে থাকবে না। সেখান থেকে বের হয়ে সে তুলবে অনেক অনেক। সেগুলো ফেসবুক, ইনস্টা, স্ন্যাপচ্যাটে আপ হবে। ছরাবে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মেলা।
৫) অবিরাম শিঙাড়া, সমুচা, চটপটি খেয়ে পেটে জমবে গ্যাস। সেই গ্যাস কাজে লাগানোর জন্য কোনো দেশীয় বিজ্ঞানী বের করবে কোন অভাবনীয় আইডিয়া। তাতে গ্যাসের সমস্যা আবার কমে আসবে।
৬) গ্যাসের চুলা থেকে আমরা আবার ফিরে যাব লাকড়ির চুলায়। অফিস থেকে ঘরে ফিরে দেখবে লাকড়ির চুলায় পরম মমতায় রান্না করা হয়েছে ভাত-তরকারি। আবার আমরা ফিরে পাবো সেই হারানো স্বাদ।
৭) গ্যাস না থাকায় রান্না হবে ইলেক্ট্রিক চুলায়। ভুতুড়ে বিলের সাথে আরও যোগ হবে রান্নার চুলার ইলেক্ট্রিক বিল। সেই বিলে লাল লাল হবে বিদ্যুত অফিস। মানে সরকারি খাত। সরকারের উন্নয়ন মানেই আমাদের উন্নয়ন!
৮) গ্যাস নাই, গ্যাস নিয়ে অ্যাক্সিডেন্টের ভয়ও নাই। গ্যাস লিকেজ হবে না, গ্যাসের পাইপ ফুটা হবে না, গ্যাসের চুলা বার্স্ট হবে না, কাজের লোক অজুহাত দিতে পারবে না—খালাম্মা, গ্যাসের প্রেশার কম আছিলো দেইখ্যা কাইল আইতে পারি নাই।
খালি শান্তি আর শান্তি।
৯) গ্যাস না থাকায় প্রেমিকার হাতের খাবার টিফিন বক্সে আসবে অবিরাম। কোনোদিন ম্যাগি নুডিলস, কোনদিন চালের রুটির সাথে হাঁসের মাংস। তবে প্রশংসায় বেচাল হলে সাবধান। খাবার আসা বন্ধ হয়ে যাবে!
১০) দেশে গ্যাস নাই, বিদ্যুতের বিল ভুতুড়ে। জ্বালানির কোনো বালাই নাই। যেহেতু বালাই নাই, তাই বিদ্যুতমন্ত্রীরও দরকার নাই। আমরা আরামে কয়লার আগুনে কাবাব খেয়ে ফুলের ওপর ঘুমিয়ে পড়ব, ফুলের মধু খেয়ে।
কী আছে আর দুনিয়ায়!


